এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > প্রভাবশালী ৩ নেতার সঙ্গে পার্থ-অনুগামীদের দ্বন্দ্ব চরমে? ভোটের আগে তীব্র অস্বস্তিতে তৃণমূল?

প্রভাবশালী ৩ নেতার সঙ্গে পার্থ-অনুগামীদের দ্বন্দ্ব চরমে? ভোটের আগে তীব্র অস্বস্তিতে তৃণমূল?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – কোচবিহার জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যেন কমছে না কিছুতেই। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বারবার শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সেই গোষ্ঠী কোন্দল কমানোর জন্য দেওয়া হয়েছে কড়া বার্তা। কখনও সকলকে নিয়ে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কোনো ওষুধেই যে কাজ হচ্ছে না, তা প্রমাণ হয়ে গেল। এবার কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা ভূষণ সিং, পরিমল বর্মন এবং খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেল জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের অনুগামীদের।

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে কোচবিহার জেলা তৃণমূলের অন্দরমহলে। এভাবেই যদি এক নেতা অপর নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হতে শুরু করেন, তাহলে আগামী নির্বাচনে বিজেপির মত দলের মোকাবিলা কীভাবে তৃণমূল কংগ্রেস করবে, এখন এটাই বড় প্রশ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলা রাজনীতিতে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যাচ্ছে এই ভূষণ সিং, পরিমল বর্মন এবং খোকন মিয়া নামে জেলা তৃণমূলের তিন হেভিওয়েট নেতাকে। যার ফলে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। আর এই পরিস্থিতিতে পার্থপ্রতিম রায়ের হয়ে ব্যাটিং করতে দেখা গেল তার অনুগামী একাধিক হেভিওয়েট নেতাকে।

এদিন এই প্রসঙ্গে পার্থ প্রতিম রায় অনুগামী হিসেবে পরিচিত জেলা তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক রাহুল রায় বলেন, “রাজ্য নেতৃত্বকে আমরা অনুরোধ করছি, যারা দলে থেকে প্রকাশ্যে দল বিরোধী কথা বলছেন, দলের ক্ষতি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। দলের মধ্যে বলা দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে। যেহেতু তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন সেই কারণে এই আর্জি জানানো হচ্ছে।” শুধু তাই নয়, ভূষনবাবুকে পৌরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান থেকে আগামী সাত দিনের মধ্যে অপসারণ করার দাবি জানিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা।

একাংশ বলতে শুরু করেছেন, জেলার একাধিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে যেভাবে জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়কে টার্গেট করে আক্রমণ করা হচ্ছে, তাতে অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিলেন জেলা সভাপতি। যার ফলে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসায় বিজেপি যে সেটাকে হাতিয়ার করে ময়দানে নামবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই পরিস্থিতিতে সেই জেলা সভাপতির হয়ে ব্যাটিং করে তার অনুগামী নেতারা বুঝিয়ে দিলেন যে, কোনোভাবেই তারা এই ঘটনাকে প্রশ্রয় দেবেন না।

কিন্তু যেভাবে এই তিন নেতার বিরুদ্ধে রাজ্যস্তরে অভিযোগ জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হল, তাতে তারা কি বলবেন! এদিন এই প্রসঙ্গে ভূষণ সিং বলেন, “যারা এসব বলছেন, তারা আমাকে পৌরসভায় বসাননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি মনে করেন, আমাকে পদ থেকে সরিয়ে দেবেন, আমি তাহলে সেটা মাথা পেতে নেব। যেটা সত্য, সেটাই বলেছি। কারও আতে লাগলে তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে এই ব্যাপারে খোকন মিয়া বলেন, “কে কি বলল, আমার তাতে কিছু যায় আসে না। আমি নেত্রীকে মানি। প্রয়োজনে রাজ্য সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। দিদি যা নির্দেশ দেবেন, অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। যারা 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে নিজের বুথে লিড দিতে পারেননি, তাদের নেতা মানব কি করে!” অন্যদিকে এই ব্যাপারে পরিমল বর্মন বলেন, “ওরা যেখানে মর্জি চিঠি পাঠাক। নিয়ম নীতি মানলে আগে তো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়।” এদিকে তার অনুগামীরা বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর কথা বললেও এই ব্যাপারে মুখে কুলুপ আঁটতে দেখা গেছে কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়কে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কেননা এমনিতেই এই তিন নেতা জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ মনোভাব পোষণ করেছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবে সেই তিন নেতাকে চাপে ফেলার উদ্যোগ নিলেন জেলা সভাপতির অনুগামীরা, তাতে জেলায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন একাংশ। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!