এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > পৌরসভা ভোট পিছিয়ে যাওয়ায় খুশি সব পক্ষ, পেছনে রয়েছে অন্য কারন! জেনে নিন!

পৌরসভা ভোট পিছিয়ে যাওয়ায় খুশি সব পক্ষ, পেছনে রয়েছে অন্য কারন! জেনে নিন!



মার্চ মাসে বিজ্ঞপ্তি এবং এপ্রিল মাসে পৌরসভা নির্বাচন হবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। সেই মত শাসক থেকে বিরোধী প্রতিটি রাজনৈতিক দল কোথায় কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করছিল। আর সেই আলোচনা করতে গিয়েই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিলহ শাসকদলের ক্ষেত্রে যেমন বর্তমান কাউন্সিলর টিকিট দেওয়া না দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল অসন্তোষ, ঠিক তেমনই বিরোধী দলের ক্ষেত্রেও প্রার্থী হতে চেয়ে একাধিক আবেদন জমা পড়ায় কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধন্দ।

এপ্রিল মাসে নির্বাচন হলে এই সমস্ত সমস্যার মোকাবিলা করা তো দূর অস্ত, উল্টে দলীয় বিবাদে আসন হারানোর আশঙ্কায় থাকত প্রতিটি রাজনৈতিক দল। তবে এক্ষেত্রে ভালো ফল করবার জন্য সেই প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে করোনাভাইরাস যেন এক কথায় আশীর্বাদ স্বরূপ। ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাসের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কথা শোনা গেছে। তাই এই সময়ের মধ্যে এবার নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্ত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নিতে চাইছে শাসক থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দল।

প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদ জেলার সাতটি পৌরসভায় এবার নির্বাচন হওয়ার কথা। এখানে তৃণমূলের চরম গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশান্ত কিশোরের টিম কোন এলাকায় কার ভাবমূর্তি কেমন, তার ব্যাপারে সমীক্ষা পর্ব সম্পন্ন করেছে। আর এই পরিস্থিতিতে হাতে আরও কিছুদিন সময় পাওয়ায় খুশি শাসক দল। এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র অশোক দাস বলেন, “আমাদের গোষ্ঠী কোন্দল নেই। আমাদের ঘর সব সময় গোছানো থাকে।”

এদিকে এই জেলায় বাম-কংগ্রেস জোট করে পৌরসভা নির্বাচনে লড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলেও, এখনও কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ পিছিয়ে যাওয়ায়, সেই ব্যাপারে খুশি সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য জামির মোল্লা। এদিন তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ভোট পেছনের ফলে রাজনৈতিক কাজকর্মে ক্ষতি হবে না। তবে এখন মানুষকে আমরা করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সচেতন করব।” একইভাবে ভোট পিছিয়ে দেওয়া হলেও, তাতে আপত্তি জানায়নি কংগ্রেস।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, “যে ছাত্র সারা বছর পড়াশোনা করে, তার কাছে পরীক্ষা নিয়ে যাওয়াটা কোনো বিষয় নয়। যারা সারা বছর পড়াশোনা করে না, পরীক্ষা পেছোলে তারা আনন্দ পায়। আমরা ভোটের জন্য সবসময় প্রস্তুত।” তবে করোনা ভাইরাস নিয়ে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এই হেভিওয়েট কংগ্রেস নেতা। এদিকে ভোট পিছিয়ে যাওয়ায় রাজ্য সরকারের কিছুটা হলেও সমালোচনা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

এদিন এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ দক্ষিণের বিজেপি জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “এর আগেও পরাজয়ের ভয়ে ভোট পিছিয়ে দিয়েছিল শাসক দল। পরাজয় নিশ্চিত জেনে ছুতো হিসেবে করোনাভাইরাসকে সামনে পেয়ে তাদের আশা পূর্ণ হল।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যে কথাই বলুন না কেন, শাসক থেকে বিরোধী, বর্তমান সময় যদি নির্বাচনের দামামা বেজে যেত, তাহলে প্রার্থী নিয়ে সমস্ত দলই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে মসগুল হয়ে পড়ত। সেদিক থেকে প্রকাশ্যে যে যাই বলুক না কেন, ভোট পিছিয়ে যে সেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটাতে অনেকটাই মনোনিবেশ করবে এই সমস্ত রাজনৈতিক দল, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত প্রত্যেকেই। এখন সময় পেয়েও তার সদ্ব্যবহার করতে শাসক থেকে বিরোধী সকলে কতটা সক্ষম হয়, তার দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!