এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > মুকুল রায় কেন বিজেপি ছাড়লেন? একাধিক কারণের মধ্যে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে মুকুল-মমতা যোগ

মুকুল রায় কেন বিজেপি ছাড়লেন? একাধিক কারণের মধ্যে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে মুকুল-মমতা যোগ



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  2017 সালের দল ছাড়ার পর আবার পুরনো দলে ফিরে এসেছেন মুকুল রায়। 2021 এ মুকুল রায় বিজেপির শীর্ষ পদে থাকাকালীন দল ছাড়লেন যা গেরুয়া শিবিরের ভাঙন ধরানোর জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে মুকুলকে নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে মুকুল রায়কে তৃণমূলের ফেরানোর পেছনের আসল কারণ কি? তাহলে কি দীর্ঘ চার বছর ধরে মুকুল রায় এবং মমতা ব্যানার্জি কার্যত তলে তলে যোগাযোগ রেখেছিলেন? এবং এই প্রশ্ন গেরুয়া শিবিরের অনেকেরই মনে উঠেছে।

কিন্তু মুকুল রায় বিজেপি ছাড়ার আগে পুরোপুরিভাবে নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি ভোটে জেতার পরেও তিনি বিজেপি সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনো মন্তব্য করেননি। বরং মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন‌। যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন তাঁর মাকে দেখতে । আর এই নিয়েই গেরুয়া শিবিরের অনেকেই মনে করছেন শুভ্রাংশু যে কথা বলেছে তা আসলে মুকুল রায়েরই কথা।

অন্যদিকে মুকুলকে তৃণমূলের ফিরে আসতে দেখে এখন গেরুয়া শিবিরের অনেকেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নাম করে বলা যায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। একের পর এক নেতার বাড়িতে তিনি পৌঁছে যাচ্ছেন। তবে মুখে না বললেও স্পষ্ট হচ্ছে তাঁর তৃণমূলে ফেরার আকুতি। তবে মুকুল রায়কে তৃণমূল নেত্রী মেনে নিলেও তৃণমূল ছেড়ে একসময় বিজেপিতে গিয়েছিলেন যারা, তাদের আর দলে ফেরাতে নারাজ তৃণমূলের একাংশ।

পাশাপাশি নেত্রীর কাছ থেকেও সেরকম কোনো নির্দেশ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এখানেই প্রশ্ন, যে দোষ মুকুল রায় করেছিলেন, সেই একই দোষ তৃণমূল ছেড়ে চলে যাওয়া অনেকেই করেছেন। তাহলে মুকুলের জন্য নেত্রী নরম হলে বাকিদের জন্য কেন হবেন না? তার জবাব ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন. তিনি মুকুলকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, মুকুল রায় কখনোই দলের বিরুদ্ধে চরম মনোভাবাপন্ন হননি।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আর সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে যারা মুখ খুলে ছিলেন একসময়, তাদের জন্যই কি তৃণমূল দরজা বন্ধ রাখছে? অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, গেরুয়া শিবিরে মুকুল রায় যোগ্য সম্মান কোনদিনই পাননি। উচ্চ পদ দেওয়া হলেও তাঁকে সাংগঠনিকভাবে কোনদিন ব্যবহার করা হয়নি। আর কে না জানে মুকুল রায় সাংগঠনিক বুথস্তরে কাজ করতে কতটা দক্ষ।

অন্যদিকে আবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেরই মন্তব্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারী দুজনেই জিতেছেন। সেক্ষেত্রে মুকুলকে বাদ দিয়ে শুভেন্দুকে বিরোধী নেতা মুকুল রায় মেনে নিতে পারেননি। কারণ অভিজ্ঞতা এবং বয়সে শুভেন্দুর থেকে মুকুল রায় যথেষ্ট বড়। সেক্ষেত্রে বিধানসভায় মুকুল শুভেন্দুর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে পারবেন না বলেই দল ছেড়ে চলে গেলেন। তবে মুকুল রায়ের গেরুয়া শিবির ছাড়া পেছনে সমস্ত কারণই অনুমান করা হচ্ছে। কারণ মুকুল রায় নিজে এখনো পর্যন্ত কিছু জানাননি।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল শিবিরে যোগ দিলেন যেদিন মুকুল রায়, সেদিনই তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, তিনি কেন বিজেপি ছেড়েছেন তা বিশদে লিখে জানাবেন। সেই লেখা এখনো পর্যন্ত আসেনি বলেই খবর। আপাতত মুকুল রায় বিজেপি ছাড়লেও সেখানকার সাংগঠনিক ভিত দুর্বল করতে যে মুকুল রায় বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করবেননা তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!