এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > পুজো নিয়ে কেন এত মাতামাতি? মৌলবাদীদের তীব্র রোষের মুখে মীর! তারপর যা করলেন জানলে চমকে যাবেন!

পুজো নিয়ে কেন এত মাতামাতি? মৌলবাদীদের তীব্র রোষের মুখে মীর! তারপর যা করলেন জানলে চমকে যাবেন!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- ভারতের সংবিধান বলে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। যেখানে একের মধ্যে অনেক বৈচিত্র। নানা ধর্ম-বর্ণ-জাতি ভাষা সমন্বয়ে এখানে প্রত্যেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবেই পরিচিত। সর্বোপরি প্রত্যেকে মানব ধর্মে দীক্ষিত। ধর্মীয় ভেদাভেদ এখানে যেমন গুরুত্ব পায় না, তেমনই গুরুত্ব পায় না অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি আক্রমণ, বিদ্বেষ, প্রতিবাদ। তবে অনেকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাভাবে ধর্মের ভেদাভেদ নিয়ে নানারকম কুরুচিকর মন্তব্যের শিকার হতে দেখা গেছে বিভিন্ন সেলিব্রেটিকে। যেখানে কিছুদিন আগে সাংসদের শাঁখা-সিঁদুর পরে শপথ নেওয়ার সময় নুসরত জাহানকে কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল মৌলবাদীদের। এমনকি রথের দড়িতে টান দেওয়ার পরেও শোনা গিয়েছিল বিভিন্ন মানুষের বিদ্রুপ। সেখানে এবার মৌলবাদীদের কটাক্ষের শিকার হলেন আরজে মীর।

কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন মীর। জহর কোট এবং পাঞ্জাবি পরা সেই ছবি নিমেষেই ভাইরাল হয়েছিল, কারণ আরজে হিসেবে হোক বা একজন কমেডিয়ান হিসাবেই হোক, তাঁর অনুরাগী সর্বত্র। তাই এহেন সাজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া মাত্রই অনুরাগীরা প্রশংসায় ফেটে পড়েন। তবে এখনো পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সমস্যা বাঁধে অন্য জায়গায়। ছবি কিন্তু চোখ এড়ায় না মৌলবাদীদের। যেই নজর পড়া আর সেখানেই তৈরি হয় সমস্যা।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

পূজো এসে গেছে। যদিও এবারে করোনা আবহে পুজোর সেই আমেজ নেই, তবুও পাঞ্জাবির সাজে সেজে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা সে ছবি মুহূর্তে মন জয় করে মীরের অনুরাগীদের। তবে এখানে মীরের অপরাধ হয় ছবির নিচে নীল ক্যাপশন নিয়ে। যেখানে তিনি লিখে দিয়েছিলেন “ধীরে ধীরে পুজোর মুডে ঢুকছে দেখো কে?” আর এতেই অপরাধ হয়েছে মীরের। সেই ক্যাপশন দেখে কার্যত যুদ্ধে নেমে পড়েছেন মৌলবাদীরা। তবে মীরের বিরুদ্ধে তাঁদের যুদ্ধের অস্ত্র কিন্তু সেই ধর্মীয় ভেদাভেদ। আর সেই ভোঁতা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করতে এসে যে কোনোভাবেই পেরে উঠবেন না তাঁরা, সে কথা বলাই বাহুল্য। কারণ মৌলবাদীরা যতই কটাক্ষ করুন না কেন একজন মুসলমান পরিবারের সন্তান হয়ে তিনি কিভাবে দূর্গা পূজার মতো হিন্দুদের উৎসব নিয়ে আদিখ্যেতা করতে পারেন, তবে মীর সেই মন্তব্যের জবাব দেবেন না সেটা হয় না।

আর তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় মৌলবাদীদের এই আক্রমণের পাল্টা আক্রমণ করতে ছাড়েননি মীর। আগের ছবি পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরেই তাই একটি ফেজ টুপি পরা ছবি দিয়ে তিনি মোক্ষম জবাব দেন সেই সব মৌলবাদীদের। সঙ্গে সম্প্রীতির বার্তা এনে দেয় তাঁর এক অসাধারণ কবিতা। যেখানে তাঁকে লিখতে দেখা যায়,

যে কয় মোরে বেশ্যার পোলা
তারে বুকেই জড়িয়ে ধরি
বেশ্যাও যে মায়ের জাত
তারে সমান সজদা করি
ধর্ম বিভেদ ভরাবে কি পেট
শুধায় আপনজনে
যাহা মসজিদ, তাহাই মন্দির
ভক্তি রবে মনে
আজানের ডাকে নামাবলী পরি
আবেগ মানবরূপী
যে শিরে বরিষে গঙ্গার জল
সেই মাথাই ঢাকে টুপি ॥

অন্যদিকে, যদিও এই ঘৃণ্য আচরণের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ শোনা গেছে অনেক অনুরাগীর কণ্ঠে। সেইসঙ্গে মৌলবাদীদের কড়া ভাষায় সত্যটা বুঝিয়ে দিতে কিন্তু ছাড়েননি তারা। কারণ এখনও পর্যন্ত যতই বাংলায় হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ভেদাভেদ করার প্রচেষ্টা করা হোক না কেন, তারা যে বঙ্গমাতার পৃথিবীতে একই বৃন্তে দুটি কুসুম একথা সর্বজন স্বীকৃত।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!