এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরের প্রথম দিন কি হল! জেনে নিন

প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরের প্রথম দিন কি হল! জেনে নিন



 

একদিকে যখন বিভিন্ন প্রকারের সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সেইসময় নজিরবিহীন বিক্ষোভের সাক্ষী থাকল মহানগরী। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূতপূর্ব সময় কোনো প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতায় মহানগরীতে এইরকম বিক্ষোভ চলছে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বিক্ষোভের আগাম আশঙ্কায় তৎপর ছিল এসপিজি এবং কলকাতা পুলিশ সহ রাজ্য প্রশাসন। সেই কারণেই যে কোনো রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা জালের মোড়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পৌঁছাতে হয় রাজভবনে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানানোর জন্য আগাম উপস্থিত হয়ে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়‌।

প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে রাজ্যের পৌর এবং নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান। পাশাপাশি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এছাড়াও ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম নেতা মুকুল রায় প্রমুখ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

কিন্তু বিভিন্ন রকমের বিক্ষোভের আগাম আশঙ্কা থাকার কারণে আগেই স্থির হয়ে গিয়েছিল যে, সড়কপথের রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হবে না প্রধানমন্ত্রীকে। সেই কারণেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্সে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। রেসকোর্স থেকে গাড়িতে করে রাজভবনে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশের তরফ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার জন্য অনেক আগের থেকেই রাজভবনে যাওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণরূপে ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছিল।

এক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকে কোনো রকমের বাধা যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য বিশেষ নজর রাখা হয়েছিল প্রশাসনের তরফ থেকে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। কোনোরকম ভাবেই নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে যেন বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী যাত্রাপথে না চলে আসতে পারে, সেই কারণে পুলিশের তরফ থেকে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কলকাতা বন্দরের সার্ধশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং অন্যান্য কর্মসূচি নিয়ে দুই দিনের কলকাতা সফরে এসেছেন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মিলেনিয়াম পার্কে অনুষ্ঠানে যোগদান করা, জলপথে বেলুড় মঠ যাত্রা সহ একাধিক নতুন কর্মসূচি পালনের জন্য আগের থেকেই উৎসাহিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

নিজের উচ্ছ্বাসের কথা টুইটের মাধ্যমে প্রকাশ করতেও দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। টুইটারে তিনি বলেন, “আমি আনন্দিত এবং উৎসাহিত যে আজ এবং আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গে কাটাবো।” এদিন রাজভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎকার করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরে রাজভবন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো।” এছাড়াও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের 28 হাজার কোটি টাকা পাওনা আছে। বুলবুলের সাত হাজার কোটি টাকা পাওনা আছে।

এছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন যে, “তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন সিএএ, এনপিআর এবং এনআরসির বিরুদ্ধে। আমরা আমরা চাই সিএএ, এনআরসি বাতিল করা হোক।” তবে প্রধানমন্ত্রীর এদিনের কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন রকমের বিক্ষোভ কর্মসূচি চোখে পড়ে। নন্দন চত্বর থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের একটি মিছিল প্রধানমন্ত্রী কনভয়ের দিকে এগিয়ে আসতে চেষ্টা করলে, রাস্তায় প্রবেশ করার আগেই প্রশাসনের তরফ থেকে মিছিলটি আটকে দেওয়া হয়। অন্যদিকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে চলতে থাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি‌। বিক্ষোভকারীরা রীতিমত রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

অন্যদিকে আবার ভিআইপি রোডে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় বিক্ষোভকারীদের একাংশের। যার জেরে বন্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল‌। রেসকোর্স এলাকার বাইরেও সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরোধিতায় প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে রীতিমতো বিক্ষোভ চলতে থাকে। বিক্ষোভ চলতে থাকে কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু করে গোপাল পার্ক, ধর্মতলা থেকে শুরু করে হাতিবাগান, রাজারহাট থেকে শুরু করে শহর এবং শহরতলীর অন্যান্য প্রান্তে বাম এবং কংগ্রেসের তরফ থেকে কলকাতা বিমানবন্দরের বাইরে কালো বেলুন, কালো পতাকা ইত্যাদি সামগ্রী নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশ।

তবে শহরজুড়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের একাধিক ব্যক্তিত্ব স্বাগত জানাতে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে‌। বিমানবন্দরেই নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ, অর্জুন সিংহ, এবং রাহুল সিনহা। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি রাজভবনে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন করবেন হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, মার্চেন্ট চেম্বার্স অফ কমার্সের প্রতিনিধিদল।

এছাড়াও ভারতীয় জনতা পার্টির নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমূখ ব্যক্তিত্বরা। সব কিছু মিলিয়ে বিমানবন্দর থেকে রাজভবন, যাত্রা বিক্ষোভ থেকে সাক্ষাৎকার সহযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা সফরের প্রথম দিন নানান রকম ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল কল্লোলিনী তিলোত্তমা। এখন প্রধানমন্ত্রীর সফরের দ্বিতীয় দিন কি কি ঘটনার সাক্ষী থাকে রাজ্যের রাজধানী! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!