এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > পদ হারানো নেতার বাড়িতে বিজেপি পৌছাতেই তড়িঘড়ি “মান” ভাঙাতে ছুটলেন হেভিওয়েট মন্ত্রী

পদ হারানো নেতার বাড়িতে বিজেপি পৌছাতেই তড়িঘড়ি “মান” ভাঙাতে ছুটলেন হেভিওয়েট মন্ত্রী



পদ হারানো মোহন বসুর বাড়িতে বিজেপি পৌছাতেই তড়িঘড়ি “মান” ভাঙাতে ছুটলেন হেভিওয়েট মন্ত্রী গৌতম দেব।রাজ্যের সমস্ত মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভায় যখন সেখানকার বিদায়ী মেয়র এবং চেয়ারম্যানদের চেয়ারম্যান করা হচ্ছে, সেখানে জলপাইগুড়ি পৌরসভায় ঘটে গিয়েছে ব্যতিক্রমী ঘটনা। এই পৌরসভা তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এখানকার চেয়ারম্যান মোহন বসুকে প্রশাসক বোর্ডে রাখা হয়নি। যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জলপাইগুড়ি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পাপিয়া পালকে। এতদিন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা মোহন বসুকে প্রশাসক বোর্ডের সদস্য করা হয়নি। যার পর থেকেই রীতিমত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন মোহনবাবু।

সম্প্রতি সেই মোহন বসুর বাড়িতে বিজেপি নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। যার পর থেকেই তিনি দল ছাড়তে পারেন বলে মনে করা হয়েছিল। আর রাজনৈতিক মহলে যখন এই ব্যাপারে জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই সেই মোহন বসু তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যাতে কোনো বেগতিক সিদ্ধান্ত না নেন, তার জন্য ময়দানে নেমে পড়লেন উত্তরবঙ্গ তৃণমূলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব।

সূত্রের খবর, এদিন দুপুরে সার্কিট হাউসে বৈঠকের পর মোহন বসুর সঙ্গে বেগুনটারীর বাড়িতে দেখা করতে যান তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী গৌতম দেব। আর সেখানেই দুজনের মধ্যে আধঘন্টা আলাপ-আলোচনা হয়। তবে গৌতমবাবুর সঙ্গে আলোচনার পরে এতদিন জেলা তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে চুপ থাকলেও, তাকে প্রশাসক না করা নিয়ে সেই জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভাপতি কিষাণ কুমার কল্যাণীর বিরুদ্ধেই তোপ দাগেন মোহন বসু।

তিনি বলেন, “আমি পদের লোভী নই‌। আমাকে আগে বললেই দায়িত্ব থেকে সরে যেতাম। কিন্তু না বলে আমাকে সরানো হয়েছে। পরদিন কিছু না জানিয়ে পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে আমার সরকারি নিরাপত্তা সরিয়ে দিয়েছে। আমাকে পেছন থেকে ছুরি মারা হয়েছে। হুইল চেয়ারে বসে আমি ভাত খাচ্ছি, সেই ছবি আমার ঘরে লোক পাঠিয়ে লুকিয়ে তুলে রাজ্য নেতৃত্বকে পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে আমি অসুস্থ। স্পষ্ট কথা বলছি, কিষান কল্যাণীর নেতৃত্বে আমি আর দল করব না। চা বাগানের মালিক কিষান কল্যানী দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের শ্রমিক ভাবেন। দলের নেতাকর্মীদের সব সময় শ্রমিক ভাবেন। ওনার হাতে দল সুরক্ষিত নয়। সব ক্ষোভের কথা গৌতমবাবুকে জানিয়েছি। উনি এক মাস অপেক্ষা করতে বলেছেন।” তবে দুজনের মধ্যে আধাঘণ্টা ধরে কি আলোচনা হল? যেভাবে তার সঙ্গে আলোচনার পর জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মোহন বসু। তাতে তার ক্ষোভ কি কিছুটা হলেও কমাতে পারলেন গৌতম দেব?


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

 

এদিন বৈঠকের পর বাইরে বেরিয়ে এসে উত্তরবঙ্গ তৃণমূলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, “মোহনদা দলেই আছেন। ওনার অভিজ্ঞতা আমাদের দলের কাছে নিশ্চয়ই লাগবে। মোহনদার দুবার সেরিব্রাল হয়েছে। এই মুহূর্তে তাকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখা ঠিক নয়।” কিন্তু যেভাবে মোহন বসু তার দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুললেন, তাতে তিনি তো অনেকটাই চাপে পড়লেন!

এদিন এই প্রসঙ্গে মোহন বসুর অভিযোগকে অস্বীকার করে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের সভাপতি কিষাণ কুমার কল্যাণী বলেন, “পৌরসভার প্রশাসক বোর্ড বা সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার প্রশাসনিক বিষয়। এটা আমার এক্তিয়ারের বাইরে।” তবে জেলা তৃণমূল সভাপতি যে কথাই বলুন না কেন, মোহন বসু প্রশাসক বোর্ডের দায়িত্ব না পাওয়ার পর যেভাবে তিনি বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, তাতে কিছুটা হলেও ভয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

আর তাই মোহন বাবু যাতে অন্য কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না নেন, তার জন্য তড়িঘড়ি গৌতম দেব তার মান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মোহন বসু এই ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেন, তার দিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!