এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মুখ্যমন্ত্রীর ‘প্রাপ্য নোবেল’ ছিনিয়ে নিলেন প্রধানমন্ত্রী? শুরু তীব্র চাপান-উতোর!

মুখ্যমন্ত্রীর ‘প্রাপ্য নোবেল’ ছিনিয়ে নিলেন প্রধানমন্ত্রী? শুরু তীব্র চাপান-উতোর!



আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালু করায় নোবলে শান্তি পুরস্কার জন্য মনোনীত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই পুরস্কারটির জন্য তাঁর নাম মনোনীত করলেন তামিলনাড়ুর বিজেপি সভাপতি তামিলিসাই সৌন্দারাজন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই খুশির হাওয়া গেরুয়াশিবিরে। যেভাবে লোকসভা ভোটের আগে নানান বিতর্কে বিজেপির নাম জড়াচ্ছে, তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ভরসা হারাচ্ছে আমজনতা বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। সঙ্গে, ক্রমাগত পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ইস্যু তো রয়েছেই।

এছাড়াও – কালো টাকা, নোটবন্দি, বেকার সমস্যা ইত্যাদি নানা ইস্যুকে হাতিয়ার বানিয়ে বিরোধীরা লাগাতার আক্রমণ শানাচ্ছে মোদীসরকারকে। এমতাবস্থায় নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নের খবর বিজেপির ভাবমূর্তিকে আরো স্বচ্ছতার সঙ্গে আমজনতার সামনে আনল বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। যে জনস্বার্থমুখী প্রকল্পগুলোকে নরেন্দ্র মোদী লোকসভা ভোটের প্রচারে কাজে লাগাবেন বলে মনে করা হচ্ছে, এবার তার জন্যেই যদি তাঁর মুকুটে আরেকটা সম্মানের পালক যোগ হয়, তাহলে বিজেপি জয়ের দিকে আরো এক কদম এগিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, বিশ্বের সবথেকে বড় স্বাস্থ্য প্রকল্প, জন আরোগ্য যোজনা আয়ুষ্মান ভারত চালু করার জন্য – ২০১৯ এর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মনোনীত হয়েছেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রীর একটি অসামান্য প্রকল্প। এতে লক্ষাধিক মানুষের জীবন বদলে যাবে। বিশেষত পিছিয়ে পড়া নীচু তলার মানুষেরা অনেক উপকৃত হবে – এমনটাই বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর বিজেপি সভাপতির স্বামী অধ্যাপক পি সৌন্দারাজন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজির বিভাগীয় প্রধান। তামিলিসাই সৌন্দারাজনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে মনোনীত করেছেন পি সৌন্দারার্জনও – বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানানো হয়েছে। ২০১৯ এর ৩১ শে জানুয়ারী মনোনয়নের শেষ দিন হিসাবে জানানো হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও সেপ্টেম্বরে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বা সংসদ সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রীকে মনোনীত করতে পারেন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই হেল্থ স্কীমের মাধ্যমে যারা উপকার পাবেন তাঁদের সংখ্যা কানাডা, মেক্সিকো এবং আমেরিকার সম্মিলিত জনসংখ্যার সমান বলে জানানো হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

তবে নোবেল-শান্তি পুরস্কারের জন্য নরেন্দ্র মোদীর এই মনোনয়নকে ভালোভাবে মেনে নিচ্ছে না রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যসরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অনুকরণ করে তিনি নাম কুড়াতে চাইছেন বিশ্বের দরবারে – এমনটাই বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের। তৃণমূলের যুক্তি, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প আগে পশ্চিমবঙ্গে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। তারপর প্রধানমন্ত্রী সেই স্কিম চালু করেছে কেন্দ্রে। তাই স্বাস্থ্য প্রকল্পের জন্য নরেন্দ্র মোদীর নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নোবেল-শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া উচিৎ। বিজেপি ক্ষমতার অপব্যাবহার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অন্যায় করছে, অধিকার কেড়ে নিয়ে – দাবী তৃণমূলের।

আর এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে নরেন্দ্র মোদী-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টক্কর আরো প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই জল্পনা রাজনৈতিকমহলের। কারণ যেভাবে নরেন্দ্র মোদীর এই নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের খবরকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে, তাতে বিজেপি-তৃণমূলে প্রকাশ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অযৌক্তিক কিছু নয়। তাছাড়া এটাকে ইস্যু করে লোকসভার নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে পারে তৃণমূল, এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহালমহল। সব মিলিয়ে নোবেল-শান্তির পুরস্কার ঘিরে তীব্র চাপান-উতোর শুরু রাজনীতির আঙিনায়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!