এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > ময়নাগুড়ি এলাকায় রাজনৈতিক হত্যার ঘটনায় কাঠগড়ায় অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী

ময়নাগুড়ি এলাকায় রাজনৈতিক হত্যার ঘটনায় কাঠগড়ায় অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী



রাজ্যের যুযুধান দুই রাজনৈতিক শিবির হলো বিজেপি এবং তৃণমূল। লোকসভা নির্বাচনের পর এই দুই রাজনৈতিক দল ক্রমাগত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে থাকে। লোকসভা ভোটের আগেই এই রাজনৈতিক সংঘর্ষ শুরু হয় ক্রমশ তা বাড়তে বাড়তে প্রাণহানিকর হয়ে ওঠে। একই ধারা বজায় রেখে সম্প্রতি তৃণমূল ও বিজেপি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে এক তৃণমূল নেতার। ঘটনাটি ঘটেছে ময়নাগুড়ি থানার চুরাভান্ডার এলাকায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ওঠে তুঙ্গে। দাবি ওঠে দোষীদের গ্রেপ্তার করার। ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ রবিবার সকালে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে।

রবিবার সকালে কোচবিহার জেলার বাংলাদেশ সীমান্তের কুচলীবাড়ী এলাকা থেকে। ময়নাগুড়ির চুরাভাণ্ডার এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ভোম্বল রায়ের খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাপস রায় বলে এক ব্যক্তিকে। তবে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি এলাকার বিজেপি কর্মী বলে দীর্ঘদিনের পরিচিত। হত্যার পরেই অভিযোগ ওঠে, এই বিজেপি কর্মী তৃণমূলের সভাপতি ভোম্বল ঘোষকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে। ঘটনার পর থেকেই যথারীতি অভিযুক্ত বেপাত্তা ছিলেন। রবিবার গ্রেপ্তার করার পর সোমবার ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়। সেখানে বিচারক তাঁকে 8 দিনের জেল হেফাজত দেন।

উল্লেখ্য, গত 14 ই ফেব্রুয়ারি ভোম্বল ঘোষের উপর হামলা করা হয়। জানা গেছে, সেই সময় ভোম্বলবাবু হুসলুরডাঙা থেকে বাজারে যাচ্ছিলেন। সেসময় তাঁর ওপর বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা করে বলে অভিযোগ ওঠে। আহত অবস্থায় শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় ভোম্বলবাবুকে। সেখানেই তিনি শনিবার মারা যান। মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছাতেই এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সাথে সাথেই পুলিশবাহিনীকে খবর দেওয়া হয় এবং তাঁরা এসে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভোম্বল ঘোষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মৃতদেহকে সন্ধ্যায় তৃণমূলের ময়নাগুড়ি ব্লক পার্টি অফিসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দলের বিভিন্ন নেতারা তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।

এদিন ময়নাগুড়ি তৃণমূল যুব সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপির আক্রমণে একটি তরতাজা প্রাণ আমরা হরালাম। ওঁকে হাঁসুয়া দিয়ে সেদিন কোপানো হয়েছিল। বিজেপি যদি মনে করে আমাদের কর্মীদের এভাবে মেরে এলাকা দখল করবে তবে ওরা ভুল ভাবছে।’ অন্যদিকে, ময়নাগুড়ির আরেক তৃণমূল নেতা মনোজ রায় বলেন, ‘ভোম্বল ঘোষ খুনে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি পুলিসের কাছে জানিয়েছি।’ অন্যদিকে জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপি সভাপতি বাপি গোস্বামী সম্পূর্ণ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এদিন বলেন, ‘ঘটনা দুঃখজনক তবে আমাদের কর্মীদের অহেতুক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।’ তবে ময়নাগুড়ি থানার আইসি জানিয়েছেন, ‘এখনও পর্যন্ত ওই ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’

সমস্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, রাজনৈতিক সংঘর্ষ সব সময় সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক। রাজনৈতিক দলের অনেক ঊর্ধ্বে যে মানুষ তা আজকাল সমস্ত রাজনৈতিক দল ভুলতে বসেছে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলিকেই নজর দিতে হবে। এই মুহূর্তে ভোম্বল ঘোষ হত্যার ঘটনায় এলাকায় রীতিমতো উত্তপ্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে সদা সর্বদা সতর্ক রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তবে এই হত্যার ঘটনায় বিজেপি কর্মীর নাম সামনে আশায় যথারীতি বিজেপি শিবির অস্বস্তির মুখোমুখি হবে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!