এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > এবার বাংলার দিকে ‘বিশেষ নজর’ দিতে বাধ্য হবেন মোদী-শাহ

এবার বাংলার দিকে ‘বিশেষ নজর’ দিতে বাধ্য হবেন মোদী-শাহ

Priyo Bandhu Media


সারাদিনের টানটান উত্তেজনার শেষে পরিষ্কার হল গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশের ভাগ্য। সকালে ভোটবাক্স খোলার সাথে সাথে দেখা যায় অনেক পিছিয়ে থাকা কংগ্রেস রীতিমত টক্কর দিচ্ছে বিজেপির সঙ্গে, কিন্তু দুপুর গড়ানোর সাথে সাথে দেওয়াল লিখানটা স্পষ্ট হয়ে যায়। কংগ্রেসের ভাগ্যে ‘ভালো খেলিয়াও পরাজিত’ তকমা জুটতে চলেছে। যে রাহুল গান্ধীকে এতদিন পাত্তাই দিত না বিজেপি নেতৃত্ত্ব সেই রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ত্বেই নতুন অক্সিজেন পেল কংগ্রেস। আর সুদূর গুজরাট বা হিমাচল প্রদেশে ভোটগণনা হলেও তার আঁচ এবার এসে পড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আর তাই এখন বাংলা নিয়ে ‘ঢিলেঢালা’ মেজাজ ছেড়ে ‘রনংদেহী’ মূর্তিতে নেমে পড়া ছাড়া আর কোনো পথই খোলা থাকলো না নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ জুটির কাছে।
২০১৪ তে যখন দেশজুড়ে প্রবল মোদী ঝড় বইছে, তখন দেশের দুপ্রান্তে কার্যত ব্যক্তিগত ক্যারিশমায় তা রুখে দিয়েছিলেন দুই ‘অগ্নিকন্যা’, দক্ষিণে তামিলনাড়ুতে জয়ললিতা আর পূর্বে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা দেশ যখন কার্যত ‘মোদী-ফায়েড’ তখন বাংলা আর তামিলনাড়ুতে দাঁতই ফোটাতে পারেনি বিজেপি। আর লোকসভার আসনসংখ্যার নিরিখে দুটি রাজ্যই ‘লোভনীয়’, বাংলায় ৪২ টি আর তামিলনাড়ুতে ৩৬, কেন্দ্রে যেকোন সরকার গড়তে বা ফেলতে এই দুটি রাজ্যের সাংসদরাই দারুন অর্থবাহী ভূমিকা পালন করতে পারে।
এখন দেশজুড়ে যেখানে যেখানে বিজেপি সুপার রেজাল্ট করেছিল, সেখানে আর আসন সংখ্যা বাড়ানো কার্যত কঠিন, বরং কোথাও কোথাও নামতে চলেছে প্রবল ধ্বস, যে ইঙ্গিত দিয়ে গেল গুজরাট আর হিমাচল প্রদেশ। যেমন – গতবার গুজরাট, রাজস্থান মধ্যপ্রদেশে সব আসন জিতেছিল বিজেপি। অন্য বড় রাজ্যগুলির মধ্যে দুর্দান্ত ফল হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, জম্মু-কাশ্মীর, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড। এমনকি কংগ্রেস শাসিত বড় রাজ্য কার্নাটাকেও অপ্রত্যাশিত রকমের ভালো ফল হয়েছিল। আর এখানেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা উপরের এই কোনো রাজ্যেই প্রায় ২০১৪ এর থেকে ২০১৯ এ ‘ভালো’ ফল করার আশা নেই বিজেপির। সবথেকে ভালো ফল হবে যদি ২০১৪ এর সমান সংখ্যক এই রাজ্যগুলির কোনটা থেকে বিজেপি পায়। অর্থাৎ এই রাজ্যগুলি থেকে শক্তিক্ষয় করতে চলেছে বিজেপি। কিন্তু কেন্দ্রে ক্ষমতায় যদি বিজেপিকে স্বমহিমায় টিকে থাকতে হয়, তাহলে সেই ক্ষয় হওয়া শক্তি তুলে আনতে হবে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু আর ওড়িশা থেকে।
কিন্তু ওড়িশার লোকসভা আসনের সংখ্যা বাংলা আর তামিলনাড়ুর অর্ধেকের কাছাকাছি বা কম। অন্যদিকে তামিল ভূমি রাজনীতি আবর্তিত হয় নিজস্ব নিয়মে। সেখানে রাজনীতির সুতো বাঁধা থাকে অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের হাতে। আর তাই অমিত শাহরা চাইছেন তামিল সুপারস্টার রজনীকান্তকে ভোটের ময়দানে নামাতে, কিন্তু সেই সম্ভবনা প্রস্তাবনার স্তরেই থেকে গেছে দীর্ঘদিন। উল্টোদিকে আরেক তামিল সুপারস্টার কমল হাসান রাজনীতিতে আসতে চলেছেন বলে খবর এবং তিনি নাম লেখাতে চলেছেন বিজেপি-বিরোধী শিবিরেই।
আর তাই ‘হাতে রইলো পেন্সিল’ অর্থাৎ বাংলা। বাংলায় ৪২ টি আসনের মধ্যে অর্ধেক সংখ্যক যদি অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদী পকেটে পুড়তে না পারেন তাহলে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসা নাও হতে পারে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীর। আর তাই স্বভাবিক রাজনীতির অঙ্কে বাংলার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় পরে রইলো না বিজেপির কাছে। সুতরাং খুব তাড়াতাড়িই মুকুল রায়-দিলীপ ঘোষদের কাছে বাংলা নিয়ে ‘বিশেষ পরিকল্পনা’ রূপায়ণের ‘অমিতি’ দাওয়ায় আসতে বাধ্য বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ বঙ্গ-রাজনীতি আবার টানটান উত্তেজনায় ভরপুর হতে চলেছে নতুন করে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!