এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ এ রাজ্যে জনসংখ্যা নথিভুক্ত হবেই, রাজ্য বিজেপিকে নির্দেশ জনগণকে বোঝানোর

প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ এ রাজ্যে জনসংখ্যা নথিভুক্ত হবেই, রাজ্য বিজেপিকে নির্দেশ জনগণকে বোঝানোর



সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, জাতীয় নাগরিক পঞ্জী এবং জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্টার নিয়ে ইতিমধ্যে সারাদেশে বিক্ষোভের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ক্রমশ সেই ঝড় সাইক্লোনে রূপান্তরিত হচ্ছে। সারা দেশজুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের মধ্য থেকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জী নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠছে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া হয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশ থেকে রাজনৈতিক অবিজেপি দলগুলি। তবে এনআরসি আন্দোলনে মুখ্য বিরোধিতা প্রথম থেকেই করে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ। আর এই বিরোধিতার সময়কালেই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে পা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পশ্চিমবঙ্গে পা দিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের বিজেপি নেতাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আরও বেশি করে প্রচার চালিয়ে যাওয়ার। কারণ এই নিয়ে পিছিয়ে যাবার কোনো প্রশ্নই নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতাকারীদের হার অতি নগণ্য, তাই সেই নিয়ে ভাবার কিছুই নেই। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী এরাজ্যে পা দেওয়ার আগেই গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়ে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে গেছে। সূত্রের খবর, এদিন কলকাতার মাটিতে পা দিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে জোরদার খোঁজ নিয়েছেন রাজ্যের বিজেপি নেতাদের কাছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি নেতা মুকুল রায় জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যে প্রচার চলছে সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে, সেখানে বিপুল সাড়া পাওয়া গেছে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজভবনে গেলে তার সাথে দেখা করতে যান রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, রাহুল সিনহা প্রমুখরা। সেখানে রাজ্য বিজেপি নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয় সূত্রের খবর প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে জানিয়েছে বাংলার জনগণের কাছে এনআরসি নিয়ে যেন কোন ভুল খবর না পৌঁছায় কারণ এনআরসি হচ্ছেনা কিন্তু এনপিআর তথা জনসংখ্যা নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গে অবশ্যই হবে। তিনি বিজেপি নেতাদের নির্দেশ দেন, তাঁরা যেন বাংলার জনগণকে বোঝান, নাম নথিভুক্ত না হলে তাঁরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির এক নেতা বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর ধারণা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করলে হয়তো প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের প্রতি নরম মনোভাবাসম্পন্ন ভেবেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তা কখনো হবার নয়। এমনকি যেসব দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত চলছে, সেগুলিও আইনের পথেই সমাধান হবে। দুর্নীতি নিয়ে কোন আপস হবে না বলেই জানা গেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এদিন রাজনৈতিক কৌশল আশ্রয় করে বক্তৃতা দিয়ে গেছেন। বাংলার বুকে বিজেপির পাখির চোখ 2021 এর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন আর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলা ও বাঙালির আবেগকে ছুঁতে সচেষ্ট হয়েছেন। এদিন প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচীর মধ্য দিয়েই তা বোঝা গেছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বেলুড়মঠে রাত্রিযাপন করবেন বলে ঠিক হয়েছে যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

সংশোধিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে ইতিমধ্যেই সারা দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একনাগাড়ে এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন প্রতিবাদ সভা ও মিছিলের মধ্য দিয়ে। যার ব্যতিক্রম প্রধানমন্ত্রী আসার দিনেও হয়নি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিক্ষোভ সভায় গিয়ে বক্তৃতা দেন কেন্দ্রীয় নেতৃতের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়নের পথে পা বাড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, সারা দেশজুড়ে যেভাবে তীব্র প্রতিবাদ উঠে এসেছে নাগরিকত্ব ইস্যুতে, তা মাথায় নিয়েই বিজেপি যত দ্রুত সম্ভব এই বিলটি বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে গেল। আপাতত পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবে দেশের ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!