এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > পুজোর মুখে বেতন কমল এইসব কর্মীদের, মাথায় হাত উৎসবের মরসুমে

পুজোর মুখে বেতন কমল এইসব কর্মীদের, মাথায় হাত উৎসবের মরসুমে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – পুজোর মুখে জোড়া ধাক্কা নবদ্দীপ খেয়াঘাটের কর্মীদের। পুজোর মুখে তাদের বেতন যেমন হ্রাস করা হলো, তেমনি বন্ধ রাখা হলো পূজার বোনাস। ফলে উদ্বিগ্ন ও বিষন্ন তাঁরা। প্রসঙ্গত নবদ্বীপে গঙ্গা ও জলঙ্গী নদীর উপরে নবদ্বীপ-মায়াপুর, নবদ্বীপ-স্বরুপগঞ্জ, স্বরুপগঞ্জ- মায়াপুর এই তিন রুটে খেয়া পারাপার করে। এই তিনটি ঘাটের পরিচালনার দায়িত্বে আছে নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে এই সমিতির পক্ষ থেকে খেয়াঘাটের কর্মীদের বেতন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

প্রসঙ্গত নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতিতে আছেন মোট ১৬৫ জন কর্মী। যাদের বেতন মাসে গড়ে ১১৮০০ টাকা। তবে কয়েকজনের বেতন কিছুটা বেশি। তাদের বেতন দিতে মাসে খরচ হয় ২০ লক্ষ টাকা, এছাড়া ডিজেলের পেছনে খরচ মাসে ৪ লক্ষ, বিদ্যুতের জন্য ১ লক্ষ, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে ১ লক্ষ, আবার নবদ্বীপ ঘাট জেলা পরিষদের কাছে ইজারা বাবদও অর্থ দিতে হয়। এ বছর ইজারা বাবদ খরচ হয়েছে ৬৬ লক্ষ। কিন্তু করোনার কারণে তাদের আয় প্রায় তলানিতে ঠেকেছে।লোকসানের বহরে প্রাণ ওষ্ঠাগত।

নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি সম্পাদক গোপাল দাস এ প্রসঙ্গে জানালেন যে, লকডাউন এর ফলে প্রায় ৩ মাস ধরে ঘাট বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু সে সময় জরুরি পরিষেবার জন্য তাদের নৌকা চালাতে হয়েছিল। ফলে যাত্রী না মিললেও খরচে লাগাম পরানো যায়নি। এরপর জুন মাস থেকে আনলক প্রক্রিয়া চালু হলেও যাত্রী সংখ্যা তেমন বাড়েনি। প্রতিদিন গড়ে ৯০ হাজা টাকা তাদের খরচ হয়, কিন্তু দিনে ৩০, ৩৫ হাজার টাকার বেশি রোজগার নেই। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী সংখ্যা অত্যন্ত কম। খুব প্রয়োজন হলেই ঘাট পারাপার করে মানুষজন।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো জানান জানান যে, ৬ মাসের বেশি সময় ধরে আর্থিক লোকসানে ভুগছে সমবায় সমিতি। বাজারে তাদের ৭০ লক্ষ টাকা দেনা পড়ে গেছে। আর্থিক সাহায্যের জন্য তাঁরা জেলা পরিষদ সহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন জানিয়েও, তেমন কোনো সাড়া পাননি। তাই এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেই কর্মীদের বেতন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কারণ বেতন হ্রাস না করলে সম্পূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থাটাই ভেঙ্গে পড়বে। একারণেই মাথাপিছু ৪০০০ টাকা করে বেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ” এটা সমবায় সমিতি। আমরা সকলে মিলে চালাই। তাই সবাই মিলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে সমবায় সমিতির কর্মীদের বেতন হ্রাস প্রসঙ্গে নবদ্বীপ থানা ফেরিঘাট কর্মচারী ইউনিয়নের সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র অধিকারীর জানলেন, ” আমাদের জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি সঞ্চিত প্রায় লক্ষ টাকা দিয়ে চৈত্র মাস থেকে এই পর্যন্ত কর্মীদের বেতন দেওয়া হয়েছে। আর সম্ভব হচ্ছে না। কর্মীদের বেতন সঙ্কোচ না করে উপায় ছিল না।”

প্রতিবছর কর্মীরা এক মাসের বেতন পুজোর বোনাস হিসাবে পেতেন। কিন্তু প্রতি মাসের মাইনে দেওয়া যেখানে কঠিন হয়ে পড়ছে, সেখানে বোনাস দেওয়া একার্থেই অসম্ভব। এমনটাই সমবায় সমিতির কর্তাদের বক্তব্য। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের বেতন যেমন হ্রাস করা হবে, তেমনি বন্ধ রাখা হবে বোনাস। দুর্গোত্সবের প্রাক্কালে সমিতির এমন সিদ্ধান্ত কর্মীদের হতাশ করলেও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই সমিতির এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন কর্মীরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!