এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > নদীর ভাঙনে তীব্র সঙ্কটে আলিপুরদুয়ার! তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক জমি! পরিদর্শনে তৃণমূল বিধায়ক

নদীর ভাঙনে তীব্র সঙ্কটে আলিপুরদুয়ার! তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক জমি! পরিদর্শনে তৃণমূল বিধায়ক



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – গত জুন মাসে প্রবল বর্ষণে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল বন্যার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল বেশ কিছু অঞ্চলে। এবার নদীর ভাঙ্গনে বিপর্যস্ত হল উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার একটি গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে পোড়ো নদীর ভাঙ্গনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার ফোস্কারডাঙা গ্রাম। সম্প্রতি, পোড়ো নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে ফোস্কারডাঙ্গা গ্রামের দিকে ক্রমশ ধেঁয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই গ্রামের অভ্যন্তরে ২ কিমি বিস্তীর্ণ অঞ্চল পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে এই নদী।

নদীর এই গ্রাসে ভীষণভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে এই নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি লিখিতভাবে অবগত করেছেন রাজ্যের সেচ দপ্তরকে, সেইসঙ্গে নদীর ভাঙ্গন থেকে গ্রামকে রক্ষা করতে আর্জি জানিয়েছেন। গতকাল আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী এই স্থানটি পরিদর্শন করেন ও রাজ্য সেচ দপ্তরকে বিষয়টি অবগতও করেন।

পোড়ো নদীর এই ভাঙ্গন সম্পর্কে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে জানিয়েছেন, এবারের বর্ষার মরসুমে আলিপুরদুয়ারে যখন একটানা একনাগাড়ে বৃষ্টি ছিল সেসময় এই নদীটিতে তেমন একটা ভাঙ্গন দেখা যায়নি। কিন্তু বৃষ্টির পরিমান কিছুটা হ্রাস পেতেই এই পোড়ো নদী পুরনো গতিপথ পরিবর্তন করে বনচুকামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ফোস্কারডাঙা গ্রামের দিকে ক্রমশ আস্তে শুরু করেছে।

সম্প্রতি প্রায় ২ কিমি এলাকা নদী গ্রাস করেছে। নদীর এই গ্রাস প্রসঙ্গে আতংকিত হয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, এখনই যদি সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তবে সম্পূর্ণ গ্রামটিই নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, নদীর এই ভাঙ্গন রোধের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি রাজ্যের সেচ দপ্তরকে।

নদীর এই গ্রাস এর ফলে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন ফোস্কারডাঙা গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, নদীর এই করাল গ্রাস ইতিমধ্যেই এই গ্রামের পাঁচ বিঘা তিন ফসলি জমি জলের তলায় চলে গেছে। শুধু যে চাষের জমি নষ্ট হয়েছে তাই নয়, গ্রামের বহু বাস, সুপারি ও সেগুন কাঠের বাগান পর্যন্ত নদীর গ্রাসে চলে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মহেশ রায়, নৃপেন বর্মন প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, তাদের এই গ্রামের মাটি যথেষ্টই উর্বর।

আর জমি উর্বর বলেই এই গ্রামটি তিন ফসল সমৃদ্ধ একটি গ্রাম। সারাবছর ধরে নানা ধরনের কৃষি কৃষি ফসল এখানে উৎপাদিত হয়ে থাকে। আর এখানকার ফসল পৌঁছায় আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন হাটগুলোতে। কিন্তু বর্তমানে পোড়ো নদীর আগ্রাসনে গ্রামের বহু আবাদি জমি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনই যদি সরকার উপযুক্ত কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আরো বড়োসড়ো বিপদের আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

পোড়ো নদীর এই ভয়াবহ ভাঙ্গনে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ফোস্কারডাঙা গ্রামের পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মকর্তাদেরও। প্রসঙ্গত বনচুকামারি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও সেই সঙ্গে প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী পায়েল ঘোষ সাহা জানিয়েছেন যে, স্থানীয় পঞ্চায়েত এর তরফ থেকেও এই বিষয়টি জেলা পরিষদকে বিশেষভাবে অবগত করানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত ফোস্কারডাঙা গ্রামের এই ভাঙনে চিত্র দেখার পর রাজ্য সেচ দপ্তরকে এই ভাঙন রোধের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিলেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ” সেচ দপ্তরকে পোড়োর ভাঙন আটকাতে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আমি নিজে এদিন এলাকায় ঘরে মানুষের দুর্ভোগ দেখে এসেছি।”

অন্যদিকে আলিপুরদুয়ার জেলার সেচ দপ্তরে ডিভিশনের জনৈক বাস্তুকার প্রিয়ম গোস্বামী এ প্রশ্নে বলেছেন, ” ফোস্কারডাঙায় পোড়ো নদীর ভাঙনের বিষয়টি আমাদের গোচরে আছে। জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে এখন কিছু করা যাচ্ছে না। তবুও আমরা বিষয়টি দেখছি।”

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!