এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ধন্যবাদ মোদীজীকে হজ ভর্তুকি বন্ধের নামে ভাঁওতাবাজি ঘোষণার জন্য: নুরুল ইসলাম

ধন্যবাদ মোদীজীকে হজ ভর্তুকি বন্ধের নামে ভাঁওতাবাজি ঘোষণার জন্য: নুরুল ইসলাম



সত্যি আমি অন্তত এ বিষয়টি সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানতাম না। শুধু শুনে এসেছি হজে নাকি সরকারের তরফ থেকে ভর্তুকি দেয়। শুনে খুব খারাপ লাগতো। কিন্তু বিষয়টি সেভাবে তলিয়ে দেখিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করল যে আর হজে কোন ভর্তুকি দেওয়া হবে না। তখন মনে একটা সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে সত্যিই কি সরকার হজে ভর্তুকি দেয়?

সরকারি মানে হজ কমিটি নামে যে চামচা কমিটি আছে তাদের বিভিন্ন সময়ের নির্দেশিকা দেখে অবাক হলাম।

এবার চলুন তাদের আদেশ নামা একটু দেখি। আপনারা জানেন হজে যারা যান তাদের দুটি ক্যাটাগরি থাকে, Green ও Aziziya।

Green অর্থ পবিত্র কাবা ঘরের খুব সন্নিকটে যাদের থাকার ব্যবস্থা হয়। অপরটি একটু দুরে। ২০১৭ সালে আজিজিয়ার জন্য দিল্লি থেকে একজন হাজির কাছ থেকে মোট ২,০৩,৫৫০ টাকা নেওয়া হয়।

খরচ হিসাবে দেখান হয় , বিমান ভাড়া ৬৭,৪১৯ টাকা।মক্কা ও মদিনায় থাকার জন্য ৫৬,৭৪৪ টাকা। সেখানে কিন্তু একই ঘরে মহিলা ও পুরুষদের যাকে বলে গাদাগাদি করে রাখা হয়। সৌদি আরবে নিজ দায়িত্বে খাওয়ার জন্য দেওয়া হয় ৩৪,০০০ টাকা।যাতায়াত ও মুয়াল্লেমের জন্য ১১,৭৬৪ টাকা। এই মুয়াল্লেমদের দায়িত্ব হজ ঠিক মোট হচ্ছে কিনা তার পুরো তত্বাবধান করা। কিন্তু ওখানে তাদের টিকিটাও দেখা মেলে না। তাহলে মোট ১,৬৯,৯২৭ টাকা। আর নেওয়া হয়েছিল ২,০৩,৫৫০ টাকা। মোট খরচ বাদ দিলে ৩৩,০৭৩ টাকা উদ্বৃত্ত হচ্ছে যার কোন হিসাব নাই। তার অর্থ এই টাকা সোজা মেরে দেওয়া হোল।

গত বছর ১,৭০,০০০ হজে যান।তাহলে দেখা যাচ্ছে ৫৬২ কোটি টাকা যারা হজে গিয়েছিলেন তাদের পকেট কাটা হয়েছে। তাহলে ভর্তুকি কোথায় দেওয়া হোল? এর চেয়ে ভাঁওতাবাজি আর কি হতে পারে?

এবার দিল্লি থেকে রিয়াধের ভাড়া দেখুন। আসা এবং যাওয়া মিলিয়ে ২৬ হাজার টাকা। সেখানে কতো নেওয়া হয়েছিল ৬৭,৪১৯ টাকা মানে ৪১ হাজার ৪১৯ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছিল।

২০১২ সালে সরকারি হিসাবে ভর্তুকি বলা হয় ৮৩৭ কোটি টাকা আর ২০১৭ সেটা বলা হোল ৪০৫ কোটি টাকা। হাজি পিছু ২৩ হাজার টাকা। সেটা কাকে দেওয়া হোল এয়ার ইন্ডিয়া কে। তার অর্থ আগেই হাজিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়া হয় ৪১হাজার ৪১৯ টাকা। সোজা কথায় ৭ হাজার৪১ কোটি টাকা আর একদফা পকেটমারি করা হোল। আর এই ২৩ হাজার টাকা যোগ করলে ৬৪,৪১৯ টাকা প্রতিটি হাজি বাবদ এয়ার ইন্ডিয়া কে ভর্তুকি হিসাবে দেওয়া হোল। তাহলে আগের ৫৬২ কোটি যোগ করলে মোট ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকার পকেট মারি হোল।

তাহলে দেখুন আগের সরকার আর বর্তমান সরকার মুসলিমদের নামে কিভাবে ভাঁওতাবাজি করে যাচ্ছে। কোন মুসলিম হজে যাওয়ার জন্য কোনদিন কোন সরকারের কাছে আবেদন করেছে। তারা জানেনই না যে তাদের নামে এয়ার ইন্ডিয়া কে ভর্তুকি দেওয়া হয় আর তাদের এইভাবে পকেট মারি চলছে।

হিসাব – দিল্লি থেকে সৌদি আরব
আজিজিয়া-২০১৭, হাজি প্রতি দেয় ২,০৩,৫৫০ টাকা

খরচ-বিমান ভাড়া- ৬৭,৪১৯ টাকা
মক্কা মদিনায় থাকা-৫৬,৭৪৪ টাকা
যাতায়াত ও মুয়াল্লেম- ১১,৭৬৪ টাকা
খাবার বাবদ দেয়- ৩৪,০০০ টাকা
মোট খরচ-১,৬৯, ৯২৭ টাকা

উদ্বৃত্ত ৩৩,০৭৩ টাকা
মোট হাজি-১,৭০,০০০
মোট উদ্বৃত্ত ৫৬২ কোটি টাকা

সাধারণ বিমান ভাড়া দিল্লি-রিয়াধ এবং ফেরা-২৬,০০০ টাকা
বিমান ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে- ৪১ হাজার ৪১৯ টাকা
মোট -১,৭০,০০০x৪১,৪১৯= ৭ হাজার ৪১ কোটি টাকা

মোট নিল- ৭ হাজার৪১ কোটি টাকা+ ৫৬২ কোটি টাকা= মোট ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা

প্রশ্ন একটাই, ভর্তুকি কোথায়?

( সমস্ত তথ্য Haj Committee of India Circular No-13 Dated 29.05.2017 থেকে নেওয়া)

নুরুল ইসলাম
সমাজসেবক

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!