এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > পুলিশের লাঠি খেয়ে জেলে গিয়ে ‘চৈতন্য’ উদয় হেভিওয়েট বিজেপি নেতার, বেরিয়েই ‘ভুল বুঝে’ তৃণমূলের উন্নয়নে শামিল

পুলিশের লাঠি খেয়ে জেলে গিয়ে ‘চৈতন্য’ উদয় হেভিওয়েট বিজেপি নেতার, বেরিয়েই ‘ভুল বুঝে’ তৃণমূলের উন্নয়নে শামিল



ফের দিলীপ ঘোষেদের অস্বস্তিতে ফেলে তৃণমূলে যোগ দিলেন বিজেপির আরেক হেভিওয়েট নেতা। লোকসভা ভোটের মুখে যেখানে দলীয় সংগঠন আরো মজবুত করার কড়া বার্তা আসছে দিল্লি থেকে,সেখানে দফায় দফায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দল ছাড়ছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে মুরলীধর লেনের কর্তাদের।

গতকাল দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দিলেন বিজেপি-র আইটি সেলের নেতা সন্তোষ ভার্মা। এবং দল ছেড়েই তৃণমূলের উন্নয়নের জয়গান গাইলেন তিনি। বললেন,মমত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাজনীতির পথে চলতেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত,দিন কয়েক আগেই বিজেপির ডাকা ধর্মঘট পালনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছিল এই সন্তোষ ভার্মাকে। এমনকি রাস্তায় নেমে পুলিশের লাঠির আঘাতও খেয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় দুর্গাপুরের কর্মী খুনের ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেলও খেটেছেন তিনি। সম্প্রতিই জামিনে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। আর তারপরই রাজ্যরাজনীতিতে শোরগোল ফেলে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন তিনি।

সমালোচকদের বক্তব্য,পুলিশের লাঠির বাড়ি খেয়েই জ্ঞানচক্ষু খুলেছে সন্তোষ বাবুর। তাই জেল থেকে বেরিয়েই তৃণমূলের উন্নয়নে সামিল হলেন।জেলা সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে,কুলটি অঞ্চলে বিজেপি-র যুব সংগঠন তৈরি হওয়ার নেপথ্যে তাঁর অবদান যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে এলাকাবাসীদের অভাব-অভিযোগ শোনা,পাশাপাশি দলীয় প্রচার অভিযান নিয়েও তাকে বেশ সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে।

 

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সেই বিজেপির সক্রিয় একজন নেতা হঠাৎ তৃণমূলে যোগদান করার খবরে রীতিমতো হকচকিয়ে গিয়েছেন জেলা বিজেপি নেতৃত্বরা। কেন সন্তোষ ভার্মা আচমকা লোকসভা ভোটের মুখে দলবদল করলেন? এই প্রশ্নকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে দলীয় অন্দরে।

তবে কেন এভাবে দল পাল্টালেন তার উত্তর টা সন্তোষ বাবু নিজেই দিয়ে দিয়েছেন। কোনোরকম ভণিতা না করেই সরাসরি রাজ্য বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “যে পার্টিতে আমি ছিলাম, তার কোনও নীতি, আদর্শ নেই। যেখানে রাজ্য সভাপতি নিজের দলের লোকেদের না দেখে বার্ণপুরে এসে লিট্টি-চোখা খান। যে কর্মী জেলে থাকে, যে কর্মী মারা যায় তার উপরে রাজনীতি করে, সেই পার্টির কোনও দায়িত্বে থাকার মানে আমি বুঝিনি। তাই দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে আমি তৃণমূলে যোগে দিয়েছি।”

অর্থাৎ সোজা ভাষায় দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিভেদের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে এবং রাজ্য সভাপতির দলীয় নেতা-কর্মীদের গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়ে দলত্যাগ করলেন বিজেপি আইটি সেলের নেতা। এমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞমহল। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ এখানেই শেষ হয়নি সন্তোষবাবু্র।

তিনি আরো দাবী করলেন,তাকে জেলে পাঠানোর চক্রান্ত আসলে বিজেপি নেতাদেরই ছিল। বললেন,আসলে বিজেপির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরাই নীচুতলার কর্মীদের শোষণ করে,প্রয়োজন তাঁদের জেলে পাঠায়,মারধোর করে আর দোষ দেয় তৃণমূলের উপর। এরপর আসানসোলের সাংসদ বাবুল তথা বিজেপি নেতা বাবুল সুপ্রিয় সম্পর্কে তিনি বলেন,বাবুলের মতো সাংসদই আসানসোলের উন্নয়নের সবথেকে বড় বাঁধা।

উল্লেখ্য,গতকাল কুলটির বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে জোড়াফুলের পতাকা তুলো নেন সন্তোষ ভার্মা। তাঁর তৃণমূলে যোগদানের পরই তৃণমূলের তরফ থেকে নিয়ামতপুর নিউরোড মোড় থেকে ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেড সভার সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!