এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > পুরো উলটপুরাণ একসময়ের ‘চড়াম চড়াম’ বলা অনুব্রত মন্ডল এবার সুর নরম করলেন জনগণের প্রতি, পড়ুন বিস্তারিত

পুরো উলটপুরাণ একসময়ের ‘চড়াম চড়াম’ বলা অনুব্রত মন্ডল এবার সুর নরম করলেন জনগণের প্রতি, পড়ুন বিস্তারিত



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –গত ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সারোদা, নারোদা, রোজভ্যালির মতো একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে। এই সমস্ত অভিযোগকে নতমস্তকে ধারণ করেই সেবারের বিধানসভা নির্বাচনে জনতার উদেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ” ২৯৪ টি কেন্দ্রে আমিই প্রার্থী।’ নামেমাত্র প্রার্থীদের দাঁড় করানো হয়েছে, কিন্তু ভোট হবে এক ও একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেই।” যাইহোক মুখ্যমন্ত্রীর এই আবেদন জনগণ মেনে নিয়েছিলেন। একারণেই ২০১১ এর চেয়ে ২০১৬ তে রাজ্যের তৃণমূলের ভিত অনেক বেশী মজবুত হয়। এবার তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডলের কন্ঠে একই ধরনের সুর শোনা যাচ্ছে। দাপুটে নেতার করতে অটোর বার্তা শুনে বিস্মিত অনেকেই।

প্রসঙ্গত তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা তথা বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের একগুচ্ছ অভিযোগ আছে। অনেকেই বলে থাকেন, বীরভূমে তৃণমূল দলটা পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। তার নামেই মুহুর্মুহু কম্পমান লালমাটির রাজনীতি।

তার সুকণ্ঠে উচ্চারিত একাধিক বিতর্কিত শব্দ যেমন ‘ সুটিয়া লাল করে দেব ‘, ‘পাঁচন’, ‘চড়াম চড়াম’ – এসব তো এখন প্রবাদ-প্রবচনে পরিণত হয়েছে বীরভূম জেলাতে। তার ওপরে বীরভূম জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমা বর্ষণের মতো ঘটনাও রয়েছে। আর এই সমস্ত ঘটনা নিয়েই যথেষ্ট ভাবে অভিযোগের তির রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, রাজ্যের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার কতটা সফল সেটা নিয়ে যেমন বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। তেমনি রাজ্যে সম্প্রতি আম্ফান ঝড়ের ক্ষতিপূরণ নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলির। যদিও এই সমস্ত কিছু অভিযোগ খণ্ডন বা সমাধানের চেষ্টা হয়েছে। অভিযোগের কারণে বেশ কিছু নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী শোকজ করেছেন, পদ থেকে বহিস্কার করেছেন। জানিয়েও দিয়েছেন, ত্রাণের টাকা নিয়ে দুর্নীতির বিন্দুমাত্র খবর পেলেই তাকে বহিষ্কার করবেন। বহিস্কার করেওছেন কিছু পদাধিকারীকে ।

কিন্তু এসব করেও তিনি বিশেষে একটা সন্তুষ্ট করতে পারেন নি বিরোধী শিবিরকে। শাসক দলের এই পরিস্থিতির মধ্যে গান্ধীগিরির কথা বলতে শোনা গেল বীরভূম জেলার দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল কে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ” ভুল হলে রাগ করবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনে করবেন। এই ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট। ” অর্থাৎ, তৃণমূল দলের কোনো নেতা বা নেত্রী কে দেখে নয় মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেই এই দলকে সমর্থন করতে।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

আবার তৃণমূল দলের জনপ্রিয় নেতাদের মধ্যে একজন হলেন অনুব্রত মণ্ডল। বিরোধীদের হাজার অভিযোগ সত্ত্বেও বীরভূম জেলায় তার জনপ্রিয়তা ঈর্ষণীয়। রাজনৈতিক মহলে কিছু অংশ মনে করছেন, নিজের জনপ্রিয়তাকে অটুট রাখতেই তার এই গান্ধীগিরি, বলা যেতে পারে একটি নতুন প্রচেষ্টা। এতদিনের ক্রুদ্ধ মনোভাব পোষণ করা ছেড়ে দিয়ে নরম সুরে কথা বলে তিনি নিজের দিকে জনগণকে আরো বেশি করে আকৃষ্ট করতে চাইছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

এদিকে সামনেই অপেক্ষা করছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সেই বিধানসভা নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ে গণ সমর্থন লাভের জন্য রাতদিন এক করে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে ১৮ টি আসন দখল করে এক হিসেবে তৃণমূলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গতে তৃণমূল চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিল, অনুরূপ ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল জঙ্গলমহলে। তাই সামনের এই কঠিন নির্বাচনী লড়াইয়ে কোন ঝুঁকি নিতে চাইছেন না মুখ্যমন্ত্রী।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!