এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > পাহাড়ের রাজনীতির সমীকরণ পুরো উল্টে দিতেই পুজোর মুখে বিমলকে কাছে টেনে মাস্টারস্ট্রোক মমতার?

পাহাড়ের রাজনীতির সমীকরণ পুরো উল্টে দিতেই পুজোর মুখে বিমলকে কাছে টেনে মাস্টারস্ট্রোক মমতার?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – রাজনীতির অলিন্দে যে কখন কি ঘটে, তা বোঝা পুরোপুরি দুঃসাধ্য। কিছুদিন আগেই পাহাড়ের অন্যতম ফেরার নেতা বিমল গুরুংকে দেখা গিয়েছিল কেন্দ্রীয় শিবিরের অলিন্দে। এমনকি কেন্দ্রসহ পাহাড়ের নেতাদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আলোচনাও চলছিল। এমন সময় আচমকা চমকপ্রদ পটবদল রাজ্য রাজনীতিতে। পঞ্চমীর সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই দেখা গেল ফেরার নেতা বিমল গুরুংকে শহরের রাস্তায়। শুধু দেখাই গেলনা, তৃণমূল নেত্রীকে পূর্ণ সমর্থনের কথাও শোনা গেল তাঁর গলায়। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে যায় তুমুল সমালোচনা। প্রশ্ন ওঠে, ফেরার নেতার গলায় সমর্থনের সুর নিয়ে আসার পেছনে আসল কারিগরটি কে?

তাহলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই কি একুশের বিধানসভার নির্বাচনের আগে বড়োসড়ো মাস্টার স্ট্রোক খেলে নিলেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে? প্রসঙ্গত, পাহাড়ে বরাবরই স্ট্রং পজিশন রেখেছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহুবার পাহাড়কে কব্জা করার চেষ্টা চালালেও বারেবারে হয়েছেন ব্যর্থ। কিন্তু তাও একুশের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তৃণমূল নেত্রী চালাচ্ছেন পর্যাপ্ত প্রচার উত্তরবঙ্গের মাটিতে। ঠিক সেই সময় বিমল গুরুং হঠাৎ কলকাতার রাস্তায় আত্মপ্রকাশ করলেন এবং জানালেন, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেই দেখতে চাইছেন। মুহুর্তের মধ্যে এই কথা তুমুল আলোড়ন ফেলে দেয় রাজ্য রাজনীতিতে।

অন্যদিকে প্রশ্ন উঠেছে, বিমল গুরুংয়ের উপস্থিতি একুশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরের ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে? লোকসভা ভোটের সময় দেখা গেছে, বিমল গুরুংয়ের নিজস্ব জায়গা পাহাড়ে তাঁর প্রতি নীরব সমর্থন ছিলই মানুষের, বিমল গুরুংয়ের আশেপাশের মানুষজন জানিয়েও দেন গুরুংয়ের পাশেই দাঁড়াবেন তাঁরা। পঞ্চমীর সন্ধ্যায় বিমল গুরুং কলকাতায় বসে জানালেন, রাজ্যের রাজনীতি এবং কেন্দ্রের রাজনীতি দুইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। এমনকি তিনি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য হিসাবে জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কথা রাখেন। কিন্তু দিল্লিতে মোদি এবং অমিত শাহ তাঁদের কথা রাখেন না।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যদি বিমল গুরুং তৃণমূল নেত্রীর সাথে থাকেন, তাহলে অবশ্যই উত্তরের ভোটে তৃণমূল বিশেষ প্রভাব ফেলবে। এবং গুরুংয়ের বার্তাও সে দিকেই ইঙ্গিত করছে বলাইবাহুল্য। এদিন গুরুং জানিয়েছেন, গোর্খাল্যান্ডের দাবি রেখেই 2024 সালের লোকসভা ভোটে যে দল কাজ করবে, তার সাথেই তাঁরা থাকবেন। আপাতত 2021 এ তৃণমূলের সাথে তাঁরা থাকছেন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিমল গুরুং যদি এই মুহূর্তে তৃণমূলের সাথে থাকেন তাহলে অবশ্যই পাহাড়ে দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, ফুলবাড়ী, নাগরাকাটা, আলিপুরদুয়ার অধ্যুষিত এলাকা মিলিয়ে গোটা দশেক আসনে কিন্তু ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে। তবে সব থেকে বড় প্রশ্ন যেটা হল- এবার তাহলে বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে বিনয় তামাং এবং অনিল থাপার সম্পর্কের সমীকরণ কিরকম দাঁড়াবে? প্রসঙ্গত, 2009 সাল থেকে কিন্তু পাহাড়ে বিজেপি জিতছে বিমল গুরুংয়ের সমর্থনে। তবে এবার বিনয় তামাং এবং অনেকটা অনিল থাপার সঙ্গে বিমল গুরুংয়ের নতুন সমীকরণ কি হতে চলেছে, সে ব্যাপারে অবশ্য বিশেষ আলোকপাত করেননি গুরুং।

এমনকি পাহাড়ের নেতারাও বিশেষ কোনো মন্তব্য করেননি গুরুং সম্পর্কে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র সতীশ পোখরেল এদিন জানিয়েছেন, বিমল গুরুং চেয়ারের রাজনীতি করতেই পাহাড়ে আসতে চলেছেন। একইভাবে কেন্দ্রীয় মুখপাত্র কেশবরাজ পোখরেল বিমল গুরুংকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সবমিলিয়ে পাহাড়ের রাজনীতি এই মুহূর্তে চূড়ান্ত নাটকীয় মুহুর্তের সামনে। অন্যদিকে বিমল গুরুংয়ের মন্তব্য নিয়ে এখনো পর্যন্ত রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পঞ্চমীর সন্ধ্যায় বিমল গুরুংয়ের ভোলবদল বাংলার গেরুয়া শিবিরকে যে চাপে ফেলতে চলেছে, সে ব্যাপারে নিঃসন্দেহ সবাই।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!