এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > মৃণালিনীর প্রেম -(লাভ স্টোরি)- কলমে অপরাজিতা – পর্ব ১১

মৃণালিনীর প্রেম -(লাভ স্টোরি)- কলমে অপরাজিতা – পর্ব ১১



না আভি যাবে না ,জানিয়ে দিয়েছে যে সে যেতে পারবে না কেননা ছুটি পাবে না। মৃণালিনী জেনেছে অভি আসবে না, সৌদামিনীই বলেছে যে অনেকেই আসতে পারছে না তার মধ্যে অভিও আসবে না। ভালোই হয়েছে আসবে না, মৃণালিনীর আর বাধা নেই যেতে, যাবে তবে ওই বড়মাদের সাথে সকালে আর দুপুরের দিকেই ফিরে আসবে।

অভি এর মধ্যে ফেসবুকে মৃণালিনীকে আনব্লক করে দিয়েছে কিন্তু মৃণালিনী জানে না , ও আর ফেসবুকে সে ভাবে এক্টিভ নয়, যেদিন থেকে বুঝেছে অভি ওকে ব্লক করে দিয়েছে তার পর থেকে ১ দিন ২ দিন খুলেছিলো ফেসবুক,হোয়াটস্যাপ চেক করে তবে খুব কম,দরকার ছাড়া নয়। এদিকে ফেসবুকে আনব্লক করলেও হোয়াটস্যাপ নাম্বারটা আর নেই অভির কাছে ডিলিট করে দিয়েছে। চাইলে পাওয়া যাবে এমন কিছু কঠিন ব্যাপার নয়। কিন্তু কি বলবে অভি মৃণালিনীকে ?

দিদির বাড়ি গেছে মৃণালিনী, সবাই রাগ করেছে এত দেরিতে এসেছে বলে, দেখা হয়েছে অভির বাবা মায়ের সঙ্গেও , পরিবর্তনটা সবার চোখে পড়লেও ভগবান সঙ্গ দিয়েছেন, হুম দুদিন আগেই জ্বর হয়েছিল মৃণালিনীর এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয় তাই বাইরের শারীর খারাপটা ভেতরের মৃণালিনীর কষ্টটাকে সুন্দর করে ঢেকে দিয়েছে। সবাই ভাবছে এখনো শরীর ভালো নয় বলে চুপচাপ , বাইরে তেমন থাকেনি দিদির ঘরে শুয়েই ছিল।

অভি যাবেনা কি করবে গিয়ে? না থাকতে পারেনি, টেনে নিয়ে গেছে মৃণালিনী। অভি পৌঁছেছে দুপুরের দিকে। সবাই হা, কিন্তু খুশি কিন্তু আপাতত অভি নয়, কি করে হবে? যার টানে এসেছে তাকে দেখতে পায়নি এখনো। ঘরে বাইরে খুঁজেছে না নেই , তাহলে কি আসেনি। জিজ্ঞাসা করতে একটু কিন্তু কিন্তু লেগেছে নন্দিনীদি শুনলেই ঝাড়বে, বিয়ে করতে রাজি হয় নি, নন্দিনী দির খুব ইচ্ছা ছিল মৃণালিনীকে বিয়ে করে অভি। বোঝাতেও গিয়েছিলো কিন্তু না মানেনি অভি।

মৃণালিনীকে খেতে ডাকতে এসেছে সৌদামিনী। অভি এসেছে শুনেছে দিদির মুখ থেকেই। ভয় করছে খুব, লজ্জা লাগছে সামনে যেতে, অভি বলেছিলো যেন মৃণালিনী তার সামনে না আসে কোনোদিন। না যেতেও চাইনা মৃণালিনী। তাড়াতাড়ি নিচে গিয়ে খেতে বসলো অভি এখন ফ্রেশ হতে গেছে নেই কাছে যা হোক করে খেয়েই বড়মাকে বলবে শরীর খারাপ বেরিয়ে যাবে ,যেতেই হবে। বাইরে চেয়ারে বসলো না খেতে একেই ইচ্ছা নেই, মুখ পুরো তেঁতো তবুও কোনোমতে দুটো মুখে তুলতে হবে, অভি ফ্রেশ হয়ে এসে সৌদামিনীকেই জিজ্ঞাসা করেছে মৃণালিনী কোথায়? জেনেছে খেতে গেছে , প্যান্ডেলে গেছে অভিও।মৃণালিনী দেখেছে আর মুখে কিছু উঠছে না, অভির দুটো চোখ খুঁজছে মৃণালিনীকে,একেবারে শেষের দিকে বসেছে মৃণালিনী, কিছুক্ষন পর চোখ পড়লো ওর দিকে। এই মৃণালিনীকে চেনে না অভি , একেবারে অন্যরকম, সৌদামিনীর কাছে শুনেছে মৃণালিনীর শরীর খারাপ, কিন্তু সত্যি তাই নাকি? একটুকুও সাজ নেই, ঠোঁটে লিপস্টিক বা টিপ্ কিছুই নেই। একটা চুড়িদার পরে আছে,খুব হালকা কালারের। কিন্তু অভি জানে ওর পছন্দ ডিপ কালার, ওই বলেছিলো।কেন? কি হয়েছে ওর ? ও কি তাহলে সত্যি! সৌরভ কি ঠিক অনুমান করেছিল মৃণালিনীও অভিকে ?

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

 

মৃণালিনীর সঙ্গে টেবিলে আছে মৃণালিনীর এক বৌদি,বুকু,আর ওর মা। অভি কাছে এসে সবাইকে জিজ্ঞাসা করলো সব ঠিক আছে কিনা? বুকু খাওয়া ছেড়ে অভির কোলে উঠে পড়লো। এবার মৃণালিনীর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলো – কেমন আছো এখন? এখনো জ্বর আছে ?
মৃণালিনী মাথা নিচু করে খওয়ার চেষ্টা করছিলো
মাথা একটু তুলে বললো ভালো।
অভিকে ডাকলো বিভাসের দাদা, আইসক্রিম যা স্টক ছিল প্রায় শেষের দিকে এখনো ব্যাচ বসবে সুতরাং ফের আনতে যেতে হবে, বলা আছে দোকানে লোক নেই তাই বাড়ি থেকে কাউকে গিয়েই নিয়ে আসতে হবে। অভি গাড়ি চালাতে জানে তাই তার ডাক পড়েছে। ঠিক আছে নিয়ে আসছে পরে মৃণালিনীর সাথে কথা বলবে , একটু একা কথা বলতে হবে।

অভি চলে গেলো, মৃণালিনী কোনো মতে হাফ খেয়েই বসে রইলো কখন মা, বড়োমাদের খাওয়া হবে আর বাড়ি যাবে , ভালো লাগছে না , কোনো মতেই আর সামনাসামনি হবে না। আচ্ছা কেন এলো ও?মৃণালিনীর জ্বর হয়েছে তাতে কি? আবার ভুল করতে যাচ্ছে মৃণালিনী, আর নয় আর ভুল ভাববে না, নেহাতই সৌজন্য।

খাওয়া শেষ হলো, মৃণালিনী জোর ধরলো সে বাড়ি যাবে, যায় তাড়াতড়ি যাবার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু মৃণালিনী বললো শরীরটা খুব খারাপ লাগছে, ওদিকে কোনো মেডিসিন আনেনি। চলে গেলো মৃণালিনী।

অভি বাড়ি এসে শুনলো চলে গেছে মৃণালিনী। বুকের ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেছে, আর ওর থাকতে ইচ্ছা করছে না এই বাড়িতে, মনে হচ্ছে সব আছে কিন্তু কিছু নেই।

খাওয়া দাওয়া করেছে , নিজের মতো সবার সাথে থাকলেও ভালো লাগসহ না কিছু, সে না থেকেও সবসময় এখানেই আছে, গোটা বাড়িতেই মৃণালিনীকে নিয়ে আলোচনা, কি ছটফটে মেয়ে , জ্বরে কাবু করে দিয়েছে। অভি জিজ্ঞাসা করেছে -থাকলোনা কেন? অভির মা তো বুক বেঁকিয়েই দিলেন ছেলের কথা শুনে মৃণালিনীকে না বলার ফল। নন্দিনী জানালো তাতে অভির কি দরকার ?
সৌদামিনী বলেছে অবশ্য শরীর খারাপ তাই।

নন্দিনীকে অভির মা ফের একবার ছেলেকে বোঝানোর দ্বায়িত্ব দিয়েছে। রাত্রে ছাতে টেনে নিয়ে গেছে অভিকে নন্দিনী। সোজাসুজি কথা
কাউকে ভালোবাসিস?

অভি – হঠাৎএ প্রশ্ন কেন?

নন্দিনী – মাসির এখনো ইচ্ছা তুই মৃণালিনীকে বিয়ে কর, আমাদের অনেকেরই তাই ইচ্ছা। সৌদামিনীকে তো দেখছি খুব ভালো মেয়ে, নাহলে বৌ নিয়ে সবার কত অভিযোগ আমার বা বাবা, বাড়ির সবাইকে দেখ কোনো অভিযোগ নেই, মৃণালিনীও তো তার বোন, আর তাছাড়া আমরা তো দেখেছি তাকে,তার সাথে সময় কাটিয়েছি।এমন মেয়ে লাখে একটা হয়।

অভি – জানি

নন্দিনী -তাহলে না কেন?

অভি – না বলিনি , কিন্তু ও রাজি হবে না

নন্দিনী -কেন? তুই কিছু বলেছিস ওকে,

অভি -অনেক কিছু ঘটেছে, ও আমার জন্য থাকেনি।

নন্দিনী – কি হয়েছে ?

এবার সব একে একে বললো অভি, শ্রেয়সী, মৃণালিনীর ফেসবুকে পোস্ট করা, মৃণালিনীকে অপমান করা, আর আর অভির মৃণালিনীকে ভালোবাসাটাও সব বলেছে।
অনেক্ষন কথা হয়েছে নন্দিনীর সাথে অভির। অভি মানা করেছে নন্দিনীকে এত কথা কাউকে বলার দরকার নেই।

 

 

 

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!