এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > পুরনো কর্মীদের নিয়ে সম্মেলনেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অব্যাহত!

পুরনো কর্মীদের নিয়ে সম্মেলনেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অব্যাহত!



পুরনো দিনে যারা লড়াই করে দলকে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তাদের আর সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে প্রশান্ত কিশোর দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং তৃণমূলের মেগা কর্মসূচি “বাংলার গর্ব মমতা” লঞ্চ হওয়ার পর সেই পুরনো নেতাকর্মীদের সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয়েছে স্বীকৃতি সম্মেলনের। যার মূল উদ্দেশ্য যেমন পুরোনোদের সম্মান দেওয়া, ঠিক তেমনই পুরনো এবং নতুনদের মধ্যে যাতে কোনো দ্বন্দ্ব না হয়, তার বার্তা দেওয়া।

কিন্তু এবার সেই পুরনোদের নিয়ে স্বীকৃতি সম্মেলনেই তৃণমূলের ফাটল এবং কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল। সূত্রের খবর, রবিবার বিকেলে মন্তেশ্বর বিধানসভার অন্তর্গত মেমারির পাহাড়হাটিতে পুরনোদের নিয়ে এই স্বীকৃতি সম্মেলন করেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সৈকত পাঁজা। অন্যদিকে একই বিধানসভার মধ্যে পৃথকভাবে কুসুমগ্রামে পুরনোদের নিয়ে একটি কর্মসূচি করতে দেখা যায় মন্তেশ্বর ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি আহমেদ হোসেন শেখকে।

আর যেখানে দল সকলকে একত্রিত হয়ে চলার বার্তা দিচ্ছে এবং পুরনোদের সঙ্গে নতুনদের মিশ্রন ঘটানোর চেষ্টা করছে, সেখানে একই বিধানসভায় দুই নেতার এই পৃথক পৃথক কর্মসূচি, তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলবে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। এদিন এই প্রসঙ্গে মন্তেশ্বরের বিধায়ক সৈকত পাঁজা বলেন, “দল মন্তেশ্বর বিধানসভার বিধায়ক হিসেবে একমাত্র আমাকেই এই কর্মসূচি করার অনুমোদন দিয়েছেন।” সেক্ষেত্রে বিধায়ককে এড়িয়ে কেন তিনি আবার পৃথকভাবে এই কর্মসূচি পালন করতে গেলেন!

এদিন এই প্রসঙ্গে মন্তেশ্বর ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি আহমেদ হোসেন বলেন, “ব্লকের প্রতিটি অঞ্চলের সভাপতি, প্রধান, উপপ্রধান সহ ব্লক স্তরের সমস্ত নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রমাণ করে দিয়েছে, কর্মীরা কার নেতৃত্বে থাকতে চান। ব্লক সভাপতির অনুমোদন নিয়ে দলীয় সংগঠন মজবুত করতেই এই উদ্যোগ। বিধায়ক নিজের পছন্দ মত লোক নিয়েই এই অনুষ্ঠান করেছেন।” অন্যদিকে বৈদ্যপুর এলাকায় কালনার তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডুর উপস্থিতিতে স্বীকৃতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও, সেখানে দেখা যায়নি বেশ কিছু তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

জানা যায়, বিধায়ক এক জায়গায় অনুষ্ঠান করলেও, পৃথকভাবে অন্য জায়গায় অনুষ্ঠান করেন ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রণব রায়, কালনা পৌরসভার চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ বাগ সহ অন্যান্য নেতারা। কেন তারা বিধায়কের নেতৃত্বে হওয়া স্বীকৃতি সম্মেলনে উপস্থিত না হয়ে পৃথক ভাবে অনুষ্ঠান করলেন! এদিন এই প্রসঙ্গে প্রণববাবু বলেন, “আমার মত অনেকেই অপমানিত। সাধারণ মানুষ আমাদের শক্তি। এর বাইরে অন্য কিছু ভাবতে চাই না।” অন্যদিকে কাটোয়াতে তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় অনেকেই ডাকেননি বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বেশ কিছু তৃণমূলের নেতা কর্মী।

এদিন এই প্রসঙ্গে হিমাংশু কুন্ডু, দেবব্রত রায়ের মত পুরাতন তৃণমূল কর্মীরা বলেন, “আমরা 14 বছর ধরে তৃনমূলের সঙ্গে যুক্ত। 2016 থেকে রবীন্দ্রনাথবাবু দলে আসার পর থেকে আর ডাক পাইনি।” যদিও বা প্রশান্ত কিশোরের টিম থেকে যাদের তালিকা দেওয়া হয়েছে, তাদের সকলকেই ডাকা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সেই তৃনমূল বিধায়ক। তবে হিমাংশুবাবুকে ফোনে ডাকা হয়েছে এবং দেবব্রতবাবুকে ফোন করে পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়ে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়।

এদিকে এদিন মেমারিতেও এই স্বীকৃতির সম্মেলন নিয়ে তৃণমূলের বর্তমান বনাম প্রাক্তন বিধায়কের মধ্যে দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা গেছে। যদিও বা সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি স্বপন দেবনাথ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূল পুরাতন কর্মীদের সম্মান দেওয়ার জন্য স্বীকৃতি সম্মেলনের ডাক দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু এই সম্মেলনে অনেক পুরাতন কর্মীরা ডাক পাচ্ছেন না বলে যেভাবে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন, তাতে স্বীকৃতি সম্মেলনের নামে পুরাতন কর্মীদের তোপের মুখে পড়ে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়বে বলেই দাবি বিশ্লেষকদের।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!