এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে তৃণমূল শিবিরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে, চাঞ্চল্য রাজনৈতিক মহলে

প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে তৃণমূল শিবিরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে, চাঞ্চল্য রাজনৈতিক মহলে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – রাজনৈতিক মহলে অবশ্য ফিসফাস আগেই শোনা যাচ্ছিল, এবারের প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের ক্ষোভ প্রকাশের। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অন্তর্কলহ সামনে এসেছে। আর এবার তৃণমূল নেত্রী প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর হেভিওয়েট নেতারা তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিলেন। বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই এবারের নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় স্থান পাননি। কেউ হয়তো বয়সের কারণে, আবার কেউ নেত্রীর মার্কশিটে পাস মার্কস জোগাড় করতে পারেননি। পাশাপাশি এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় উঠে এসেছে একগুচ্ছ নতুন মুখ। যথারীতি শুরু হয়ে গেছে দলের অন্দরে ব্যাপক সমালোচনা।

দক্ষিণ 24 পরগনার চারবারের বিধায়ক তথা প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ কিন্তু এবার আর প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাননি। তবে কেন তিনি জায়গা পাননি, তা তিনি নিজেও জানেন না। কিন্তু প্রার্থী তালিকা শুনে রীতিমতো কেঁদে ভাসালেন সোনালী। বরাবরই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে সোনালী গুহকে দেখা যেত। নেত্রীর কাছের মানুষ বলেই অনেকে জানতেন তাঁকে। সেই কাছের মানুষও এবারের নির্বাচনে দূরে সরে গেলেন। ভাঙ্গড়ের বিতর্কিত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম এবার দলের টিকিট পাননি। যথারীতি এই তৃণমূল নেতার অনুগামীরা ব্যাপকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পোলেরহাট এলাকায় নিজের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করেন আরাবুল নিজেই।

অন্যদিকে প্রাক্তন বিধায়ক আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা এবং বাসন্তীর বিধায়ক গোবিন্দ চন্দ্র নস্করও দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ে তৃণমূলের অন্যতম নেতা তথা সিঙুরের বর্তমান বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে টিকিট দেননি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙুরে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং বেচারাম মান্নার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ। ইতিমধ্যেই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলেও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি রয়ে গিয়েছেন তৃণমূলে। কিন্তু তা সত্বেও নেত্রী কিন্তু এবার ভরসা রেখেছেন সিঙুরের তৃণমূল নেতা তথা ভূমিপুত্র বেচারাম মান্নার ওপর। যথারীতি ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিঙুরের মাস্টারমশাই।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এবং স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, নেত্রী বললেও তিনি বেচারাম মান্নার হয়ে কোথাও প্রচার চালাবেন না। অন্যদিকে নলহাটিতে প্রার্থী পদের টিকিট না পেয়ে বিধায়ক পদ ছেড়ে দিলেন তৃণমূল নেতা মঈনুদ্দিন শামস। নলহাটি থেকে এবারের প্রার্থী রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং। যদিও মইনুদ্দিনের দাবি, এলাকায় কেউ নেত্রীর পছন্দ করা প্রার্থীকে চায়না। সূত্রের খবর, বাম কংগ্রেসের জোট প্রার্থী হয়ে তিনি নলহাটি থেকে লড়তে চলেছেন। অন্যদিকে বসিরহাটে এবার তৃণমূলের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। গত পাঁচ বছর ধরে বসিরহাট এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন চালাচ্ছেন এটিএম আব্দুল্লাহ রনি। কিন্তু এবার তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি।

যথারীতি প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলের একাংশ মাটিয়া থানার ধান্যকুড়িয়া নেহালপুর টাকি রোডের উপর দফায় দফায় পথ অবরোধ শুরু করে। সব মিলিয়ে দিনের শেষে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এক ঝাঁক নেতা-নেত্রীর ‘শ্বাসকষ্ট’ শুরু হওয়ার মুখে। তৃণমূলের একটা বড় অংশ ব্যাপক আকারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের গুরুত্ব বুঝে তৃণমূল নেত্রী এবার নতুন আঙ্গিকে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু পুরনো প্রার্থীরা যেভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দূরে সরে যাচ্ছেন, তাতে এবারের নির্বাচনে দলীয় অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা।

 

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!