এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > সঙ্গ ছাড়ছে একের পর এক শরিক, জোট বাঁচাতে মোদী-শাহের নতুন ধামাকা

সঙ্গ ছাড়ছে একের পর এক শরিক, জোট বাঁচাতে মোদী-শাহের নতুন ধামাকা



একের পর এক জোট সঙ্গী এনডিএ জোট থেকে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, আর এই ঘটনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ কেন্দ্রের বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের আছে নিঃসন্দেহেই দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইড়ু , কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাঁর রাজ্যের জন্যে বিশেষ অধিকার দাবি করেন। যখন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে দাবি পূরণের কোনো সম্ভবনা দেখতে পেলেন না তখন টিডিপি শুধু জোটের সদস্য পদ প্রত্যাহার করলেন তাই নয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে দলের দু’জন সাংসদ ইস্তফা দিলেন।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

টিআরএস সুপ্রিমো কে চন্দ্রশেখর রাও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিরোধী জোট গড়ার বার্তা দিয়েছে। কংগ্রেস সংসদে ওয়াই এস আর অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। সপা-বসপা জোটে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের লোকসভা উপ নির্বাচনে দুটি আসনেও পরাজয় মিলেছে বিজেপি সরুকারের।দলের মধ্যে থেকে দল বিরোধী প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন অভিজ্ঞ দুই বিজেপি নেতা শত্রুঘ্ন সিনহা ও যশবন্ত সিনহা। এইসব নানাবিধ কারণে শুধু দলের বাইরে নয় দলের মধ্যেও প্রবল সঙ্কটময় অবস্থায় রয়েছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে দল সহ জোট শরিকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে নানা কৌশল গ্রহণ করছে বিজেপি দল। মঙ্গলবার বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে করে বিহারের চম্পারণে এলেন প্রধানমন্ত্রী।  বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সেখানে তাঁকে গোলাপ দিয়ে স্বাগত জানান। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে মোতিহারি যান এবং মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান। তারপরে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান মঞ্চে ফিরে এসে নিজের বক্তব্য রাখলেন। প্রধানমন্ত্রী এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিহার রাজ্যের বহু মানুষের সামনে নিজের ভাষণে বললেন,”বিহার সরকাররে সম্ভাব্য সবরকম সাহায্য করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এমনকী বিহার সরকার যেসব প্রকল্পের উদ্যোগ নেবে কেন্দ্রীয় সরকার তাতে সহায়তা করবে।” এদিন প্রধানমন্ত্রী বিহারে চারটি নিকাশি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পাটনায় ১১টি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। এছাড়াও তিনি জানালেন বিহারে সব মিলিয়ে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার দ্রুত বিনিয়োগ হবে এমন কথা। তিনি এদিন  মোতিহারি থেকে কাটিহার-দিল্লি হামসফর এক্সপ্রেসের সূচনা করলেন। মোতিহারি এবং সুগাওলিতে এলপিজি প্ল্যান্ট প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছতা নিয়ে সচেতনতা শিবিরের সাফল্যের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন এদিন। চম্পারণে সত্যাগ্রহ থেকে স্বচ্ছতাগ্রহ তৈরী করার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী বললেন, “১৯১৭ সালের ১০ এপ্রিল চম্পারণে সত্যাগ্রহ শুরু করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এই পথ দেখিয়ে ছিলেন তিনি। যা এখন সত্যাগ্রহ থেকে স্বচ্ছতাগ্রহ পালন করা উচিত। গত ১০০ বছরে তিনটি কঠিন পরিস্থিতিতে দেশকে পথ দেখিয়েছিল বিহার। তখন দেশ পরাধীন ছিল। বিহার গান্ধীজিকে মহাত্মা বানিয়েছে। বাপু বানিয়ে দিয়েছে। তাই আমি আজ মহাত্মা গান্ধীর সেই সাহসকে স্যালুট করি। আর দেখতে চাই সব দেশবাসীর মধ্যে সেই সাহসের ছাপ।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রীর , বিহারের জন্যে এত উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ এবং সর্বোপরী মহত্মা গান্ধীর স্মৃতি বিজরিত স্থান চম্পারনে বাপুর নীতি আদর্শের কথা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এই কর্মকান্ডকে বিহারকে আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনে অনায়াসেই বিজেপির পাশে পাওয়ার ক্ষেত্রে সফল প্রয়াস বলে মনে করছেন

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!