এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, এ প্রসঙ্গে ইতিবাচক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, এ প্রসঙ্গে ইতিবাচক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের



মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মুহূর্তে ভুবনেশ্বরে উপস্থিত হয়েছেন। সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠক রাখা হয়েছে। যেটি হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। এই বৈঠকের নাম দেওয়া হয়েছে ইস্টার্ন রিজিওনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠক। এই বৈঠক নিয়ে বহুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে উপস্থিত হবেন কিনা। তবে সমস্ত জল্পনাকে একপাশে সরিয়ে রেখে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ইতিবাচকভাবে ভুবনেশ্বরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে যোগ দিতে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের নজর যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে বৈঠকে তার কোন ছাপ পড়ে কিনা।

অন্যদিকে, সিএএ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন চলাকালীন জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার আবারও বিজেপি ও মোদী মন্ত্রিসভার second-in-command অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বিরোধিতার সর আরও চরমে পৌঁছেছে। অন্যদিকে সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে ইস্টার্ন রিজিওনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠক ছাড়াও আলাদাভাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন শুক্রবার। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সঠিক কোন খবর জানা যায়নি।

গতকাল ভুবনেশ্বর পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ভুবনেশ্বরের একটি পাঁচতারা হোটেলে হতে চলেছে ইস্টার্ন রিজিওনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠক।ঞ্জানা গেছে, এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বাংলা ছাড়াও বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খন্ড ও ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবরা। তবে রাজনৈতিক মহলের লক্ষ্য, এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে একই বৈঠকে থেকে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে তিনি কোন বিশেষ মন্তব্য করেন কিনা।

প্রতিবছরই ইস্টার্ন রিজিওনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠক হয়। গত বছর এই বৈঠক হয়েছিল হাওড়ার নবান্নে। সেই সময় নবান্নে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবারে এই বৈঠক হবার জন্য স্থির হয়েছে ওড়িশার ভুবনেশ্বর শহর। অনেক আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক বৈঠকের মুখোমুখি হতে চলেছেন।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে জানা গেছে, ইস্টার্ন রিজিওনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব সম্ভবত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে যোগ দেবেন। সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক হলে মুখ্যমন্ত্রী সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হাতে বেশকিছু অন্তর্দেশীয় বর্ডারের পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নথি তুলে দেবেন। যদিও এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বৈঠকের স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখোমুখি হয়েছিলেন এক বৈঠকে।

রাজনৈতিক মহলে এই বৈঠক নিয়ে চাপান-উতোর শুরু হলেও এই বৈঠক নিয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ”আমি এই বৈঠকে খারাপ কিছু দেখছি না। সুন্দর প্রশাসন চালাতে একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন, এটাই স্বাভাবিক।” যদিও এরপরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। তিনি বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রীর সিএএ বিরোধী আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। হয়তো তাই এখন তিনি মুখ দেখিয়ে নমস্কার করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন।”

তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক শিবিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী মহল থেকে আবারও দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল ও বিজেপির অশুভ শক্তির আঁতাত সম্পর্কে। তবে এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করলেও তা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। একটি রাজ্যের সরকার চালাতে গেলে অবশ্যই কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি হতেই হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের ফল কি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!