এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রাক্তন মেয়র পেলেন ক্লীনচিট, পাত্তা পেলেন না মেয়রের বান্ধবী

প্রাক্তন মেয়র পেলেন ক্লীনচিট, পাত্তা পেলেন না মেয়রের বান্ধবী



বৈশাখী-রত্নার তরজায় আবারো রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু। পুরসভার নির্বাচনের আগে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে ক্রমশ নাটকীয় মোড় নিতে চলেছে বঙ্গ রাজনীতি। পুরসভা নির্বাচনে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। তাকে হাতিয়ার করে আসন্ন ভোটের মাঠে নামতে তৎপর যুযুধান দুটি রাজনৈতিক শিবির। যদিও কিছুদিন আগেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ওয়ার্ড 131 নম্বর ও বিধানসভা কেন্দ্রের বেহালা পূর্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের জীবনসঙ্গী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের কাঁধে।

অন্যদিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে আনার জন্য তৎপর হয়েছে গেরুয়া শিবির। এ ব্যাপারে গেরুয়া কর্মকর্তারা উদ্যোগ নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে রীতিমতো একের পর এক নাটকীয় দৃশ্য মঞ্চস্থ হচ্ছে রাজনৈতিক মঞ্চে। এদিকে শোভন পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায় এদিন শোভন বাবুর উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ”শোভনবাবু যদি তৃণমূলে ফিরে এসে বলেন রত্নাকে সরিয়ে দাও, আমিই দেখব। তাহলে আমি হাসিমুখে ফিরে আসব। শোভনবাবু দায়িত্ব নিক আমরা সকলে চাই”।

শুধু তাই না, রত্না চট্টোপাধ্যায় আরো বলেছেন, ”আলোচনার জন্য শোভনকেই কথা বলতে হবে। বৈশাখীর কথা দল শুনবে না”। প্রসঙ্গত মঙ্গলবার তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এদিন রত্না চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে রাজনৈতিক হিসেব কষা। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রত্না চট্টোপাধ্যায় বলেন, ”আমাকে তো তৃণমূল বিধায়ক বানায়নি, আমাকে শুধু পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখা হয়েছে। দলের কাজ ঠিক হচ্ছে কিনা, সেটা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দল আমায় দায়িত্ব দিয়েছে আমি তা পালন করব”।

আর এরপরে সবাইকে চমকে দিয়ে শোভন পত্নী প্রাক্তন মেয়রকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তৃণমূলে আসার অনুরোধ জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ”শোভনবাবু যদি ফিরে এসে বলেন, রত্নাকে সরিয়ে দাও, আমি হাসিমুখে ফিরে আসব। শোভনবাবু দায়িত্ব নিক আমরা সকলে চাই। দল তো ওঁকে তাড়ায়নি। উনি স্বেচ্ছায় বিজেপিতে গেলেন। বিজেপিতে যাওয়ার পরও দল ওঁকে বহিষ্কার করেনি। তৃণমূল ওঁকে অনেক সুযোগ দিয়েছে”। অন্যদিকে, গত শনিবার পুরসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই প্রাক্তন মেয়র এর ওয়ার্ড এবং বিধানসভা কেন্দ্রটির দায়িত্ব কোঅর্ডিনেটর হিসেবে তাঁর পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তবে এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, মমতার ব্রিগেডের এই সিদ্ধান্ত শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফেরার আশায় জল ঢেলে দিল। উপরন্তু দোলের দিন কার্যত নয়া জল্পনার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রায় ঘণ্টা দুয়েক এর বৈঠক। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, এ দিন শোভন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল মহাসচিবকে বার্তা দিয়েছেন ‘রত্না তৃণমূলে থাকলে শোভন ফিরবে না’। তবে পরে অবশ্য পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ”শোভন তো এখনও বলেনি যে রত্না থাকলে ও থাকবে না, আগে বলুক তারপর দেখব”।

অন্যদিকে রত্না চট্টোপাধ্যায়ও এদিন সাংবাদিকদের সামনে রীতিমত বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শোভনকে নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ”ওঁর (শোভন) কথা উনিই বলুন, উনি ৫৬-৫৭ বছরের ভদ্রলোক, বাচ্চা ছেলে নয়, ওঁর কথা বৈশাখীর মুখ দিয়ে মানায় না। বৈশাখীকে আইনত বিয়ে করেননি, রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গীও নন”। এটুকু বলেই রত্না চট্টোপাধ্যায় থামেননি, সরাসরি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ক্লীনচিট দিয়ে বৈশাখীর দিকে নিশানা তাক করেন।

রটনা চট্টোপাধ্যায় দোলের দিন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, ”শোভনের মুখ থেকে আজ পর্যন্ত কখনও একথা শোনা যায়নি যে রত্না থাকলে উনি তৃণমূলে ফিরবেন না। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ই এসব বলছেন। শোভন তো আলোচনাতেই আসছেন না। এজন্য শোভনকেই কথা বলতে হবে। বৈশাখী দলের কেউ নন, ওঁর কথা দল শুনবে না”। আর এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক তথা সাংসারিক সমীকরণ বদলের আশায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, যেভাবে রত্না চট্টোপাধ্যায় এদিন শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ক্লিনচিট দিয়ে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষী সাব্যস্ত করলেন, তাতে শোভন ও রত্নার মধ্যে যে বরফ কঠিন অবস্থা রয়েছে তা গলাতে হয়তো সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, যেভাবে শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদান করার পরেও তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন, তাতে মনে হয়েছিল বিজেপি ছেড়ে প্রাক্তন মেয়র আবার তৃণমূলের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু সব অংক পাল্টে দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের শোভন পত্নী রত্নার ওপর দায়িত্বভার দেওয়া হল, তার ফলে আগামী দিনের বঙ্গ রাজনীতিতে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেদিকে লক্ষ্য রাখবে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!