এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়ে সরব হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক, প্রবল অস্বস্তি শাসক দলে!

প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়ে সরব হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক, প্রবল অস্বস্তি শাসক দলে!



রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রায়শই অভিযোগ করে যে, রাজ্যে গণতন্ত্র নেই। পুলিশ এবং প্রশাসনকে দলতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে বিরোধীদের মুখে এই ধরনের কথা মানালেও, যদি শাসকদলের বিধায়ক এই ধরনের কথা বলেন, তাহলে তা নিঃসন্দেহে চরম বিতর্ক ছড়ায়। আর এবার ঠিক তেমনটাই হল এরাজ্যে। সূত্রের খবর, এবার তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন ইসলামপুরে তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী। পৌরভোটের আগে জানিয়ে এখন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বস্তুত, কিছুদিন আগেই উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের কলেজ মাঠে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন সেই প্রসঙ্গে ইসলামপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ছিল ওই মিটিংয়ে উপস্থিত দলের বিধায়ক এবং নেতৃত্বের থেকে সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া। তারাই মুখ্যমন্ত্রীকে বাস্তব পরিস্থিতিটা বলতে পারতেন। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনকে দিন অবনতি হচ্ছে। উন্নয়নের কাজও হচ্ছে না।” অন্যদিকে বিধায়কদের ঠিকমত কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলেও এদিন পরোক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন এই তৃণমূল বিধায়ক।

তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিধায়কদের বলার সুযোগ না দেওয়ার পরেও, আমি ওই মিটিংয়ে উঠে দাঁড়িয়ে কয়েকটি অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আমাকে সময় দেননি। আমাকে আসল পরিস্থিতির জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার ফ্লাইট ধরা তাড়া আছে বলে আমাকে থামিয়ে দেন। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিচ্ছি, এরপর থেকে জেলার বিধায়ক, নেতৃত্বের সঙ্গে কথা না বলে এবং তাদের থেকে বাস্তব পরিস্থিতি না জেনে প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রশংসা করে দরাজ সার্টিফিকেট দেবেন না।” অন্যদিকে উত্তর দিনাজপুর জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে এদিন অপদার্থ বলে কটাক্ষ করেন আব্দুল করিম চৌধুরী।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তিনি বলেন, “আমার সমস্যা আমি শাসকদলের বিধায়ক। প্রশাসনের এত অন্যায় দেখেও আমি আন্দোলন করতে পারছি না। কিন্তু আমি সাধারন মানুষের প্রতিনিধি। তাদের প্রতি আমি ক্রমাগত অন্যায় করতে পারি না। সেই কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি গোটা বিষয়টি বিধানসভায় তোলার পাশাপাশি এই ব্যাপারে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করব।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আব্দুল করিম চৌধুরীর সত্যিই সাহস আছে। তা না হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে তৃণমূলের সর্বাধিনায়িকা, সেখানে তার বক্তব্যের পরেও এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে তিনি যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করলেন, তা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন ঘটনা।

তবে পৌরসভা নির্বাচনের আগে দলের বিধায়কের এই ধরনের মন্তব্য তৃণমূলকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিল বলেই দাবি একাংশের। এদিন এই প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল বলেন, “বিধায়কের কাছে শুনে মুখ্যমন্ত্রীকে কোনো আধিকারিককে ক্লিনচিট দিতে হবে, এটা আমি মনে করি না। তবে এদিন বিধায়ক যা বলেছেন, সেটা আমি দলের উচ্চতর নেতৃত্বকে জানাব।” এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফরে এসে বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুল করিম চৌধুরী ব্যাপক প্রশ্ন তোলায়, তৃণমূল করিম সাহেবের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!