এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > পার্থর নির্দেশের পরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অব্যাহত! পৌরসভা ভোটের আগে অস্বস্তিতে তৃণমূল!

পার্থর নির্দেশের পরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অব্যাহত! পৌরসভা ভোটের আগে অস্বস্তিতে তৃণমূল!



লোকসভায় অনেক আসনে তৃণমূলকে হারতে হয়েছিল দলের কোন্দলের জেরে।দলের অনেক কর্মী কোথাও প্রার্থীও অপছন্দ, আবার কোথাও বা দলীয় অনেক নেতার কর্মকাণ্ডে জেরে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিজেপির হাতে সেই সমস্ত কেন্দ্র তুলে দিয়েছিল। তবে দলের অন্তর্ঘাত যে ভয়ঙ্কর হতে পারে এবং তা যে শুধুমাত্র নেতায়-নেতায় বনিবনা না হওয়ার কারণে, তা বুঝতে পেরেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। আর তাইতো এবার পৌরসভা নির্বাচনের আগে যে সমস্ত জায়গায় তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে, সেই সমস্ত জায়গায় দলের গোষ্ঠী কোন্দল মেটাতে তৎপর হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে এসে কোনো গোষ্ঠী কোন্দল বরদাস্ত করা হবে না বলে সমস্ত স্তরের নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন তৃণমূল মহাসচিব তথা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

কিন্তু পার্থবাবু সেই নির্দেশ দিয়ে জেলা ছাড়ার পরেই, নেতাকর্মীরা সেই নির্দেশ ভুলে গিয়েছে। যার ফলস্বরূপ মহাসচিব জেলা ছাড়ার সাথে সাথেই এবার ক্ষমতাসীন পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিডিওকে স্মারকলিপি দিলেন তৃণমূলের একটি গোষ্ঠী। বস্তুত, ঝাড়গ্রামের বেলিয়াবেড়া গ্রাম পঞ্চায়েত বর্তমানে তৃণমূলের দখলে রয়েছে‌ যেখানে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রয়েছেন হিমসাগর সিংহ। যিনি প্রাক্তন ব্লক সভাপতি কালীপদ সুরের অনুগামী বলেই পরিচিত। কালিপদবাবুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব রয়েছে বর্তমান ব্লক সভাপতি টিংকু পালের।

এদিন সেই টিঙ্কু পাল এবং জেলা পরিষদ সদস্য স্বপন পাত্রের গোষ্ঠীরা পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে স্মারকলিপি জমা দেন। আর তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে তৃণমূলের নেতারাই স্মারকলিপি জমা দেওয়ায় এখন বিরোধীরা আড়ালে-আবডালে হাসতে শুরু করেছেন। অনেকে বলছেন, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলাপরিষদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষনের অভিযোগ তুলে বিজেপির ডেপুটেশন দেওয়ার কথা।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কিন্তু সেই জায়গায় তৃণমূলের নেতারাই তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ডেপুটেশন দেওয়া বিরোধীদের কাজ অনেকটাই কমে গেল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবেই যদি সর্বত্র চলতে থাকে, তাহলে বিরোধীরা এখন তৃণমূলের এই অর্ন্তকোন্দলকে প্রকাশ্যে শাসকদলের এনে বিড়ম্বনাকে বাড়িয়ে দিতে অনেকটাই সক্ষম হবে। তবে যেখানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় কিছুদিন আগে দুই নেতাকে একসাথে কাজ করার বার্তা দিয়ে গেলেন, সেখানে কেন তারা দলের মহাসচিবের নির্দেশও অমান্য করলেন!

এদিন প্রসঙ্গে দলের পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দেওয়া টিংকু পাল বলেন, “বেলিয়াবেড়া পঞ্চায়েতের উন্নয়নের প্রস্তাব খারিজ করে দিচ্ছে পঞ্চায়েত সমিতি। সেই কারণেই স্মারকলিপি।” অন্যদিকে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দিয়েছেন এই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কালিপদ সুর। এদিন তিনি বলেন, “অভিযোগ ভিত্তিহীন। সব পঞ্চায়েতকে সমানভাবে উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।” সব মিলিয়ে যেভাবে দলের পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে ডেপুটেশন দিতে দেখা গেল হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাকে, তাতে তৃণমূলের শৃঙ্খলা কবে ফিরবে, তা নিয়ে নানা মহলে উঠতে শুরু করল প্রশ্ন।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
Facebook Friends
error: Content is protected !!