এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > মুকুলকে দেখে স্নেহের ছায়া মমতার মুখে,‌ প্রিয় ভাইয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন দিদি!

মুকুলকে দেখে স্নেহের ছায়া মমতার মুখে,‌ প্রিয় ভাইয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন দিদি!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –   সাড়ে তিন বছর অর্থাৎ তিন বছর নয় মাস সময় ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির ঘরে সংসার করেছেন মুকুল রায়। একদা যে মুকুল রায়ের পরামর্শ ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের কুটোটিও নড়ত না, এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নেতার চোখ দিয়ে তার নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসকে দেখত বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানা গিয়েছিল, সেই মুকুল রায় বিজেপিতে যাওয়ার পর আবার ফিরে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

মাঝের সময়টায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে একাধিকবার বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন প্রবাদপ্রতিম এই দক্ষিণপন্থী নেতা। কখনও তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধতে দেখা গেছে তাকে। আবার কখনও বা নিজের রাজনৈতিক জ্ঞানজ্ঞর্মিতা তুলে তৃণমূল কংগ্রেস তিন অঙ্কের কোটা পার হবে না বলে উক্তিও করেছেন মুকুল রায়। তবে পরবর্তীকালে দেখা গেছে মুকুল রায় রাজনৈতিক বিচক্ষণতা 2021 সালের নির্বাচনে অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে।

আর এরপরই ভারতীয় জনতা পার্টির সংসর্গ ত্যাগ করে আজ তৃণমূল কংগ্রেসের হাত পুনরায় ধরলেন একদা তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড নামে পরিচিত মুকুল রায়। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসে মুকুলবাবু যোগদান করার পরেই সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন করে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুকুল রায়ের যোগদানে তৃণমূল কংগ্রেস কতটা শক্তিশালী হল? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের দল যথেষ্ট শক্তিশালী। তৃতীয়বারের জন্য বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এককভাবে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। মুকুল ঘরের ছেলে ছিল, ঘরের ছেলে থাকবে।”

আর তৃণমূল নেত্রীর এই কথার মধ্যে দিয়েই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তিনি মুকুল রায়কে কখনই ঘরের বাইরের লোক বলে মনে করেননি। একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই উক্তি করেন, পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমি আজ লক্ষ্য করে দেখলাম, মুকুলের শরীরটা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। ও হয়ত কখনও মুখ ফুটে কিছু বলে না। কিন্তু ওর চেহারায় তার ছাপ পড়েছে।” আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কথাতেই পরিস্কার, রাজনৈতিক ভাবে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলেও, মুকুল রায়ের শরীর-স্বাস্থ্য এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত থাকতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্বভাবতই রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের পরই মুকুল রায়ের চেহারা এবং স্বাস্থ্য চোখে পড়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। এদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে কেউ সুস্থভাবে বসবাস করতে পারে না বলেও বিজেপিকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “এই দলটার মধ্যে এত বেশি নিপীড়ন, এত বেশি শোষণ রয়েছে, এই দলে কোনো মানুষ বিচার বুদ্ধি নিয়ে টিকে থাকতে পারবে না।” আর সেই কারণেই সকল রাজনৈতিক এবং বলা ভালো, “ভালো মানুষ” সবাই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের জন্য মুখিয়ে আছেন বলেও জানিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

একাংশ বলছেন, বর্তমান রাজনীতিতে শিবির আলাদা হয়ে গেলে পারস্পারিক ভাবে সম্পর্কের এতটাই অবনতি ঘটে যে, কেউ কারও মুখ দেখতে চায় না। সেই সময় বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেও কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে মুকুল রায়কে নিয়ে স্নেহ জীবিত ছিল? তবে যদি তা নাই থাকত, তাহলে যোগদানের প্রথম দিনে কেন তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আজ দীর্ঘক্ষন তৃণমূল ভবনে দলের তাবড় তাবড় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে উপস্থিত ছিলেন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায় এবং তার পুত্র শুভ্রাংশু রায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি আলোচনা হয়েছে, আগামী দিনে কারা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

কিন্তু আজকের সাংবাদিক বৈঠকে মুকুল রায়ের তৃণমূলে অভিষেকের মধ্যে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় সেই মুকুল রায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্নতা সমস্ত ঘটনাকে কার্যত ছাপিয়ে গেল। যা দীর্ঘ 3 বছর 9 মাসের দূরত্বেও খাটো হয়ে যায়নি। বরঞ্চ পুরাতন দিনের মতনই মুকুল রায়কে নিয়ে যথেষ্ট পরিমান চিন্তা বাসা বাঁধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তরে। ফলে আগামী দিনে যখন এক ফ্রেমে আবার দেখা যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুকুল রায়ের জুটিকে, সেই সময় সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তৃণমূলের রাজনৈতিক অভিমুখী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!