এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফর, জেনে নিন কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফর, জেনে নিন কর্মসূচি



সমগ্র দেশ জুড়ে কেন্দের সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। তার মধ্যে অন্যতম সংশোধিত নাগরিক আইন বিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্র স্থলে পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বস্তুত, বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল সহ শিল্পী-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলা জুড়ে চলছে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এবং সিটিজেনশিপ আমেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট বিরোধী আন্দোলন-বিক্ষোভ, ধরনা অবস্থান। আর এর মধ্যেই আজ কলকাতায় আসছেন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দুইদিনের কর্মসূচির জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই কলকাতা আগমন সেই উপলক্ষে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আজ আনুমানিক বিকেল চারটের সময় কলকাতা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবেন কলকাতার মহানাগরিক তথা রাজ্যের পৌর এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী জনাব ফিরহাদ হাকিম সহ বিভিন্ন শীর্ষ আমলা থেকে শুরু করে আধিকারিকরা।

প্রথম দিনের কর্মসূচি মোতাবেক প্রথমে সাংস্কৃতিক মন্ত্রক দ্বারা আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং পরবর্তীতে রামকৃষ্ণ মিশনের সদরদপ্তর বেলুড় মঠ পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে কলকাতা বিমানবন্দরের সার্ধ শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করবেন। সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা যাচ্ছে, আজ মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী বৈঠক রাজভবনে অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন রকমের কেন্দ্রের কাছে প্রাপ্য রাজ্যের বকেয়া অর্থ সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যাচ্ছে, আজ সন্ধ্যে সাতটার সময় মিলেনিয়াম পার্ক পরিদর্শন করতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেখানেই তার সঙ্গে দেখা হবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আবার আগামীকাল রবিবার কলকাতা বন্দরের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে খবর। এর আগে গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী মানসুখভাই মান্ডোব্য নবান্নে এসে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। জাহাজ বিভাগের দ্বারা আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

শনিবারের অনুষ্ঠান কর্মসূচি সম্পন্ন করার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজভবনে রাত্রি বাস করবেন। তারপরে আগামীকাল রবিবার কলকাতা বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উপস্থিত হবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেখান থেকেই দিল্লি উড়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী বলে খবর। তবে সংশোধিত নাগরিক আইন বিরোধী আন্দোলনের মরশুমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা আগমন বিক্ষোভ কর্মসূচির মুখোমুখি হতে পারে, এই আশঙ্কাতে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফরকে নিরাপত্তার বেড়াজালে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে, বেশ কয়েকটি সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারে।

বিশেষ সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থী সহযোগী সংগঠনগুলো সহকারে 17 টি দল ইতিমধ্যেই বিক্ষোভের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এদের মধ্যে এসইউসি, যুব কংগ্রেস, ছাত্র পরিষদ, এসএফআই, পিডিআর প্রত্যেকটি সংগঠন পৃথক পৃথক ভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন রকম অরাজনৈতিক নাগরিক মঞ্চ কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংগঠিতভাবে দুপুরবেলা কলকাতার নন্দন থেকে শুরু করে রাজভবন পর্যন্ত বিশেষ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছেন কর্মসূচির অংশ হিসেবে।

প্রধানমন্ত্রীকে কালো পতাকা প্রদর্শন সহ নাগরিকত্ব আইন বিরোধিতায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। এছাড়াও তাদের তরফ থেকে মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্তে মানবশৃঙ্খল তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে খোলা চিঠি প্রকাশ করতে চলেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। আবার এনআরসি সহ নাগরিক আইন বিরোধিতায় নরেন্দ্র মোদী গো ব্যাক স্লোগানের সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বেশ কয়েকটি সংগঠন সম্পূর্ণ অন্যরকম ভাবে কলকাতার বিভিন্ন উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দাদের তরফ থেকেও সংশোধিত নাগরিক আইন এবং এনআরসির বিরোধিতা জানিয়ে যাদবপুর 8b বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বুরিয়া টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো থেকে গড়িয়া ও আগরতলা থেকে বেহালার মহাবীর তলা পর্যন্ত সর্বমোট তিনটি জায়গায় সিম্পল তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বাস্তু কলোনির তরফ থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এই সমস্ত কারণে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনের কাছে।

সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সুরক্ষা বাহিনী এসপিজির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথকে সম্পূর্ণ ঝঞ্ঝাটমুক্ত রাখার কারণে শুক্রবার অনেক রাত পর্যন্ত বৈঠক হয়েছে কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যে, কোনো প্রকারের বিক্ষোভকে এড়ানোর জন্য সড়ক পথে না গিয়ে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শনিবার দিন বিকেলবেলা কপ্টারে করে রেসকোর্সে নামানো হবে প্রধানমন্ত্রীকে।

তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ থাকলেও, এমনকি সংশোধিত নাগরিক আইন এবং এনআরসির সবচেয়ে বড় বিরোধীদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন হলেও, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সৌজন্যে প্রদর্শনের কোনো রকমের খামতি রাখতে চান না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকার ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো অনুসারে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একজন প্রধানমন্ত্রীর যতখানি সম্মান প্রাপ্ত, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে ততখানি সম্মান প্রদর্শন করা হবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা সফর যেমন বিভিন্ন বিক্ষোভ প্রদর্শনের কেন্দ্রস্থল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, পাশাপাশি এটাও সত্য, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে যদি কোনো রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তাহলে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে। এমনকি যাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো প্রশ্ন উঠতে পারে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে। মূলত সেই কারণেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নিরাপত্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথ নির্ঝঞ্ঝাট রাখার চেষ্টায় কোনোরকম খামতি রাখা হচ্ছে না। অন্যদিকে আবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আজকের সম্ভাব্য বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে লক্ষ্য করছে বিশ্লেষকরা। সব কিছু মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফর রাজ্য রাজনীতির পরিবেশকে কোনখানে নিয়ে যায়! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!