এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > কোথাও না থেকেও আসন্ন নোয়াপাড়া উপনির্বাচনে আজও ‘তিনিই ফ্যাক্টর’

কোথাও না থেকেও আসন্ন নোয়াপাড়া উপনির্বাচনে আজও ‘তিনিই ফ্যাক্টর’



২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে যখন রাজ্যজুড়ে ঘাসফুল ঝড় চলছে তখন তা থমকে গিয়েছিল কলকাতার অদূরে নোয়াপাড়াতে এসে। ২০১১ জয়ী শাসকদলের বিধায়ক মঞ্জু বসুকে হারিয়ে দিয়েছিলেন বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী মধুসূদন ঘোষ। সেই জয়ে যত না বাম-কংগ্রেসের জোটের জোড় ছিল, যত না শাসকদলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল (মঞ্জু দেবী পরবর্তীকালে সেরকমই দাবি করেন তাঁর হারের কারণ হিসাবে) তার থেকেও বেশি ছিল মধুসূদনবাবুর ভাবমূর্তি। জীবনে একটাও নির্বাচনে হারেননি তিনি। মধুসূদনবাবু দীর্ঘদিন উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার কাউন্সিলার ছিলেন, পরে চেয়ারম্যানও হন। তবে, ভোটের প্রচারে কখনও দেওয়াল লিখন পছন্দ করতেন না তিনি। তবুও, জীবনে কোনো নির্বাচনেই তাঁকে হারাতে পারেননি বিরোধীরা। গত বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় অনুগামীদের প্রবল আব্দারের কাছে নতিস্বীকার করে শেষপর্যন্ত দেওয়াল লিখনে রাজি হন, কিন্তু বিধায়ক হওয়ার পরেও তিনি সাইকেল, বাসে চড়ে ঘুরে এলাকার মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করতেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন। তাঁর বিধায়ক কোটার সিংহভাগ টাকা তিনি মোহনপুর, শিউলি পঞ্চায়েত এলাকার উন্নয়নে দিয়েছেন। পুরসভা এলাকাতেও তিনি বহু টাকা দিয়েছেন। তাঁর এই সহজ, সরল জীবনের জন্য তিনি এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ডান, বাম সব দলই তাঁকে গান্ধীবাদী নেতা হিসাবে মানতেন। আর তাই তাঁর মৃত্যুর পর এবার উপনির্বাচনেও তিনি সর্বত্র বিরাজমান।

আর তাঁর জনপ্রিয়তাতে ‘ভর’ করেই এবারের নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে গতবারের জোটসঙ্গী বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস দু দলই। বছর দেড়েক আগে হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে জোট করলেও, এবার পৃথক ভাবে প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। কংগ্রেস প্রার্থী গাড়ুলিয়া পুরসভার কাউন্সিলার গৌতম বসু এলাকা চেয়ে দিয়েছেন পোস্টার, ফেস্টুনে – আর সব জায়গাতেই মধুসূদনবাবুর উজ্জ্বল উপস্থিতি। সেখানে লেখা, স্বর্গীয় বিধায়ক মধুসূদন ঘোষের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে গৌতম বসুকে ভোট দিন। গৌতমবাবু মুখেও বলছেন, এই কেন্দ্রে আমি দলের প্রার্থী হলেও মধুবাবু আমাদের সব, তিনি মাত্র ১৪ মাস সময়ে যা উন্নয়ন করেছেন তা এলাকার মানুষ পরখ করেছেন। সেই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আমরা তাঁকে সামনে রেখেই নির্বাচনে লড়ছি, ফলে মানুষ এখানে মধুবাবুকে দেখেই ভোট দেবেন। গৌতম বাবুর কথা নাহয় বোঝা গেল, তিনি কংগ্রেস প্রার্থী তাই প্রয়াত কংগ্রেস প্রার্থীর নাম ব্যবহার করছেন। কিন্তু প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী বামফ্রন্ট? এলাকায় গেলে বামপ্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে যেসব দেওয়াল লিখন চোখে পড়ছে, সেখানেও শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রয়াত মধুসূদনবাবুর নাম জ্বলজ্বল করছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে বিতর্ক উড়িয়ে বাম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মধুবাবুর সহজ, সরল জীবন আমাদের কাছে আদর্শ, আমরা তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা করি। তিনি জোটের প্রার্থী ছিলেন, ফলে তাঁর জয়ে আমাদের কর্মী সমর্থকদের অবদান রয়েছে। তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছি, কোনও রাজনৈতিক ফয়দা তোলার জন্য এসব আমরা করিনি। এখন দেখার শ্রধ্যেয় মধুসূদন ঘোষের ‘আশীর্বাদ’ নিয়ে শেষ হাসি হাসেন কে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!