এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে কি ফের শুরু তরজা মুকুল বনাম দিলীপের! গুঞ্জন সর্বত্র

পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে কি ফের শুরু তরজা মুকুল বনাম দিলীপের! গুঞ্জন সর্বত্র



তৃণমূলে থাকার সময় বিগত বাম সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে তৃণমূলকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মুকুল রায়। পৌরসভা নির্বাচনের মতো নির্বাচনেও তৃণমূলের একদম শীর্ষস্তরের নেতাদের দাড় করিয়ে বাম সরকারের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। একসময় তৃণমূলকে সাফল্য পাইয়ে দেওয়া মুকুল রায় এখন ভারতীয় জনতা পার্টিতে নাম লিখিয়েছেন।

গত লোকসভা নির্বাচনে তার স্ট্রাটেজির ওপর ভরসা করেই ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল গেরুয়া শিবির। তবে লোকসভায় দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার পর, সেভাবে দলের কোনো পদে থাকতে দেখা যায়নি তৃণমূলের এই প্রাক্তন হেভিওয়েট নেতাকে। কিন্তু এবার পৌরসভা নির্বাচনে যখন বিজেপি ভালো ফল করতে মরিয়া, তখন দায়িত্ব এল সেই মুকুল রায়ের কাঁধে। সূত্রের খবর, পৌরসভা নির্বাচনের জন্য দলের তরফে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মুকুলবাবুকে। আর নির্বাচনের জন্য বিজেপির পক্ষ থেকে কমিটি গঠন হওয়ার পরেই, পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপি কাদের কাদের টিকিট দেবে! তা নিয়ে নানা মহলে তৈরি হয়েছে জল্পনা।

অনেকে বলছেন, বর্তমানে অনেক কলাকুশলীরা যোগ দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টিতে। টিভি সিরিয়ালের বিশিষ্ট মানুষরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় এবং ভালোমতো কাজ করায় তাদেরকে পৌরসভা নির্বাচনে টিকিট দিতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেছেন নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক বিজেপির মুকুল রায়। তাঁর মতে, গ্ল্যামার দিয়ে নয়। বরঞ্চ রাজনীতিতে হেভিওয়েট নেতাদের নিয়ে এসেই পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী করলে, ভবিষ্যতে বিধানসভায় বিজেপির ভালো ফল করবে। এক্ষেত্রে মুকুলবাবুর অনুগামীরা অবশ্য যথেষ্ট যুক্তি দেখাচ্ছেন।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কেননা গত 2010 সালে পৌরসভা নির্বাচনের সময় মুকুল রায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত পরিকল্পনা নিয়েই তৃণমূলের তরফে প্রার্থী করা হয়েছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মত নেতাদের। তাই সেদিক থেকে বিজেপি যখন বাংলায় ক্ষমতা দখল করতে মরিয়া, তখন তার আগে পৌরসভা নির্বাচনের বিজেপিকে ভালো ফল করতে গেলে যে বিজেপির শীর্ষ নেতাদেরকেই প্রার্থী করতে হবে, তার ব্যাপারে নিজের মত পোষণ করতে শুরু করেছেন মুকুল রায়। তবে মুকুল রায়ের এই বক্তব্য মানতে নারাজ বিজেপির একাংশ।

তাদের দাবি, দলে প্রচুর অভিনেতা-অভিনেত্রী, খেলোয়াড়, সংগীতশিল্পীর আসছেন। সেক্ষেত্রে পৌরসভা নির্বাচনের সাফল্য পাওয়ার জন্য বাংলার মত সংস্কৃতিপ্রেমি জায়গায় কেন তাদেরকে প্রার্থী করা হবে না! পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিজেপির মধ্যে এবার দ্বিধা-বিভক্ত রূপ তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছে সমালোচক মহলেরও একাংশ। যদিও বা এক এক নেতা এই ব্যাপারে এক এক মত দিলেও, শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক মুকুল রায় এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এক্ষেত্রে মুকুল রায় যে যুক্তি তুলেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বিগত দিনে তৃণমূলে থেকে তিনি বেশ ভালই বুঝেছেন ভোট রাজনীতি। তাই সেদিক থেকে বাংলায় তার বিকল্প ভোট রাজনীতি বোঝার মত ব্যক্তির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই তিনি যখন বিজেপিতে এসে বলছেন যে, পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সাফল্য পাওয়াতে গেলে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রার্থী করতে হবে, তখন নিঃসন্দেহে তার এই কৌশল বিজেপির মেনে নেওয়া উচিত।

কেননা মুকুল রায় খুব ভালোই জানেন, একেবারে পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা প্রার্থী হলে তাদের অভিজ্ঞতার অভাব আছে। ঠিক তেমনই তাদেরকে পরাজিতও হতে হতে পারে। তাই তার আগে নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর জন্য পৌরসভা নির্বাচনে সেই সমস্ত স্তরের নেতাদের প্রার্থী করে তাদের অভিজ্ঞ করাতে চান মুকুলবাবু বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। কিন্তু দলের হিতের জন্য মুকুল রায়ের মত ব্যক্তিত্ব প্রার্থীর ব্যাপারে এই ধরনের সুপারিশ করলেও, শেষ পর্যন্ত তার এই কথা কতটা বাস্তব আকার নেয়! সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
Facebook Friends
error: Content is protected !!