এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মিলছে না পুলিশি অনুমতি, অনৈতিক প্রশাসনিক চাপের অভিযোগে খোদ কলকাতায় বড় সিদ্ধান্ত মিমের

মিলছে না পুলিশি অনুমতি, অনৈতিক প্রশাসনিক চাপের অভিযোগে খোদ কলকাতায় বড় সিদ্ধান্ত মিমের



 

অনেক আগেই রাজ্যে চুপিচুপি পা রাখার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল হায়দ্রাবাদের মৌলবাদী রাজনৈতিক দল হিসাবে পরিচিত এআইএমআইএম। স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে এআইএমআইএমের সভাপতিকে ইতিপূর্বেই ভারতীয় জনতা পার্টির কাছ থেকে টাকা খেয়ে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।

আর তারপর থেকেই এআইএমআইএমের সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির কথায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, বাংলায় বিজেপি এবং তৃণমূল দুজনের বিরুদ্ধে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বিস্তার করতে সচেষ্ট হবে মিম। সেই মোতাবেক রাজ্যজুড়ে যখন তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন জায়গায় সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরোধিতা করতে সমাবেশ করছে, তখনই উত্তর থেকে দক্ষিণ বিভিন্ন জায়গায় সিএএর বিরুদ্ধে রীতিমতো সহিংস আন্দোলন সংগঠিত করার পিছনে মিমের প্রত্যক্ষ সমর্থন দেখতে পাচ্ছেন একাধিক গুপ্তচর সংস্থা বলে খবর।

এমতঅবস্থায় আজ কলকাতার ধর্মতলা সমাবেশ করার কথা ছিল এআইএমআইএমের। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে সমাবেশের অনুমতি না মেলায় কার্যত রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ তোলেন মিম নেতৃত্ব। এর আগেই অবশ্য স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, তারা কেন্দ্রের মোদি সরকারের আনা সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরোধিতা করবেন। কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনের নামে যেভাবে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে, তাতে করে প্রশাসনের তরফ থেকে হায়দ্রাবাদের ওই সংগঠনের প্রতি কিছুটা সাবধানে পদক্ষেপ গ্রহণ কিছুই আশ্চর্যের নয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মিমের তরফ থেকে আজ ধর্মতলায় সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কথা ছিল, রানী রাসমণি এভিনিউতে তাদের কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, আজকেই সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরুদ্ধে পদযাত্রা করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। হাওড়া ময়দান থেকে ডেরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করবেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাই সেই মিছিলের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে পুলিশ যে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মিমের তরফ থেকে লালবাজারের কাছে রানী রাসমণি এভিনিউতে সভা করার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে লালবাজার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওই দিনে আরও একটি সভা রয়েছে।

সেই সভার জন্য আগেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। একই জায়গায় দুটি কর্মসূচি অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে অবশ্য এআইএমআইএমকে বিকল্প জয়গা দেওয়া হয়। তাদেরকে বলা হয়, ব্যানার অথবা ফেস্টুন ছাড়া যদি সমাবেশ করতে তারা রাজি হয়, তবে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি এআইএমআইএম নেতৃত্ব। যার কারণেই পুলিশের তরফ থেকে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন লালবাজার।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা গেছে মিম নেতৃত্বকে। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য আসাদুর শেখ স্পষ্ট বলেন, “এআইএমআইএম কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। পুলিশ তাদের সদস্যদেরকে বেছে বেছে ধরছে। ভয়ে ভয়ে বাড়ি ছাড়া হচ্ছে।” একাধিক কর্মী সমর্থক গত মঙ্গলবারও একাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দলের 18 জন সদস্য ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন মিমের রাজ্য কমিটির সদস্য।

তবে রাজ্য পুলিশের গুপ্তচর বিভাগ থেকে খবর, গ্রেফতারি এড়াতে একাধিক গণসংগঠনের মোড়কে নিজেদেরকে বোঝাতে চাইছেন এআইএমআইএম কর্মীসমর্থকরা। সেই গণসংগঠনগুলির মধ্যে জঙ্গিপুর যুবসমাজ ভারতীয় নবীন-প্রবীণ ঐক্য ইত্যাদি সংগঠন মুর্শিদাবাদ জেলাতে কাজ করছে। আবার অন্যান্য জায়গায় পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া নামে কাজকর্ম চালাচ্ছে এআইএমআইএমের গণসংগঠন। তাছাড়াও দলের তরফ থেকে একাধিক জায়গায় সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালানো হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এআইএমআইএম পতাকাও ব্যবহার করছে তারা।

পুলিশের তরফ থেকে জানা যাচ্ছে, সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরোধিতা করা ছাড়াও কিভাবে হিংসাত্মক আন্দোলন তৈরি করা যায়, সেই ব্যাপারে রীতিমতো প্রস্তুতি শুরু করেছেন মিম নেতৃত্ব। প্রস্তুতি পর্বে হাজির থাকছেন দলের অনেক নেতা। এই বিষয়ে রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ কর্তার বক্তব্য, তাদের এই আচরণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। যা নিয়ে রীতিমত চিন্তিত প্রশাসন। কাজেই অশান্তিসৃষ্টিকারী সেই সমস্ত নেতাদেরকে চিহ্নিত করতে শুরু করেছে গোয়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এআইএমআইএমের মূল আন্দোলন বিজেপির বিরুদ্ধে হলেও রাজ্যের ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসকেও নিজেদের প্রতিপক্ষ বলেই মনে করে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল। আর তাদের হিংসাত্মক আন্দোলনের ফলে রীতিমতো ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে প্রশাসন তাদেরকে সভা-সমিতি করার অনুমতি দেয় কিনা, সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!