এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ছেলেকে অপহরণ করে খুন! উত্তাল গোটা রাজ্য, জেনে নিন বিস্তারিত

প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ছেলেকে অপহরণ করে খুন! উত্তাল গোটা রাজ্য, জেনে নিন বিস্তারিত



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – নিষ্ঠুর, নিশংস, ন্যাক্কার জনক ঘটনার সাক্ষী হলো পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসির সাঁকো গ্রাম। তৃণমূল দলের পঞ্চায়েত সদস্য বুদ্ধদেব দলুইয়ের ৯ বছরের ছেলে সন্দ্বীপকে প্রথমে অপহরণ, তারপর হত্যা। হত্যার পর হাত পা বাঁধা অবস্থায় দুদিন কেটে যাবার পর ক্যানেলের জল থেকে উদ্ধার করা হলো তাকে। এ ঘটনায় উত্তপ্ত হল সমগ্র সাঁকো গ্রাম।

স্থানীয় সংবাদ সূত্রে জানা গেছে , পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসির সাঁকো গ্রামের মেটেপাড়ার বাসিন্দা হলেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য বুদ্ধদেব দোলুই। পেশায় যিনি একজন ক্ষেতমজুর। গত বুধবার এই গ্রামে ছিল মনসা পূজা। এদিন রাতে সেই পুজো দেখতে গিয়েছিল বুদ্ধদেব বাবুর ৯ বছর বয়স্ক ছেলে সন্দীপ। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে নেয় সুব্রত মাঝি বা বাদশা, জয়ন্ত বাগ বা নিরঞ্জন এবং মঙ্গলদীপ দলুই বা বাবু। এদের মধ্যে সুব্রত ও জয়ন্ত ২০ বছর বয়স্ক ও মঙ্গলদীপ ১৮ বছর বয়স্ক। সুব্রত ডোমপাড়ার বাসিন্দা, জয়ন্ত ও মঙ্গলদীপ সাঁকো মেটেপাড়ার বাসিন্দা। এই তিন অপহরণকারী সন্দীপকে অপহরণ করে রাত সাড়ে আটটায় ফোন করে প্রথমে ৭ লক্ষ টাকা, পরে ৩ লক্ষ্ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বুদ্ধদেব বাবুর কাছে। অপহরণকারীদের দাবি শুনে বুদ্ধদেব বাবু জানান যে, তাঁর সমস্ত কিছু বিক্রি করে দিয়েও এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর নেই। সেই সঙ্গে ছেলেকে ফিরিয়ে দেবার জন্য কাতর অনুরোধ তিনি জানান তাদের কাছে।

কিন্তু অপহরণকারী এই তিন ব্যক্তির সামান্যতম দয়া-দাক্ষিণ্য ছিল না। অর্থের লোভে তারা প্রথমে বুদ্ধদেব বাবুর পুত্রকে মাদক জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে আচ্ছন্ন করেছিল। তারপর বাইকে চাপিয়ে ডিভিসি ক্যানেলের ধারে নিয়ে গিয়েছিল তাকে। অপর এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে সিমকার্ড চুরি করে ক্যানেল পাড়ে দাঁড়িয়ে ওই সিম কার্ড থেকে ফোন করে মুক্তিপণ এর দাবি জানায় তারা। তারপর সেই সিম কার্ড ফেলে দেয় ক্যানেলের জলে। পুলিশের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অপহরণের ২ ঘন্টার মধ্যেই বালকটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এই তিন অপহরণকারী। শুধু তাই নয় প্রমাণ লোপাটের জন্য তার হাত-পা বেঁধে তাকে জলে ফেলে সেই রাতে তারা চুপিচুপি বাড়ি ফিরে আসে।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কিন্তু শেষ পর্যন্ত বুদ্ধদেব বাবুকে করা ফোনের সূত্র ধরেই এই তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তিনজনকে সে রাতেই আটক করে পুলিশ। পুলিশের টানা জেরার কাছে তাদের অপরাধ স্বীকার করে নেয় এই তিন অপহরণকারী । পুলিশের সামনে তারা তাদের সমস্ত পরিকল্পনা জানিয়ে দেয়। এ সম্পর্কে পুলিশ সুপার ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ” অপহরণ ও খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের জন্য তিনজনকেই ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”

পুলিশের কাছে করা তাদের স্বীকারোক্তি অনুসারে দুদিন পর গতকাল শুক্রবার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জল থেকে উদ্ধার করা হলো বুদ্ধদেব বাবুর ন বছরের ছেলের মৃতদেহ। এই ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকালে শোরগোল পড়ে গেল সমগ্র সাঁকো গ্রামে। এই তিন অপহরণকারীর বাড়িতে প্রচন্ড ভাঙচুর ও আক্রমন চালালো গ্রামবাসীরা।

গ্রামের পুরুষ মহিলা একযোগে হাতুড়ি, শাবল, গাঁইতি দিয়ে এদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। বাড়ির ভিতরের সমস্ত জিনিস ভেঙে বাইরে ফেলে ফেলে দেয়। এক অপহরণকারীর বাড়ির ভাঙ্গা আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গতকাল পূর্ব বর্ধমান জেলার পুলিস সুপার এই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এমন নৃশংস ঘটনায় তিন অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি করলেন গ্রামবাসীরা।

 

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!