এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > রামমন্দির নিয়ে দিল্লি বিধানসভার আগে মোদীর মাস্টারস্ট্রোক – জানুন বিস্তারিত

রামমন্দির নিয়ে দিল্লি বিধানসভার আগে মোদীর মাস্টারস্ট্রোক – জানুন বিস্তারিত



গত নভেম্বর মাসে ভারতবর্ষের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের রাম মন্দির বাবরি মসজিদ মামলায় আদালতের রায়ে কার্যত ভাবেই বলা হয়েছিল, অযোধ্যার ওই জায়গায় গড়ে উঠবে রাম মন্দির। সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারকে আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন মন্দির নির্মাণের জন্য একটি ট্রাস্ট তৈরি করতে। আর এবার দিল্লী নির্বাচনের প্রচারপর্বের একেবারে শেষ লগ্নে লোকসভায় দাঁড়িয়ে ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করলেন, রাম মন্দির তৈরি করার জন্য ট্রাস্টি নির্মাণের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

এক্ষেত্রে 15 জন সদস্য বিশিষ্ট ট্রাস্ট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে ক্যাবিনেট। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট নাম হবে 15 সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির। এদিন লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, অযোধ্যায় একটি পবিত্র এবং সুন্দর রাম মন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে। এই ট্রাস্ট স্বাভাবিকভাবেই লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদদের মধ্যে জয় শ্রীরাম স্লোগানের দেখতে পাওয়া যায়।

তারা রীতিমতো দুহাত তুলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে অভিবাদন জানাতে থাকেন। নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেক ভারতবাসীর মত আমার হৃদয়ে শ্রী রামচন্দ্রের মাহাত্ম্য রয়েছে।” এমনকি উল্লেখযোগ্যভাবে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ যেই জমির অংশ রাম মন্দির তৈরীর জন্য দেওয়া হয়েছে, তার আশেপাশের আরও 67 একর জমি রাম মন্দির তৈরীর ক্ষেত্রে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু রাম মন্দিরের জমি প্রদান নয়, মহামান্য সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে 5 একর জমি প্রদানেরও প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী।

এমনকি রাম মন্দিরের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরে দেশবাসী যেভাবে ন্যায় ব্যবস্থাকে এবং দেশের আইনি ব্যবস্থাকে সম্মান জানিয়েছেন, দেশবাসীর সেই ভূমিকাকেও ভুরি ভুরি প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “সমস্ত ধর্মাবলম্বী কাছে আবেদন, আমরা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে একজোট হয়ে রাম মন্দির গড়ে তুলতে সমর্থ হই।” হিন্দু, মুসলিম, শিখ, জৈন, পারসিক, বৌদ্ধ, ঈশাই সকলকেই একটি বৃহত্তর পরিবারের সদস্য বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিনের লোকসভা অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণার পরেই ভারতবর্ষের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ঘোষণা করতে দেখা যায়, 15 সদস্য বিশিষ্ট রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টে একজন সদস্যও থাকবে। শুধু তাই নয়, সেই দলের সদস্যের নেতৃত্বে চলবে স্ব-শাসিত ওই ট্রাস্ট। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণার মধ্যে কিছুটা রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছে একাংশের বিশ্লেষকেরা।

তাদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে দলিত ভোটকে মাথায় রেখেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট। তবে বিশ্লেষকদের আরেকাংশের মতে, শুধুমাত্র বর্ণহিন্দু নয়, রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের নেতৃত্ব স্থানে দলিত সম্প্রদায় ভুক্ত ব্যক্তিকে রেখে সামাজিক জাতের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রসঙ্গত, একসময় যেই ভারতীয় জনতা পার্টি লোকসভায় মাত্র দুটি আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

লালকৃষ্ণ আদবানি এবং মুরলী মনোহর যোশীর সময় রাম মন্দির ইস্যুকে সামনে রেখে সেই ভারতীয় জনতা পার্টি প্রথমে দেশের প্রধান বিরোধীদল এবং পরবর্তীতে দেশের শাসক দলে পরিণত হয়। 1999 সাল থেকে শুরু করে 2004 সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স’ সরকার গঠন হয়েছিল এই রাম মন্দিরের সামনে রেখেই। তবে 2004 সাল থেকে শুরু করে 2014 সাল এবং পরবর্তীতে 2019 সাল পর্যন্ত গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে।

এখন আর ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে শরিক দলগুলোর উপরে নির্ভরশীল নয়। পরপর দুবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে পদ্মফুল শিবির। কিন্তু যাই হোক না কেন, ভারতীয় জনতা পার্টির উত্থান এবং গঠন সব কিছুতেই যে অযোধ্যা এবং রাম মন্দিরের মহিমা জড়িয়ে রয়েছে, সেই বিষয়ে একমত প্রায় সকলেই।

তাই নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীর এই রকম ঘোষণা এবং রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে দলিত ব্যক্তিকে রাখা আগামীদিনে দিল্লি নির্বাচনের উপর কি প্রভাব ফেলে এবং রাম মন্দির নির্মাণের পরে ভারতীয় জনতা পার্টির ভারতব্যাপী রাজনীতি কোন অভিমুখে যাত্রা করে! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
Facebook Friends
error: Content is protected !!