এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > একের পর এক পঞ্চায়েত হাতছাড়া, পৌরসভায় সাফল্য পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন বিজেপির অন্দরে!

একের পর এক পঞ্চায়েত হাতছাড়া, পৌরসভায় সাফল্য পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন বিজেপির অন্দরে!



গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবল শক্তি প্রত্যক্ষ করেছে সকলেই। উত্তরবঙ্গের আটটি লোকসভা আসনের মধ্যে সাতটি লোকসভা কেন্দ্র দখল করে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। একসময় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি থাকলেও গত লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্র চলে যায় বিজেপির দখলে। এরপর থেকেই দক্ষিণ দিনাজপুরে নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে মনোযোগী হয় ভারতীয় জনতা পার্টি।

একের পর এক তৃণমূলের দখলে থাকা পঞ্চায়েতগুলো চলে যায় বিজেপির দখলে। যার ফলে অনেকটাই ব্যাকফুটে পরে ঘাসফুল শিবির। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। একের পর এক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে যাওয়া পঞ্চায়েতগুলো আবার ফিরতে শুরু করেছে তৃণমূলের দখলে।

গত এক মাসের মধ্যে ডাঙ্গা এবং বোল্লা পঞ্চায়েতের পর এবার চকভৃগু গ্রাম পঞ্চায়েত চলে এল ঘাসফুল শিবিরের হাতে। আর বালুরঘাট লোকসভা বিজেপির দখলে থাকলেও একের পর এক পঞ্চায়েত পৌরসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের দখলে চলে আসায় এখন অনেকটাই উজ্জীবিত শাসক দল। একাংশের মতে, বিজেপির টার্গেট, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে বালুরঘাট পৌরসভা দখল। কিন্তু তার আগে বালুরঘাটের সন্নিবিষ্ট অঞ্চল বলে পরিচিত চকভৃগুতে যেভাবে বিজেপির কাছ থেকে পঞ্চায়েত দখল করে নিল তৃণমূল, তাতে বিজেপির স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেতে পারে বলে মনে করছে একাংশ।

একের পর এক পঞ্চায়েত দখল হয়ে গেলেও, কেন বিজেপির মধ্যে তেমন স্বক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না! নিচু তলার নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, জেলা সভাপতি পরিবর্তন হলেও, সংগঠন শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছে না দল। পঞ্চায়েত কিভাবে দখল করা যাবে, তার কোনো পরিকল্পনাই নেই দলের অন্দরে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি বিনয় বর্মন বলেন, “আমাদের সংগঠন শক্তিশালী। শাসকদল পুলিশকে কাজে লাগিয়ে ভয় দেখিয়ে আমাদের দলের কর্মীদের টানছে। মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে জনপ্রতিনিধি করেছে। কিন্তু তৃণমূল যেভাবে মানুষের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তা কেউ মেনে নেবে না। পুরভোট নিয়ে আমাদের কৌশল রয়েছে। আমাদের সংগঠন শক্তিশালী। এনিয়ে আমরা চিন্তা করছি না।” কিন্তু একের পর এক পঞ্চায়েত দখল হয়ে যাওয়ায়, পৌরসভায় কিভাবে তারা সাফল্য পাবে!

এদিন এই প্রসঙ্গে বালুরঘাট টাউন বিজেপি সভাপতি সুমন বর্মন বলেন, “শহরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে আমরা প্রচার চালাচ্ছি। মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে আমাদের কাছে প্রচুর অভিযোগ করছেন। আমরা পৌরসভা ভোটে জয়লাভ করব।” তবে বিজেপির পক্ষ থেকে পৌরসভার দখলের জন্য আশা প্রকাশ করা হলেও, তাতে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন এই প্রসঙ্গে বালুরঘাট টাউন তৃণমূলের সভাপতি সুভাষ চাকী বলেন, “বিজেপির একের পর এক পঞ্চায়েত আমরা দখল করে চলেছি। আগামীতে আরও পঞ্চায়েত দখল করব। বিজেপি লোকসভা ভোটে হাওয়ায় জিতেছিল। এখন আর কিছু নেই। পৌরসভা ভোটে বিপুল সমর্থন নিয়ে বোর্ড দখল করব।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হাওয়া বালুরঘাটে ভালই ছিল। কিন্তু তারপর যেভাবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন লাগুর ফলে ও তৃণমূলের লাগাতার প্রচারে বিজেপির হাওয়া অনেকটাই কুপোকাত হয়েছে। আর এমত পরিস্থিতিতে একের পর এক পঞ্চায়েত যখন বিজেপির দখলে থেকে তৃণমূলের হাতে চলে যাচ্ছে, তখন পৌরসভায় বিজেপির পক্ষে ভালো ফল করা অত্যন্ত চাপের ব্যাপার। তবে 5 বছর বালুরঘাট পৌরসভা তৃণমূল চালালেও, অনেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সেদিক থেকে বালুরঘাটের জনতা জনার্দন পৌরসভা নির্বাচনে কাদের বেশি সমর্থন করেন, তা অবশ্যই দেখার ব্যাপার।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!