এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > পুরসভার প্রাক্কালে একেবারে কর্পোরেট ধাঁচে সভা শাসক দলের, বিতর্ক দলের অন্দরেই

পুরসভার প্রাক্কালে একেবারে কর্পোরেট ধাঁচে সভা শাসক দলের, বিতর্ক দলের অন্দরেই



দলের কাজে এগিয়ে আসার জন্য এবার শুধু স্লোগান নয়, সরাসরি কর্পোরেট ধাঁচে দল তৈরি করতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার মুখ্যমন্ত্রীর সভা পুরোপুরি কর্পোরেট ধাঁচে হতে চলেছে। তবে এবার তৃণমূল নেত্রী সিএএ বিরোধী আন্দোলনে যে দাবি করছিলেন, কাগজ না দেখানোর। এবার তার সভাতেই কাগজ না দেখাতে পারলে ঢুকতে পারবেন না দলের নেতাকর্মীরা। আগামী 10 মাস নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরভোটের প্রস্তুতি সভায় আইডেন্টিটি কার্ড না নিয়ে গেলে ঢুকতে পারবেন না দলের নেতাকর্মীরা। সে কথা স্পষ্ট লেখা আছে কার্ডের ওপরে।

আগামী দোসরা মার্চ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের বর্ধিত কমিটির সভা হবে বলে জানা গেছে। সেই সভায় আমন্ত্রিতদের পরিচয়পত্রে এবার রয়েছে নতুনত্বের ছোঁয়া। বিমানের বোর্ডিং পাস ধরনের এই আমন্ত্রণপত্র তৈরি করা হয়েছে। এই সভায় আগামীদিনের পুরসভা তথা এরপর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে। এই সভাতে উপস্থিত থাকবেন পুরসভা, বিধানসভা, লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রতিনিধিবৃন্দ। জানা গেছে, উক্ত সভায় প্রাক্তন সাংসদরাও আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন।

জানা যাচ্ছে, উক্ত পরিচয়পত্রে একটি বারকোড থাকবে যে বারকোডটি স্ক্যান করলে তবেই দোসরা মার্চ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ঢোকার প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, ‘আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই প্রবল চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে চলেছে। দল এবং দলীয় কর্মসূচি নিয়ে পদাধিকারী নেতা ও কর্মীদের উপর আরও দায়িত্ববোধ আরোপ করা দরকার।’  এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘দলনেত্রীর ছবি-সহ এমন পরিচয় পত্র তৈরি করে দিলে যেকোনও পদাধিকারীর এটা মনে হতে বাধ্য যে দল তাঁকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। তার ফলে ওই কর্মী বা নেতাও গুরুত্ব দিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করবে। সেই সঙ্গে ওই নেতারও ব্যক্তিগত পরিচিতি বাড়বে। সর্বোপরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও নাম সর্বক্ষণের জন্য ওই ব্যক্তির ঘরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।’

যদিও তৃণমূল শিবিরের এই নতুন কর্মকান্ডের ফলে ইতিমধ্যে দলের অন্দরেই প্রশ্নের সূত্রপাত হয়েছে। তৃণমূল শিবিরের অনেকেরই প্রশ্ন, এতদিন পর্যন্ত যাঁরা তৃণমূলের দলীয় সভায় যোগদান করতেন। তাঁরা এবার আমন্ত্রিতদের তালিকায় না থাকার জন্য এবং এই পরিচয়পত্র না থাকার জন্য সভাগৃহে প্রবেশ করতে পারবেননা। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে যাঁরা আগে আসতেন কিন্তু এবারে আসতে পারবেন না তাঁদের কি হবে। অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্ব এর পক্ষ থেকে জানা গেছে, এতদিন পর্যন্ত যেসব সভা হয়েছে সেখানে দেখা গেছে দলীয় শিবির এর থেকে বেশি বাইরের লোক থাকতো তাই এবার শুধুমাত্র নির্দিষ্ট করে তাঁদেরকেই আসতে বলা হয়েছে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

যাঁরা দলের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। সূত্রের খবর, এই কর্পোরেট ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই দলনেত্রীর সামনে বেশ কিছু ছবি পরিস্কার হয়ে যাবে। দলীয় অনুশাসন মেনে কারা দলের সঙ্গে থাকবেন তা বোঝা যাবে এই সভা থেকে। অন্যদিকে বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই প্রথম নেতাজি ইন্ডোরে দলীয় সভায় আসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে যা 14000 এ গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলে অনুমান। দাবি করা হয়েছে দলনেত্রীর সামনে এলাকাভিত্তিক প্রতিনিধিদের বসার সুযোগ করে দেওয়া হবে।

ইতিমধ্যে হুগলি জেলা থেকে উক্ত সবার জন্য পরিচয় পত্র বিলি হওয়া শুরু হয়েছে। গত মঙ্গল ও বুধবার কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় এই পরিচয় পত্র বিলি করে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এই মাসের শেষের মধ্যে রাজ্যের বাকি অংশের দলীয় আমন্ত্রিত পদাধিকারীদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে, এদিন তৃণমূলের এক বৈঠক হয় কলকাতার তেরাপন্থ ভবনে। এই বৈঠকে হাজির ছিলেন ফিরহাদ হাকিম সহ দক্ষিণ কলকাতার মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক সহ যুব সংগঠনের পদাধিকারীরা।

এই বৈঠকে যুব সংগঠনের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আগামী দোসরা মার্চ এর সভার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন। আর কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যে হতে চলেছে পুরসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম গত 10 বছরের তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের হাতিয়ারকে অবলম্বন করে লড়াইতে নামার বার্তা দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, আগামী দিনে কলকাতা পুরসভার দলের মুখ কে হবেন, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, পুরো ভোটের প্রাক্কালে কেন দলে হঠাৎ কর্পোরেট কালচার আমদানি করল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব? জানা গিয়েছে, এর আগেও একাধিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নিয়ম মেনে দলে থাকার জন্য। এবার দলের নেতাকর্মীদের আরও সংঘবদ্ধ করতেই কর্পোরেট স্টাইলে সভা করার সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। অন্যদিকে অনেকে আবার বলছেন, যাঁদের কাছে কার্ড পৌঁছেছে, পুরভোটের দায়িত্ব বর্তাবে তাঁদের ওপরই। এইসব মিলিয়ে কার্ড নিয়ে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরেই। আপাতত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!