এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > নোয়াপাড়ায় বিজেপির প্রার্থীবদল মুকুল রায় নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলে দিল রাজ্য-রাজনীতিতে

নোয়াপাড়ায় বিজেপির প্রার্থীবদল মুকুল রায় নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলে দিল রাজ্য-রাজনীতিতে



এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির পরিমণ্ডলে নোয়াপাড়ার উপনির্বাচন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই উপনির্বাচনকে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলই ‘পাখির চোখ’ করে রেখেছে। কোনো দল তার অস্তিত্বের জন্য প্রানপন লড়ছে, কোনো দল জেতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই জেতার জন্য শুরু হয়েছে নানা ধরণের কূটকৌশল। কেউ দেখাচ্ছে উন্নয়নের পর্দা, কেউ বা প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার চিরকেলে মোহময় স্বপ্নকে হাতিয়ার করে এগোতে চাইছে।

কিছু দিন আগেই নোয়াপাড়া উপনির্বাচনে বিজেপির পক্ষ থেকে নব্য বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের হাত ধরে মঞ্জু বসুকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। কথিত আছে মঞ্জু বসু চির দিনই মুকুল বাবুর ঘনিষ্ট। তিনি এই নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু এই উপনির্বাচনে শাসকদলের টিকিট না পেয়ে অন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই মঞ্জু বসু নিজের দলের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ চেপে রাখেননি। আর তাতে করে যেন মুকুল রায় নোয়াপাড়ায় ‘কিছু করে দেখানোর’ নতুন অস্ত্র পেয়ে গিয়েছিলেন হাতে, অনেক গোপন শলা-পরামর্শের পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্বের তরফে তাঁর নাম ঘোষণা হয়ে যায় নোয়াপাড়ায় বিজেপির প্রার্থী হিসাবে। কিন্তু হঠাৎই যেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মঞ্জু বসু ১৮০ ডিগ্রী বেঁকে বসলেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতি তাঁর আস্থা অটুট আছে, মমতা ব্যানার্জিই তাঁর নেত্রী, সুতরাং তিনি বিজেপির হয়ে নির্বাচন লড়বেন কি লড়বেন না উপস্থিত সাংবাদিকরা নিজেরাই তা বুঝে নিক।

এই ঘটনা বাংলা তথা জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে। বঙ্গ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে উঠে আসছে একগুচ্ছ প্রশ্ন –

তাহলে কি রাজ্য বিজেপি র মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ক্রমশ বর্ধমান?
মুকুল রায় কি বিজেপিতে কোণঠাসা?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে এ বিষয়টি ভাবনার এক নতুন মাত্রা পাবে সে নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকে না। বিজেপির পক্ষ থেকে জানা গেছে, মঞ্জু বসুর পরিবর্তে নোয়াপাড়ায় তাঁদের তরফে প্রার্থী হচ্ছেন সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থী পতিবর্তনের কারণ বিশ্লেষণে বিজেপির পক্ষ থেকে মুকুলবাবু শাসক দলের দিকে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল তাঁদের প্রার্থীকে ভয় দেখিয়ে প্রার্থীপদ ছাড়তে বাধ্য করেছে। উল্লেখ্য শাসক দলের পক্ষ থেকে মুকুল বাবুর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করা হয়েছে। বরং শাসকদলের বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় নেতা-নেত্রী বুঝিয়ে দিচ্ছেন এই ঘটনাটি আদতে বিজেপির মধ্যে মুকুল রায়ের প্রভাবে যে ধ্বস নামতে শুরু করেছে, তারই বহিঃপ্রকাশ। যাইহোক মুকুল রায় ঘনিষ্ট মঞ্জু বসুর মুখে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির স্তুতি বাক্য এবং প্রার্থী হতে না চাওয়া যে মুকুল রায় তথা বিজেপিকে উপনির্বাচনের আগেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিল সে নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আব্দুল আলীম শেখ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক

** এই লেখায় প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণরূপে লেখকের নিজস্ব, প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার কোনো মতামত নয়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!