এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > মৃণালিনীর প্রেম -(লাভ স্টোরি)- কলমে অপরাজিতা – পর্ব ৫

মৃণালিনীর প্রেম -(লাভ স্টোরি)- কলমে অপরাজিতা – পর্ব ৫



হাত বাঁধছে দিদিরা, বাবা দেখছে তাই চুপ করেই দাঁড়িয়ে রইলো মৃণালিনী। ইতিমধ্যে সাজ নিয়ে একবার কথা শুনতে হয়েছে বাবার কাছে। এত উগ্র সাজার কি ছিল ?
মৃণালিনী উত্তরা দিয়েছে -পার্লারের দিদি সাজিয়ে দিয়েছে। বাবার পছন্দ যে হয়নি, তাতো জানাই।
যায় হোক সব মাটি ,এবার বাবা যতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে ততক্ষন এখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে মৃণালিনীকে।

অভির এবার খারাপ লাগছে ,তার জন্য মৃণালিনীকে বাবার কাছে কথা শুনতে হলো। মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে ভদ্রলোক মেয়ের উপর চোটেই আছেন।কিন্তু একটা জিনিস দেখে আশ্চর্য লাগছে ভদ্রলোক অভিকেও চোখে চোখে রাখছেন , কিন্তু কেন? মৃণালিনীর পিছনে অভি ছুতে আসছিলো সেই কারণে কিছু ভুল ভেবেছেন ? দূর যা ভাবার ভাবুক, না অভি মৃণালিনীর প্রেমে পড়েছে আর না অভি তার মেয়েকে ফলো করছে। যাই হোক কয়েকটা বিয়ের পিকচার তুলবে যেখানে বিয়ে হচ্ছে সামনে গেলো। না ইচ্ছা করে না হলেও পিকচার কোথাও না কোথাও জ্বলজ্বল করছে মৃণালিনী। অবশ্য শুধু মৃণালিনী নয়, যারা কাছে আছে তারাও।

সবে মালা বদল হলো, এরপর এত অনেকে কিছু রিচুয়ালস আছে। এখনো অনেকগুলো পিকচার নিতে হবে। সামনেই বসলো অভি। ওদিকে বসে আছে মৃণালিনীর বান্ধবী সোমালি, অনিন্দিতা, শ্রাবনী, পিয়ালী। তারাও হা করে দেখছে আর নিজেদের মধ্যে কিছু আলোচনা করছে। আর মৃণালিনীও অভিকে আড়চোখে দেখছে না প্রেমে পরে নয়, রীতিমতো রেগে রেগে, কারণ জানে অভি। শ্রাবনী ,পিয়ালী খারাপ নয় তবে কেমন যেন , অনিন্দিতা মেয়েটাও খারাপ নয়,দেখতে ভালোই, সে মৃণালিনীর বন্ধু অপেক্ষা গার্জেন বেশি , এমন করবি না তেমন করবি না এই সব করছিলো। কিন্তু এই সোমালি মেয়েটা সে বেশ ঘ্যাম দেখাচ্ছে প্রথম থেকেই ভাবটা এমন যেন অভি তার প্রেমে হাবুডুবু খাবে,না তেমন কিছু হয়নি। দেখতে সুন্দরী হলেও যে কোনো কারণেই হোক মৃণালিনীকে খুব হিংসা করে, কথায় কথায় ছোট করার চেষ্টা করে,অভির সাথেও যখন কথা বলছিলো অনেক কথা বলেছে মৃণালিনীকে ঠেস দিয়ে, মোটা বলে খানিকটা ঠেস দিয়ে খিল্লি করতে চাইছিলো, কিন্তু কারণ কি ? মেয়েটাকে দেখতে ব্যাপক, মৃণালিনী তার ধরে কাছেও আসতে পারবে না তবে?ওদের ব্যাপার ওরা জানে আর ভগবান জানে, বাদ দেওয়ায় ভালো। কতকগুলো ছেলে ঢুকলো, মৃণালিনীকে খুঁজছে। কথা হলো মৃণালিনীর সাথে। সাথে ওদের বাকি বন্ধুদের সাথেও।

বিয়ে হলো, এবার খেতে যাবার পালা। বাকিরা খেয়ে নিয়েছে, অভি আর রাত্রে যারা থাকবে তারা পরে খাবে। অভির রাত্রে এখানে থাকার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু বিভাসদা বার বার বলেছে তাই না করতে পারে নি। মৃণালিনী ও খায়নি। সে দিদি জামাইবাবুকে সঙ্গে নিয়ে খাবে ,একে একে সবাই বিদায় নিচ্ছে , বন্ধুরা খেয়েছে কিন্তু কেউ যায়নি। না যাবে না। বর আসরের পাশেই গানের জলসা বসবে। সারা রাত জলসা হবে। গান করবে মৃণালিনীর বন্ধু- বান্ধবীরা।
খেয়ে এসে সবাই বসেছে। বড়রা তেমন নেই, অল্প বয়সীরা আছে। গান ধরলো
অনিন্দিতা , বাংলা এখনকার সিনেমার গান, খারাপ গাইছে না ,তবে আহামরি কিছু না, সব জায়গায় যে গলা বসছে তাও না। এর পর সোমালি – সে একটা ছেলের সাথে দুই তিনটে ডুয়েট গাইলো, মোটামুটি ভালো। এর পর আরো দুটো গান হলো। এদিকে সাজগোজ ছেড়ে নরমাল চুড়িদারে একটা ওড়না নিয়ে এলেন মহারানী। সাধারণ ভাবে থাকলে অনেক ভালো লাগে কেন যে ঐসব ময়দা, রং মাখে কে জানে ? স্টেজে উঠছে গাইবে নাকি? গান ও কি সাজের মতোই? তবে যাই গাক এখন শুনতে তো হবে। বেসুরো গান শুনছে অনেকক্ষন থেকে তবে এদুটো ছেলে খুব ভালো গাইলো। মাথা নিচু করে ভাবছে অভি।
আগে মিউজিক বাজছে, গান ধরলো ছেলেটা ডুয়েট , মাথা নিচু করে মোবাইল ঘাঁটছিলো, এবার একটা মিষ্টি মেয়ের গলা কানে এলো। চমকে তাকাতেই দেখলো মৃণালিনী স্টেজে গাইছে ছেলেটার সাথে। ও কি নিজে গাইছে ? বিভাসদাকে জিজ্ঞাসা করলো

বিভাসদা বললো – হুম, ব্যাপক গায়। রবীন্দ্রভারতীতে গান নিয়েই তো পড়ছে ও।

অভি – ওয়াও, হোয়াট এ ভয়েস!মনে হচ্ছে কোনো বড় সেলেব্রিটি গাইছে।

সোমালীর দিকে চোখ পড়লো রীতিমতো রগে আছে , এবার বুঝছে অভি কেন মৃণালিনীকে সে এত ছোট করার চেষ্টা করেছিল। মৃণালিনী গান নিয়ে বলে বলে গোল দিচ্ছে সোমালিকে। ধারে কাছেও টিকতে পারছে না সোমালি। ছেলেটা গিটার বাজিয়ে মৃণালিনীর সাথে গান করছে। দুজনেই ব্যাপক। এ বলে আমাকে দেখ, ও বলে আমাকে। ব্যাপক। এতক্ষনে আসর জমজমাট।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

 

একটার পর একটা হিট ডুয়েট গাইছে, ব্যাপক। ইসশ ওদের পুনের যে বাঙালি গ্রুপটা আছে সেখানে যে পুজো হয়, নানা ইভেন্ট হয় সেখানে মৃণালিনীকে ইন্ট্রোডিউস করালে বেশ হতো বাট ফরচুনেটলি বা আনফরচুনেটলি হবে না। জলসা চললো, তারপর নাটক হলো ছোটোখাটোর উপরে বেশ ভালো। নতুন বৌদির থেকে যা জানা গেলো সবাই মৃণালিনীর বন্ধু বান্ধবী। মৃণালিনীর বাবা একেবারে চাননা তাঁর মেয়ে রবীন্দ্রসংগীত ছাড়া অন্য কোনো গান গায়, বাড়ির ছেলে ,বৌ , মেয়ে ,জামাইরা অনেক করে বুঝিয়েছে তারপর মৃণালিনী এই গান গাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। মৃণালিনীর খুব ইচ্ছা সিঙ্গার হবে , অনেকবার অনেক রিয়ালিটি শো এ অডিশন দিতে যাবার কথা বলেছে বাবা একটু শুনেই মুখের উপর না করে দিয়েছে। এই গান শুনে অনায়াসেই প্রেমে পড়া যায়, কিন্তু অভি মৃণালিনীর প্রেমে পড়েনি, অন্য কোনো সিঙ্গারের গান শুনে যেমন ভালো লাগে ওর ও তাই হয়েছে তার বেশি কিছু নয়। যাই হোক বাসর রাতটা বেশ ভালোই কাটলো।

 

সকালে মৃণালিনীর বন্ধু বান্ধবীরা চলে গেলো ,যাবার আগে অভির সাতে অনেক কথা বলেছে। ফোন নাম্বার ও চেয়েছে। অনেক কান্ড করে সেটা সামলেছে। যাই হোক তারা বলেছে তারা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবে অভি যেন একসেপ্ট করে। অভি হ্যাঁ বলেছে। এদিকে মৃণালিনীকে বাবা দেখে জানালো তাকে দিদিকে রাখতে যেতে হবে না। দিদি শুনে ঝাঁপালো, সৌদামিনীকে মৃণালিনীর বাবা বড়োই ভালোবাসে সে আজ এ বাড়ি ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে যাচ্ছে ,তাঁর ইচ্ছাকে না করেও না করতে পারলেন যান শেষ মেশ রাজি হলেন। সৌদামিনী কথা দিলো সে বোনকে কাছছাড়া করবে না। আশীর্বাদ হবে তার আগে বিভাস হাতবাঁধা ,জুতো লুকানো এই সবের বাবদ ১৫,০০০ টাকা দিলো। নেয়নি মৃণালিনী ,অভিকে শুনিয়ে মুখের উপর বলেছে -সে ভিখারি নয়, তাই যেহেতু কারুর জন্য জুতো শেষ পর্যন্ত লুকাতে পারেনি তাই জুতো লুকানোর টাকা সে নেবে না। অভি সরি বলেছে। না রাগ কমেনি মৃণালিনীর।

ফের ভালো মতন মেক আপ করেছে। আশীর্বাদ চলছে সবাই এমন কাঁদছে যেন মেয়েকে জলে ফেলে দিয়েছে। বেশ অস্বস্তিকর পরিবেশ , সবার কাঁদার কারণ বোঝা যাচ্ছে কিন্তু মৃণালিনী কেন কাঁদছে ? সে তো সঙ্গেই যাচ্ছে। অদ্ভুত মেয়ে সিরিয়াসলি। অভি,মৃণালিনী সৌদামিনী বিভাস বরের গাড়িতে আছে। অনেক কথা হচ্ছে। মৃণালিনী চুপচাপ আছে , বিভাসদা আর অভিই বেশি কথা বলছে নানা বিষয়ে। বড় কোন বাড়ি পৌঁছালো। খুব ভালো ফ্যামিলি ওদের। বড় কোন বরণ হলো। মৃণালিনীকেও যত্ন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাড়ির ভেতরে। নতুন বৌমার বোন বলে কথা। বধূবরণের আচার আচরণ শেষ হলো। এরপরে মৃণালিনীর জলসায় গান গাওয়া নিয়ে কথা হচ্ছে। প্রসংসার বন্যা বইছে। সত্যি প্রসংসা করার মতো। মৃণালিনী মাথা নিচু করে শুনছে, লজ্জা পাচ্ছে একটু।

বিকালে ছাতে অনেকে আছে অভিও আছে। সেখানে অভি মৃণালিনীকে বললো – তুমি খুব ভালো গান গাও, খুব ভালো লাগলো তোমার গান। সাথে বললো আর ঐসব ময়দা ময়দা না মেখে এমনি স্বাভাবিক থাকলে বেশি ভালো লাগে। এখানেও আবার গানের রিকোয়েস্ট এসেছে। সন্ধেবেলা ফের গানের আসর বললো সেখানে খালি গলায় ২ ,৩ টে গান গেয়েছে মৃণালিনী। আর সবকটা গান অভি নিজের মোবাইলেই রেকর্ড করেছে। না কোনো প্রেমের ব্যাপার নয়। প্রেমে পড়েনি অভি। তবে মৃণালিনীর সাথে অভির সম্পর্কটা আস্তে আস্তে ভালো হচ্ছে। সবাই আছে গল্পও হচ্ছে। যে যার মতো মজার মজার ঘটনা বলছে। বেশ আড্ডা হচ্ছে জমাটি।

 

মৃণালিনীর প্রেম -(লাভ স্টোরি)- কলমে অপরাজিতা – পর্ব ৪

মৃণালিনীর প্রেম -(লাভ স্টোরি)- কলমে অপরাজিতা – পর্ব ৪

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!