এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > নাগরিকত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে এল পাচটি যোগ্যতা, কি কি! জেনে নিন বিস্তারিত

নাগরিকত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে এল পাচটি যোগ্যতা, কি কি! জেনে নিন বিস্তারিত



 

গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরের পরে সারা দেশজুড়ে কার্যকর হয়ে গেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। কিন্তু এই বিল কার্যকর হওয়ার পরেও বিভিন্ন রাজ্যে তার বিরোধিতায় সরব হতে দেখা গেছে রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনকে। বাংলা থেকে শুরু করে অসম, ত্রিপুরা সর্বত্রই এই আইনের বিরুদ্ধে রীতিমতো সরব হয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

আর এর মাঝেই গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে ভারতের নাগরিকত্ব আইনে কারা কারা নাগরিক হতে পারবেন, সেই প্রসঙ্গে পাঁচটি যোগ্যতা প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, যার প্রথমে বলা হয়েছে, 1955 সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, প্রথম দফার অন্তর্গত 5 নম্বর অনুচ্ছেদে জন্মগতভাবে ভারতের নাগরিকত্বের কথা বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী 1950 সালের 26 শে জানুয়ারির মধ্যে যে কোনো ব্যাক্তি ভারতে জন্মগ্রহণ করলে, তিনি এদেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। তাই কোনো পরিবারের পূর্বপুরুষ যদি 1950 সালের 26 শে জানুয়ারি পরে এবং 1987 সালের পয়লা জানুয়ারির আগে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন, তবে আইনসম্মতভাবে তিনি ভারতীয়।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, 1987 সালের 1 জানুয়ারি থেকে 2004 সালের 3 ডিসেম্বরের মধ্যে যদি কেউ ভারতে জন্মগ্রহণ করেন, অথবা তাঁর অভিভাবকেরা ভারতের নাগরিক হন, সেক্ষেত্রে তিনি জন্মগতভাবে এই দেশের নাগরিক হবেন। আবার 2004 সালের 3 ডিসেম্বর যদি কারও জন্ম হয়, সেক্ষেত্রে সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানানো হয়েছে, সেই ব্যক্তির উভয় অভিভাবককেই ভারতের নাগরিক বা তাদের মধ্যে কেউ জন্মের সময় অবৈধ অভিবাসী ছিলেন না ও অন্য একজন ভারতের নাগরিক। আর এরকম তথ্য থাকলে তারাও জন্মগত দিক থেকে ভারতের নাগরিকত্ব লাভ করবেন।

যোগ্যতার তৃতীয় ধারায় বলা হয়েছে, বংশগত দিক থেকে দ্বিতীয় নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তি ভারতের বাইরে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, বা 1950 সালের 26 জানুয়ারি কিন্তু 1992 সালের 10 ডিসেম্বরের আগে যদি কোনো ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেন, তবে তিনি বংশগতির দিক থেকে ভারতীয় হবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্য তার বাবাকে জন্মগতভাবে ভারতীয় হতে হবে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এক্ষেত্রে নাগরিকত্বের নির্ণয়ের যোগ্যতায় বলা হয়েছে যে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি, যিনি সাধারণত কারণে আবেদন করার আগে সাত বছর ভারতে বসবাস করেছেন, তিনি নাগরিক হিসেবে নথিভূক্ত হওয়ার যোগ্য। আবার যোগ্যতার চতুর্থ ধারায় উল্লেখ করা রয়েছে, নথিভুক্তির কারণে আওতার নাগরিকত্ব নীতিতে কোনো ব্যক্তি, যিনি ভারতীয় নাগরিক। তার শিশুও ভারতের নাগরিকত্ব পাবে। পূর্ণবয়স্ক এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি, যার পিতা মাতা ভারতের নাগরিক হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন, তারা ভারতের নাগরিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার যোগ্যতা পাবেন।

তাছাড়াও যদি কোনো পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি যার যোগ্যতা রয়েছে, তিনি যদি ভারতে 12 বছর বসবাস করেন, তবে তাকে নাগরিকত্ব অর্জনের শংসাপত্র দেওয়া হবে। একইভাবে যোগ্যতার পঞ্চম ধারা অনুসারে, ভূখণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে নাগরিকত্বের বিধানে বলা হয়েছে, যদি কোনো নতুন অঞ্চল ভারতের অংশ হয়ে যায়, সরকার সেই অঞ্চলের ব্যাক্তিদের নির্দিষ্ট করে দেবে যে, তাদের ভারতের নাগরিক হতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করার পরই এই জাতীয় ব্যক্তিরা ভারতের নাগরিক হয়ে ওঠেন।

জানা গেছে, ভূতপূর্বকালে এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল গোয়া থেকে শুরু করে এবং বাংলাদেশি ছিটমহলের ক্ষেত্রে। যে সমস্ত বাংলাদেশি ছিটমহল 2014 সালে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের নাগরিক হওয়ার ক্ষেত্রে যে পাঁচটি ধারা উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে আরও সহজ করে জনগণের কাছে পেশ করা উচিত।

কারণ নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী নিয়ে গোটা ভারতবর্ষে রাজনীতির পারদ যে জায়গায় পৌঁছেছে, সেই জায়গায় কিন্তু যে কোনো জটিল শব্দ বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। যার জেরে আদতে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতবর্ষের কেন্দ্রীয় সরকার। তাই সেই সমস্ত দিক বিবেচনা করে আগামী দিনে মানুষের বোধগম্য সহজ ভাষায় নাগরিকত্ব আইনের যোগ্যতা পেশ করা উচিত কেন্দ্রীয় সরকারের বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!