এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > পৌরভোটের আগে তৃণমূল নেতাদের জন্য বড়সড় অফার বিজেপির, জেনে নিন

পৌরভোটের আগে তৃণমূল নেতাদের জন্য বড়সড় অফার বিজেপির, জেনে নিন



সামনেই পৌরসভা নির্বাচন। 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সাফল্য পেতে হলে তার আগে পৌরসভা নির্বাচনের ভালো ফল করতেই হবে। তবে বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টিকে। বিভিন্ন জায়গায় পদ নিয়ে নেতায়-নেতায় কোন্দল সহ বিজেপির কোনো মুখ না থাকায় বিজেপি আদৌ ভালো ফল করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাংশ। আর এই পরিস্থিতিতে সমস্ত কিছুকে ভুলিয়ে দিয়ে পৌরসভা নির্বাচনের আগে চৈত্র সেলের মত বড় অফার নিয়ে এলেন বিজেপি নেতৃত্বরা।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুলে এলেই সেই সমস্ত নেতাদের টিকিট দেওয়া হবে বলে অফার দিতে শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। আর ভোটের আগে বিজেপির তরফে এই অফার পেয়ে তৃণমূলের অনেক নেতাই ভারতীয় জনতা পার্টিতে নাম লেখাবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন একাংশ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তৃণমূলের বর্তমান কাউন্সিলররা কতটা কাজ করেছেন, তার সমীক্ষা করা হচ্ছে। যার ফলে তৃণমূলের অনেক বর্তমান কাউন্সিলর টিকিট নাও পেতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই পরিস্থিতিতে সেই সমস্ত টিকিট না পাওয়া কাউন্সিলররা যাতে তৃণমূলে না থেকে তাদের দলে যোগ দেন, তার জন্য এই লোভনীয় অফার নিয়ে এসে সেই সমস্ত নেতাদের নিজেদের দিকে টানতে চাইছে ভারতীয় জনতা পার্টি বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পূর্ব বর্ধমান জেলায় বর্ধমান, গুসকরা, মেমারি, কালনা কাটোয়া এবং দাঁইহাট এই ছটি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সব কটা তৃণমূলের দখলে থাকলেও, একটিমাত্র পৌরসভায় বিজেপির একজন কাউন্সিলর ছিলেন। তাই বিধানসভায় যদি বিজেপিকে ভালো ফল করতে হয়, তাহলে এই জেলায় তাদেরকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। তাই সেই দিকটি নজরে রেখে এখন বিজেপি নেতৃত্ব তৃণমূলের নেতাদেরকে নিজেদের দিকে টানতে এই অফার দিচ্ছে বলে দাবি একাংশের। আর তার জন্য তারা নজরে রেখেছে প্রশান্ত কিশোরের টিমের সমীক্ষা। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় যদি বর্তমান কাউন্সিলরদের টিকিট না দেওয়া হয়, তাহলে সেই সমস্ত নেতাদের বিক্ষুব্ধ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের নিজেদের দলে টেনে টিকিট দেবে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এর ফলেই বিজেপি নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে চাইছে বলে মত একাংশের।

কিন্তু এভাবে অন্য দল থেকে নিয়ে এসে টিকিট দিয়ে আদৌ কি কোনো লাভ হবে! এদিন এই প্রসঙ্গে বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি সন্দীপ নন্দী বলেন, “লোকসভা নির্বাচনে মানুষ আমাদের সমর্থন করেছেন। পৌরসভাতেও করবেন। মানুষের আশীর্বাদে আমাদের জয় হবে। আমাদের দলের পুরোনো সক্রিয় নেতাকর্মী এবং নতুনদেরও টিকিট দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের অনেক নেতা রয়েছেন, যারা নিজেদের দলে প্রাপ্য সম্মান পাননি, তারা যদি পৌরসভা ভোটের আগে আমাদের দলে আসেন, তাহলে আমরা তাদের সবাইকে টিকিট দেব। টিকিট পাওয়ার জন্য তাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি থাকতে হবে।” তবে বিজেপির এই অফারকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস।

এদিন এই প্রসঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর দেবু টুডু বলেন, “লোকসভা নির্বাচনে ওরা কিছু ওয়ার্ডে এগিয়ে থাকলেও, পৌরসভা নির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা। এই জেলার মানুষ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সঙ্গে রয়েছেন। তৃণমূলের কেউ বিজেপিতে যাবে না। কিছু মানুষ লোকসভার আগে ভুল করে বিজেপিতে চলে গিয়েছিল। তারা এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তৃণমূলে আসছেন। তাই বিজেপি যতই অফার দিক, তারা তৃণমূল থেকে কোনো কাস্টমার পাবে না।” আর এখানেই একাংশের প্রশ্ন, এভাবে একদল থেকে নেতা নিয়ে আদৌ কি বিজেপি কোনো লাভ করতে পারবে!

কেননা তারা যে সমস্ত নেতাদের নেবে, তাদের তো মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই পছন্দ করেন না। ফলে সেই সমস্ত নেতাদের যদি বিজেপি নিজেদের দিকে নেয় এবং প্রার্থী করে, তাহলে বিজেপিকেও পরাজয় স্বীকার করতে হবে বলে মত অনেকের। আবার অনেকে বলছেন, কর্মী তো আর আকাশ থেকে পড়বে না। তাই তৃণমূলকেও যেমন বামেদের থেকে বা অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে কর্মী নিয়ে এসে শক্তিশালী হতে হয়েছে, ঠিক তেমনই বিজেপিকেও একই কাজ করতে হবে। আর তাই পৌরসভা নির্বাচনের সাফল্য পেতে বিজেপি সেই পন্থা অবলম্বন করছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এখন বিজেপি চৈত্র ছেলের মত এই অফার দেওয়ার চেষ্টা করলেও, তা কতটা কাজে দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!