এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > মন্ত্রীত্ব ছেড়েছেন, আজই কি বিধায়ক পদ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও বড়সড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর?

মন্ত্রীত্ব ছেড়েছেন, আজই কি বিধায়ক পদ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও বড়সড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর?



আপনাদের সুবিধার্থে খবরের শেষে বিধানসভা ২০২১ উপলক্ষে আমাদের করা সর্বশেষ সমীক্ষার প্রতিটির লিঙ্ক দেওয়া আছে।

আপনার মতামত জানান -

প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতে পারেন, এমন একটি কানাঘুষো প্রায় মাস খানেক ধরেই শোনা যাচ্ছিল। কারণ দলের সঙ্গে অভিমান করে দলের সঙ্গে সম্পর্ক তলানীতে ঠেকে ছিল তাঁর। অবশেষে গতকাল শুক্রবার তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন। এদিকে আজ শনিবার তাঁর দিল্লি যাবার কথা। বাড়ছে তাঁর বিজেপি যোগের জল্পনা। তবে আগামী দিনে তিনি কি করতে চলেছেন, সে ব্যাপারে কিছুই স্পষ্ট করে জানান নি তিনি। ধোঁয়াশায় রেখেছেন তিনি তাঁর আগামী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে।

শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীদের একাংশের দাবি, বিধায়ক পদ ছেড়ে দিতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে তার বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়া। অপর অংশের দাবি সম্ভবত ব্যক্তি আক্রমণ ও বিতর্ক এড়াতেই মন্ত্রিত্ব ও বিভিন্ন সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। তবে আপাতত তিনি বিধায়ক থেকে যাবেন ও নিজের জনসংযোগ কর্মসূচি আগের মতই চালিয়ে যাবেন। এদিকে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর আগামীকাল রবিবার তাঁর প্রথম জনসভার কথা শোনা যাচ্ছে। সদ্যপ্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী রঞ্জিত বয়ালের স্মরণসভার আয়োজন করা হবে মহিষাদলে। এই সভায় তিনি নিজেকে তৃণমূল বিধায়ক হিসেবে তুলে ধরবেন কিনা? তা নিয়ে বাড়ছে কৌতুহল।

তবে, শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে এখনো আশা ছাড়তে নারাজ শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী এখনো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী। অন্যদিকে দমদমের সাংসদ সৌগত রায় এখনো শুভেন্দু অধিকারীর বিষয়ে আশাবাদী। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি বলেছিলেন যে, আবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও নাকি চাইছেন যে, আলোচনার রাস্তা একেবারেই বন্ধ না হয়ে যাক। তিনি এ বিষয়ে সবুজসংকেতও দিয়েছেন। এমনটাই তৃণমূল সূত্রের খবর।

আবার, শুভেন্দু অধিকারী বেশ কয়েক মাস ধরে দলহীন জনসংযোগ চালাচ্ছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে দলের অন্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের এক মন্ত্রী ও এক সংসদ একাধিকবার বলেছেন যে, শুভেন্দু অধিকারী সরকারের বিভিন্ন পদ আঁকড়ে ধরে, নানা সভা থেকে নানা রকম বক্তব্য রাখছেন। যাতে, দলের একাধিক নেতার বিড়ম্বনা তৈরি করেছে। তাই ব্যক্তি আক্রমণ রুখতে শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিত্ব ও বিভিন্ন সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীর বক্তব্য, ” ‘‘দাদা যা করার, সরকারি পদ ছেড়ে দিয়েই করবেন। কারণ, মন্ত্রিসভায় এবং বিভিন্ন সরকারি পদে থেকে তিনি বিভিন্ন অরাজনৈতিক কথা বলায় তা নিয়ে দলে অযথা বিতর্ক তৈরি হচ্ছিল। যা উনি চাননি। তাই মন্ত্রিত্ব-সহ সমস্ত সরকারি পদ ছেড়ে দিলেন!’’


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবার মধ্যে আরএসএস এর ভূমিকা রয়েছে বলে তার শিবিরের একাংশের দাবি। তাঁর এক অনুগামী জানিয়েছেন যে, অনেকেই জানেন না যে তার সঙ্গে আরএসএস-এর ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। ছোটবেলায় তিন শিক্ষাবর্গ আরসএস করেছিলেন তিনি। তাই বিজেপির চেয়ে সংঘ পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেশি তাঁর। এদিকে তিনি অকৃতদার। অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন তাঁর। এক জনসভায় পান্তা খাওয়া, গামছা পরা ছেলে বলে তিনি নিজেকে বর্ণনা করেন। অর্থাৎ, নিজেকে মাটির মানুষ বলে পরিচয় দিতে চান তিনি। তিনি, এটাও বোঝাতে চান যে, তিনি কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। দলে থেকে দলের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করতে চান না তিনি। তাই মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবার পর কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। সম্প্রতি তিনি দলের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য রাখবেন না। কারণ সেক্ষেত্রে দল বিরোধী কার্যকলাপ করার জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে দল।

অন্যদিকে গতকাল শুভেন্দু অধিকারী ইস্তফা দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক ডেকে ছিলেন তার সচিবালয়তে। যে বৈঠকে সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ছেড়ে দেওয়া দপ্তরগুলি এখন মুখ্যমন্ত্রীর হতে থাকবে বলে স্হির হলো। শুভেন্দু অধিকারী যদি দল ছেড়ে দেন, তবে অধিকারী পরিবারের বাকি দুজন সাংসদ শিশির অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারির কাছে তাদের অবস্থান জানতে চাইতে পারে তৃণমূল। তৃণমূলের একাংশের কথায়, শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ নিয়ে দলের অন্দরে এখনো আলোচনার অবকাশ আছে। দলের এক নেতা জানান যে, শুভেন্দু অধিকারী এখনো দল ছেড়ে যাননি, দলের বিধায়ক আছেন। ফলে আলোচনার অবকাশ আছে। শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তর গুলি এখনো মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই আছে। তাঁর সঙ্গে যদি মিটমাট হয়ে যায়, তাঁকে আবার তাঁর দপ্তরগুলি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

প্রসঙ্গত শুভেন্দু অধিকারীর পূর্বে দলের দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল ছেড়েছিলেন মুকুল রায়। তিনি এখন বিজেপিতে। অনেকে মনে করছেন শুভেন্দু অধিকারী যে ইস্তফা পত্র দিয়েছেন, তা চূড়ান্ত।এই ইস্তফা পত্র দ্রুত গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়েছিল। যা রাজ্যপালকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। রাজ্যপাল জানান, তিনি পদত্যাগপত্র নিয়ে দ্রুত সংবিধান মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন। তাই তা ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যত অসম্ভব বলেই অনেকের ধারণা।

শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার পর মুকুল রায় জানিয়েছিলেন যে, তার পদত্যাগকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। শুভেন্দু অধিকারী গণ আন্দোলনের ফসল। তিনি যদি তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন, তবে তাদের পক্ষে ভালো হবে। শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জন্যও ভালো হবে। সকলে মিলে তাঁকে দলে স্বাগত জানাবেন। অন্যদিকে, তাঁর মন্ত্রিত্ব ত্যাগকে তৃণমূলের শেষের দিন বলে মন্তব্য করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষ আরও জানিয়েছিলেন যে, কোন সুস্থ মানুষ শাসকদল তৃণমূলে থাকতে পারেন না।

একনজরে দেখে নিন আমাদের সর্বশেষ বিধানসভা ২০২১ ওপিনিয়ন পোল –

# মুর্শিদাবাদ জেলার ওপিনিয়ন পোল – দ্বিতীয় পর্ব – 

# মুর্শিদাবাদ জেলার ওপিনিয়ন পোল – প্রথম পর্ব – 

# মালদহ জেলার ওপিনিয়ন পোল –

# দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ওপিনিয়ন পোল –

# উত্তর দিনাজপুরে জেলার ওপিনিয়ন পোল –

# জলপাইগুড়ি ও কালিম্পঙ জেলার ওপিনিয়ন পোল –

# আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং জেলার ওপিনিয়ন পোল –

# কুচবিহার জেলার ওপিনিয়ন পোল –

আপনার মতামত জানান -
আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!