এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > প্রবল জল্পনার পর তৃণমূলে মুকুলকে বিশেষ পদ, পুরোনো দলে ফিরে আসার জন্য মুকুল রায়ের পুরষ্কার

প্রবল জল্পনার পর তৃণমূলে মুকুলকে বিশেষ পদ, পুরোনো দলে ফিরে আসার জন্য মুকুল রায়ের পুরষ্কার



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  ব্যাপক জল্পনার পর মুকুল রায় সম্প্রতি গেরুয়া শিবিরের ভাঙন ধরিয়ে চলে এসেছেন তৃণমূলে। কিন্তু তৃণমূলে আসার পর মুকুল রায় কে নিয়ে যে জল্পনা মাথা চাড়া দিয়েছিলো, তা হলো মুকুল যখন দল ছেড়ে গিয়েছিলেন তখন তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। কিন্তু তৃণমূল ছেড়ে তিনি বিজেপি যাওয়ার পর তাঁকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। তাই পুরনো দলে ফিরে আসার পর প্রশ্ন উঠেছিল, তাঁকে কি বিজেপির মতন সম্মান দেওয়া হবে পুরোনো দলে? আর সেই সূত্রে জানা গেল বিশেষ তথ্য।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, মুকুল রায়কে খুব সম্ভবত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদে নিয়ে আসা হচ্ছে। কার্যত মুকুল রয়ে গেলেন সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি শুধু দল বদলে গেল। অন্যদিকে মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে আসার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিজেপি নেতা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এমনকি রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ পর্যন্ত জানিয়েছেন, মুকুল রায় চলে গেলে দলের কোনো ক্ষতি হবেনা। কিন্তু কার্যত সেকথা মনে হচ্ছেনা।

কারণ বিভিন্ন জেলায় একের পর এক বিজেপি কর্মীদের যেভাবে তৃণমূলে ফিরে আসার জন্য আকুলতা প্রকাশ পাচ্ছে, তাতে কিন্তু এর পেছনে অনেকেই মুকুল রায়ের হাত দেখছেন। প্রসঙ্গত, মুকুল রায় বরাবরই সাংগঠনিক নেতা বলে পরিচিত রাজনৈতিক জগতে। সংগঠনকে কিভাবে শক্তপোক্ত তৈরি করে নিতে হয় তা মুকুল রায়ের থেকে ভালো কেউ জানে না বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। খুব স্বাভাবিকভাবে এরকম একজন নেতা বিজেপি ছাড়ায় দলে ক্রমাগত ভাঙনের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। এই নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরেও গুঞ্জন তীব্র।

অনেকেই মনে করছেন, কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতারা যেভাবে মুকুল রায়কে সাংগঠনিক জোর বৃদ্ধিতে ব্যবহার না করে ফেলে রেখেছিলেন তাতে গেরুয়া শিবিরেরই ক্ষতি হয়েছে। আর মুকুল রায় চলে যেতে বাংলায় যে পদ্ম শিবিরের সমূহ বিপদ ঘনিয়ে উঠেছে, সেকথা এককথায় স্বীকার্য বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহলের অনেকেই। এই মুহূর্তে গেরুয়া শিবিরের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্যে কতজন সাংসদ এবং বিধায়ক শেষ পর্যন্ত তাঁদের দলে থাকেন তা নিয়ে।

এমনিতেই মুকুল অনুগামী হিসেবে অনেকেই রয়েছেন এখনো বিজেপিতে। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন মুকুল যেদিকে যাবেন তার অনুগামীরাও সেদিকেই পা দেবেন। গেরুয়া শিবিরের সাংগঠনিক ক্ষতি হওয়া কেউ আটকাতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কাকে কখন কোন দল থেকে বা কিভাবে নিয়ে যেতে হবে তা খুব ভালো মতন জানেন মুকুল রায়।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

ইতিমধ্যেই মুকুল রায় বিজেপির প্রায় জনা চল্লিশেক সাংসদ ও বিধায়ক কে ফোন করেছেন বলে জানা যাচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের দলে ও সে কথা স্বীকার করেছেন। আর মুকুল রায়ের এই পদক্ষেপ সবথেকে বেশি চিন্তা ধরাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের। 2017 তৃণমূল থেকে চলে যাওয়ার পর কার্যত মুকুল রায় এই কাজটিই করে গিয়েছেন বরাবর তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

আর যখন তিনি আবার পুরনো দলে ফিরেছেন স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করে যাবেন। বাংলায় তৃণমূলকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি ভেঙে দেওয়া কতটা প্রয়োজনীয় তা মুকুল রায় খুব ভালো জানেন। বরাবরই আদি বিজেপি এবং নব্য বিজেপির মধ্যে গেরুয়া শিবিরে একটি অন্তর্দ্বন্দ চলছে। আর সেই অন্তর্দ্বন্দ্বের পূর্ণ সুযোগ নেবেন যে মুকুল রায় তার অনায়াসে বলা যায়।

একইসাথে বলা যায়, মুকুল রায় এই মুহূর্তে গেরুয়া শিবিরের কাছে অন্যতম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর মুকুল রায় বর্তমানে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্যতম দায়িত্ব নিচ্ছেন। আর সেই দায়িত্ব সম্পন্ন করতে আক্ষরিক অর্থে মুকুল রায়ের ক্ষমতা বৃদ্ধি করল তৃণমূল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!