এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মোদী-মমতার সাক্ষাৎকার নিয়ে কটাক্ষ হেভিওয়েট বাম নেতার!

মোদী-মমতার সাক্ষাৎকার নিয়ে কটাক্ষ হেভিওয়েট বাম নেতার!



 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বামফ্রন্টের তরফ থেকে অতীতে বহুবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভারতীয় জনতা পার্টির “বি টিম” বলে অভিহিত করা হয়েছিল। আর এবার রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা সংশোধিত নাগরিক আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মধ্যেই একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে কলকাতায় আসা ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপির আঁতাতের জল্পনা উস্কে দিলেন প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম।

বস্তুত, কলকাতা বিমানবন্দরের সার্ধ শতবর্ষ উদযাপন থেকে শুরু করে হাওড়া ব্রিজে আলোকসজ্জা এবং নতুন সৌন্দর্যায়নের উদ্বোধনসহ একাধিক সরকারি কর্মসূচি পালন করতে কলকাতায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর ফাঁকেই রাজভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করার কোনো রকম সুযোগ ছাড়তে চাননি সিপিএমের দাপুটে নেতা তথা রায়গঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ।

এদিন মমতা-মোদির সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে সেলিম সাহেব বলেন, “এখন মোদির কাছাকাছি আসতে চাইছে মমতা।” শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই ধর্মতলা চত্বরে চলতে থাকা বামফ্রন্টের ছাত্র-যুব সমাবেশ থেকে নরেন্দ্র মোদি “গো ব্যাক” স্লোগান তীব্র মাত্রায় উঠতে শুরু করে। পাশাপাশি সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিচারীতা করছেন। মুখে এক রকম, কাজে আরেক রকম করছেন। তিনি সংশোধিত নাগরিক আইন এনআরসি এনপিআর নিয়ে ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ বলছেন, আর অন্যদিকে ক্যাকা ছি ছি এখন কাছাকাছিতে পরিণত হয়েছে।”

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত এই ভাষাতেই আক্রমণ করেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম। অন্যদিকে আবার কলকাতা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানাতে যাওয়া কলকাতার মেয়র তথা পশ্চিমবঙ্গের পৌর এবং নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেন, “মমতা ফিরহাদ হাকিমকে বিমানবন্দরে পাঠিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, মমতা আসলে কি করতে চাইছেন! মুখে সিএএ বিরোধিতা করছেন, আর অন্যদিকে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।” পাশাপাশি কলকাতার মহানাগরিক কলকাতার নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করছেন না বলে অভিযোগ জানিয়েছেন এই প্রাক্তন সাংসদ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারি কর্মসূচি পালন করতে আসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরে তাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান পুর এবং নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরে তাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান পুর এবং নগরোন্নয়নমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের এই সৌজন্যমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে এদিন কটাক্ষ করেন মহম্মদ সেলিম।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

বামফ্রন্টের তরফ থেকে কেন্দ্র সরকারের পাশ করা সংশোধিত নাগরিক আইন জাতীয় নাগরিক পঞ্জী এবং এনপিআর বিরোধী আন্দোলন চললেও, বামফ্রন্টের প্রভাবশালী নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিলের মূল নিশানায় এদিন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেলিম সাহেবকে একাধিক প্রশ্নবানে জর্জরিত করে মুখ্যমন্ত্রী উদ্দেশ্যে বলেন, “দ্বিচারিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণেই একদিকে সিএএ বিরোধী আন্দোলনে মোদির বিরুদ্ধে কথা বলছেন, অন্যদিকে মোদিকে স্বাগত জানাতে পুষ্পস্তবক দিতে ফিরহাদ হাকিমকে পাঠাচ্ছেন।” তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংশোধিত নাগরিক আইন এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জী বিরোধিতায় পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য বিরোধী দলকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর সেই কারণেই সিপিএমের তরফ থেকে কেন্দ্রের মোদি সরকার এবং রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে একযোগে আক্রমণ করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো অনুসারে প্রধানমন্ত্রী কোনো অঙ্গরাজ্যে আসলে সেখানকার সরকারের কর্তব্য তাকে স্বাগত জানানো‌।

এই দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। আর সেই কারণেই সিপিএম নেতা যাই বলুন না কেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আগামী দিনে এনআরসি, এনপিআর এবং সংশোধিত নাগরিক আইন বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনকে বাম নেতৃত্ব টেক্কা দিতে পারে কিনা! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!