এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > PTTI-দের বঞ্চনার দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে এগোতেই গ্রেপ্তার ও ফেলে মার শিক্ষকদের

PTTI-দের বঞ্চনার দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে এগোতেই গ্রেপ্তার ও ফেলে মার শিক্ষকদের



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া এক্সক্লুসিভ – রাজ্যে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসাবে পিটিটিআই আন্দোলনের কথা মেনে নিয়েছিলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই, ২০১১ সালে এক ঐতিহাসিক সাংবাদিক বৈঠকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পিটিটিআই আন্দোলনকে স্বীকৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন, আগামী ৩ বছরের মধ্যে বঞ্চিত পিটিটিআইদের নিয়োগের তিনি ব্যবস্থা করবেন।

তবে, মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার অনেক আগেই অবশ্য পিটিটিআই আন্দোলনের সঙ্গে সহমত প্রদর্শন করেছিলেন তিনি। পিটিটিআই পড়ুয়ারাও তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বান্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঐতিহাসিক অনশনের’ চতুর্থ দিনে ধর্ণা মঞ্চে গিয়ে তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এসেছিলেন। এমনকি, এর উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রীর লেখা বইয়েও পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে, তিনি এবং প্রণব মুখোপাধ্যায় গিয়ে পিটিটিআই অনশনকারীদের অনশন ভঙ্গ করেন ও তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানান।

কিন্তু, এরপরে বিগত আট বছর ধরে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে – রাজনীতির ঘূর্ণিপাকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণরূপে বোধহয় ভুলে গেছেন – তাঁর ক্ষমতায় আসার পিছনে ‘দায়ী’ অন্যতম আন্দোলনকে! ভুলে গেছেন বোধহয় – এই পিটিটিআই আন্দোলন করতে গিয়েই, কোনো সুরাহা না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ১২ জনকে! আর তাইতো, আজও সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও শিক্ষামন্ত্রীর দরজায় বারবার কড়া নেড়েও হতাশা ছাড়া কিছুই জোটে নি!


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

ফলে, এবার একপ্রকার মরিয়া হয়েই ‘দিদিকে বলো’ অভিযানে গিয়েছিলেন এই পিটিটিআই আন্দোলনকারীরা। ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি পিন্টু পাড়ুইয়ের নেতৃত্ত্বে আজ প্রায় শ পাঁচেক শিক্ষক, তাঁদের এই বঞ্চনার কথা জানাতে মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাসভবনের দিকে শান্তিপূর্ণ মিছিল করে যান। কিন্তু, মিছিল এগোতেই তাঁরা দেখেন, হাজরা মোড় থেকে শুরু করে গোটা কালীঘাট চত্ত্বর কার্যত পুলিশের ব্যারিকেডে ছয়লাপ হয়ে আছে।

এরপরেই সংগঠনের তরফে পিন্টুবাবুরা পুলিশ আধিকারিকদের জানান, তাঁরা কোনোরকম শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে আসেননি। নিজেদের দাবি নিয়ে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে ডেপুটেশন দিতে চান। দরকার হলে, তাঁদের প্রতিনিধি দল পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে গিয়েই সেই ডেপুটেশন দেবেন। কিন্তু, এরপরেই কোনো প্ররোচনা ছাড়াই পিটিটিআই আন্দোলনকারীদের কার্যত রাস্তায় ফেলে পেটাতে শুরু করে পুলিশ।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেক মহিলা থাকলেও – কাউকেই রেহাই দেয় না পুলিশ। আন্দোলনকারীদের মারতে মারতে পাশের যতীন দাস পার্কে ঢুকিয়ে তালা মেরে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পিন্টুবাবু সহ ১২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ১১ টার সময় গ্রেপ্তার করে, তাঁদের দীর্ঘক্ষণ লক-আপে রাখার পর অবশেষে সন্ধ্যের দিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সবমিলিয়ে আবারো পিটিটিআই আন্দোলনকারীদের কপালে জুটল পুলিশি অত্যাচার ও একরাশ বঞ্চনা বলে মনে করছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি পিন্টু পাড়ুই। তবে এখনই এত সহজে হাল ছাড়তে তিনি নারাজ। আগামীদিনে আরও সংগঠিতভাবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে পিটিটিআই আন্দোলনের দাবি ছিনিয়ে নেবার অঙ্গীকার জানিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!