এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > এবার নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে এবার এই মন্ত্রীকে ময়দানে নামাচ্ছে তৃণমূল, জানুন বিস্তারিত!

এবার নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে এবার এই মন্ত্রীকে ময়দানে নামাচ্ছে তৃণমূল, জানুন বিস্তারিত!



বিগত দিনে সংশোধিত নাগরিকায়ন ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলেছে আন্দোলন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ চললেও, কিছু কিছু সংগঠনের তরফ থেকে হিংসাত্মক আন্দোলনে নামা হয়। বিগত দিনে যে সময় সংসদে সিটিজেনশিপ আমেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট পাস হয়েছিল, কার্যত তখন থেকেই রাজ্যজুড়ে এই আইনের বিরোধিতায় বিভিন্ন রকম আন্দোলন কর্মসূচি লক্ষ্য করে গিয়েছিল বাংলায়।

কিন্তু তখন রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যতম মন্ত্রী মৌলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এবং তার রাজনৈতিক দল জমিয়ত উলেমায়ে হিন্দ কোনরকম বড়সড় আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেনি। সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরুদ্ধে। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনেক বদল ঘটেছে। প্রথম দফাতে যে সমস্ত হিংসাত্মক আন্দোলনের রাজ্য প্রশাসন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল, সেই আন্দোলনকে কোণঠাসা করতে সক্ষম হয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

তাই এখন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফ থেকে মাঠে নামতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এবং তার দল জমিয়তে উলামায়ে হিন্দকে। আর সেই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই বিন্দুমাত্র সময় না নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় আন্দোলনে নামতে চলেছে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর পার্টি বলে খবর। জানা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে সিদ্দিকুল্লা সাহেব এবং তার দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অতি শীঘ্রই সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরোধিতা করে বড়সড় আন্দোলনে নামতে হবে তাদেরকে। এক্ষেত্রে অবশ্য শান্তিপূর্ণ কায়দায় আন্দোলন চালানোর কথা বলা হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের পক্ষ থেকে। আর তৃণমূল নেতৃত্বের কাছ থেকে এই নির্দেশ পাওয়ার পরেই জোরকদমে মাঠে নেমে পড়েছে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আগামী 23 জানুয়ারি থেকে শুরু করে 25 জানুয়ারি এন্টালী রামলীলা ময়দানে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরোধিতা করে অবস্থান-বিক্ষোভে নামতে চলেছে জমিয়ত উলেমায়ে বলে খবর। এই বিষয়ে সিদ্দিকুল্লা সাহেবের দলের পক্ষ থেকে গত সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরোধিতা করে আগামী 23 জানুয়ারি থেকে 25 জানুয়ারি পর্যন্ত যে অবস্থান হতে চলেছে, সেই অবস্থানে নেতৃত্ব দেবেন পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার ন্যূনতম মন্ত্রী মৌলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

এক্ষেত্রে অবশ্য সংগঠনের তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বরাবরই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে এসেছে জমিয়ত। তাই এই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও শান্তিপূর্ণ কায়দাই বহাল থাকবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিগত দিনে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে যখন বাংলা জুড়ে বিভিন্ন রকমের হিংসাত্মক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তখন অনেকাংশেই সেই আন্দোলনের পিছনে সিদ্দিকুল্লা সাহেবের দল জমিয়তে উলেমায়ের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল। সেই কারণেই পুনরায় যেন এই সংগঠনের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ না ওঠে, তাই দলের বিবৃতিতে রীতিমতো উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা হবে। কিন্তু অনেকেই বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের ব্যানারে আন্দোলন করতে করতে হঠাৎ করে কেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর দলকে ময়দানে নামতে বলল! এক্ষেত্রে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, কয়েকদিন আগেই কলকাতা সফরে এসেছিলেন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেইসময় রাজভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠকও করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় শাসক দলের তরফ থেকে এবং স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করাটা তার সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

তাছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন বলেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রাজ্যের অন্যান্য বিরোধী দল যেমন বাম এবং কংগ্রেসের তরফ থেকে বারবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার প্রসঙ্গে রাজনৈতিকভাবে খোঁচা দেওয়া হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী- প্রধানমন্ত্রী বৈঠক নিয়ে চাপা অসন্তোষ জন্ম নিয়েছে বলেও বিশেষ সূত্র মারফত খবর পাওয়া যায়। আর এরকম পরিস্থিতিতে তাই সংশোধিত নাগরিক আইন এবং এনআরসির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের আপোষহীন লড়াইকে জোর দেওয়ার জন্যই এবার সিদ্দিকুল্লা সাহেবের জমিয়ত উলেমায়ে হিন্দকে আসরে নামতে নির্দেশ দিতে দেখা গেল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে।

আর এর এই কর্মসূচির মধ্যেই রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মনের অসন্তোষ দূরীভূত করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশে আন্দোলনে নামার ব্যাপারটাকে স্বীকার করতে চাননি জমিয়তে উলামায়ের মুখপাত্র। এদিন তিনি বলেন, “জমিয়তে উলেমায়ে একটি স্বাধীন সংগঠন। গত 22 ডিসেম্বর কলকাতায় তারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করে বড় সভা করেছিল। তারপর সংগঠনের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, 23 তারিখ থেকে তিন দিন গন অবস্থান হবে রামলীলা ময়দানে।”

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশ এও মনে করছেন যে, ইতিমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী 22 জানুয়ারি সংশোধিত নাগরিক আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে রায়দান করা হবে। আর এই রায় যদি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রণয়ন করা সংশোধিত নাগরিক আইনের স্বপক্ষে চলে যায়, সেই ক্ষেত্রে 25 তারিখ পরবর্তী আন্দোলন কতটা প্রাসঙ্গিক হবে! তা নিয়ে রীতিমত প্রশ্ন রয়েছে। এখন আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্ট কি রায় দেয় এবং তারপর এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কি হয়! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!