এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > নার্সিংহোমের লক্ষ লক্ষ কামাই, কালোবাজারি চরমে? বিস্ফোরক সব অভিযোগ নিয়ে সরব তৃণমূলের মদন!

নার্সিংহোমের লক্ষ লক্ষ কামাই, কালোবাজারি চরমে? বিস্ফোরক সব অভিযোগ নিয়ে সরব তৃণমূলের মদন!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – তার দলের নেত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দলের অনুগত সৈনিক তিনি। কিন্তু সেই অনুগত সৈনিক হয়েও, এবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে কার্যত বিস্ফোরক হতে দেখা গেল কামারহাটির নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে। যে ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে।

জানা গেছে, শনিবার একটি ফেসবুক লাইভ করে নার্সিংহোমের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় রাজ্যের এই প্রাক্তন মন্ত্রীকে। যেখানে অনেক নার্সিংহোমে অক্সিজেন ব্ল্যাক হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই তৃণমূল বিধায়ক। আর প্রকাশ্যে ফেসবুকে তার এই অভিযোগ যে রাজ্যের সরকার এবং স্বাস্থ্য দপ্তরকে যথেষ্ট বিড়ম্বনার মুখে ফেলে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনামে উঠে আসতে দেখা যায় মদন মিত্রকে। কখনও গান করে, আবার কখনও বা শাসানি দিয়ে মাঝেমধ্যেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। কিন্তু এবার ফেসবুক লাইভে নার্সিংহোমের একাংশের বিরুদ্ধে তার বিস্ফোরক অভিযোগ রীতিমত চাঞ্চল্য তৈরি করল। সূত্রের খবর, শনিবার রাতে এক ফেসবুক লাইভে মদন মিত্র বলেন, “একদিকে রেমডিসিভির ব্ল্যাক হচ্ছে, অক্সিজেন ব্ল্যাক হচ্ছে। আর এক দিকে এক একটা নার্সিংহোম গত 100 বছরে এই ব্যবসা করেছে কিনা কে জানে। হাসপাতালে নেই, কোনো কোনো নার্সিংহোম দিনে এক লক্ষ লক্ষ টাকা নিচ্ছে। আমি জানি, কোন কোন নার্সিংহোমে এই কাজ করছে। কিন্তু কারও নাম বলব না। কারণ কেউ আমার শত্রু নয়। এমন বহু নার্সিংহোম আছে, যারা বাড়ির লোকের সামনে দেখাচ্ছে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। কিন্তু যেই তারা চলে যাচ্ছে, অমনি জেনারেল বেডে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ব্রেন ড্রেথের পরেও বলা হচ্ছে, কেমো চলছে, লাইফসাপোর্টে আছে, ভেন্টিলেটরে আছে।”

এদিকে মদন মিত্র নার্সিংহোম পরিষেবার বিরুদ্ধে এইরকম বিস্ফোরক অভিযোগ করায় রীতিমত তা অনেকের কাছে হাতিয়ার হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এদিন এই প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের নেতা ফুয়াদ হালিম বলেন, “মদন মিত্র শাসকদলের বিধায়ক। সরকারের অংশ। তার থানায় অভিযোগ করা উচিত। রাজ্যের একজন জনপ্রতিনিধি এই অভিযোগ করছেন। তাও আবার শাসকদলের। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করানো।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, বেশ কিছুদিন আগেই রাস্তায় নেমে হাসপাতাল পরিষেবা নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা গেছে মদন মিত্রকে। মন্ত্রী থাকার সময় ভাড়া বৃদ্ধি থেকে শুরু করে যে কোনো জায়গায় অন্যায় দেখলেই শাসন করতে দেখা যেত তাকে। যা মাঝেমধ্যেই ভাইরাল হয়ে যাওয়ার কারণে অস্বস্তির মুখে পড়তে হত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে। আর তৃতীয়বার তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মদন মিত্র মন্ত্রী হবেন বলে নানা মহলে জল্পনা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত তার ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি।

তবে তিনি যে নিজের মতনই আছেন, তা নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় করে কার্যত বুঝিয়ে দিলেন মদন মিত্র। কামারহাটি তৃণমূল বিধায়কের প্রকাশ্যে এই মন্তব্য রাজ্যের শাসক শিবির এবং স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিড়ম্বনাকে যে অনেকাংশে বৃদ্ধি করল, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!