এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পৌরসভা নির্বাচনে গোষ্ঠীদ্বন্দের ছায়া, প্রশ্ন উঠছে হেভিওয়েট মন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে!

পৌরসভা নির্বাচনে গোষ্ঠীদ্বন্দের ছায়া, প্রশ্ন উঠছে হেভিওয়েট মন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে!



উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলায় একসময় তৃণমূলের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন রাজ্যের বর্তমান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তবে গত লোকসভা নির্বাচন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুডবুক থেকে সরতে শুরু করেন রবিবাবু। কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সভাপতি থাকায় সেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কাঁধে ভর করেই কোচবিহার কেন্দ্র দখলের স্বপ্ন দেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়‌।

এমনকি রবিবাবুর পরামর্শ মতই সেখানে তৃণমূলের তরফে প্রার্থী করা হয়েছিল প্রাক্তন বাম আমলের মন্ত্রী পরেশ অধিকারীকে। তবে শেষ পর্যন্ত কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে দলকে জয়লাভ করাতে পারেননি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। আর এরপর থেকেই সময় খারাপ হতে শুরু করেছে তার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কাছ থেকে জেলা সভাপতি পদ কেড়ে নেন। আর জেলা সভাপতি চলে যাওয়ার সাথে সাথেই জেলাজুড়ে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েন রবিবাবু। বিরোধী গোষ্ঠির নেতাদের বাড়বাড়ন্তে সেভাবে কোথাও পাত্তা পাচ্ছিলেন না তিনি বলে অভিযোগ একাংশের। আর এরকম একটা পরিস্থিতিতে সামনের পৌরসভা নির্বাচনে কোচবিহার পৌরসভা দখল করতে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে কি সক্রিয় হিসেবে দেখা যাবে! এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে সর্বত্র!

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কিন্তু কেন এমন প্রশ্নের সৃষ্টি হল! জানা গেছে, কোচবিহারের বাসিন্দা হলেও এবার কোচবিহার পৌরসভা দখল অপেক্ষা তুফানগঞ্জ পৌরসভা দখলে আনতে বেশি পরিশ্রম করতে দেখা যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি সহ এলাকায় নিজের মতো করে পৌরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। আর তাকে কেন্দ্র করেই ছড়িয়ে পড়েছে জল্পনা‌। তাহলে কি জেলার হেভিওয়েট নেতা তথা জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি হয়েও শুধুমাত্র তুফানগঞ্জ পৌরসভা দলের দখলে আনতে পরিশ্রম করবেন তিনি! বাকি অন্যান্য জায়গায় অর্থাৎ কোচবিহার পৌরসভায় সেভাবে পরিশ্রম করতে দেখা যাবে না তাকে!

এদিন এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “তুফানগঞ্জ শহরের অর্ধেকের বেশি এলাকা আমার বিধানসভা কেন্দ্রে রয়েছে‌। প্রতিবার ওই জায়গাতে আমি কাজ করি। যেহেতু আমার বিধানসভা এলাকার দশটি গ্রাম পঞ্চায়েত তুফানগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত, ওটাই আমাদের হেডকোয়ার্টার। তাই তুফানগঞ্জকে আমি আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছি। অনেকদিন আগেই পৌরসভা ভোটের কাজ শুরু করে দিয়েছি। কোচবিহার পৌরসভার পাচটি ওয়ার্ড আমার বিধানসভায় পরে। দলকে বলব, এই ওয়ার্ডগুলোতে আমাকে প্রচারের সুযোগ করে দেওয়ার। তারপরেও কেউ কোথাও যেতে বললে যাব। দল আমাকে যে নির্দেশ দেবে, সেই নির্দেশ অনুসারে কাজ করব।”

আর রবিবাবুর মুখ থেকে এই ধরনের মন্তব্য শোনার পর বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, গত লোকসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জেতানোর জন্য সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কিন্তু তারপরেও দলের প্রার্থীকে জেতাতে পারেননি তিনি। পরবর্তীকালে তার পদ যেমন গিয়েছে, ঠিক তেমনই নানা মহলে তাকে নানা কথা শুনতে হয়েছে। তাই এবার বেশি বাড়তি দায়িত্ব না নিয়ে, কেউ যাতে তাকে কথা শোনাতে না পারে, তার জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তুফানগঞ্জের বাইরেও যদি দল রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে প্রচারের জন্য ডাকেন, তাহলে রবিবাবু সেখানে গিয়ে কতটা সময় দেন, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!