এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > মিটেও মিটছে না ক্ষোভ, ফের বৈঠকে গরহাজির দুই নেতা নেত্রী, ফের ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ্যে

মিটেও মিটছে না ক্ষোভ, ফের বৈঠকে গরহাজির দুই নেতা নেত্রী, ফের ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ্যে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – সম্প্রতি হুগলী জেলাতে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল তথা অন্তর্দ্বন্দ্ব বারবার প্রকাশ্যে চলে আসছে। অল্প কিছুদিন আগেই ডানকুনি শহরে তৃণমূল বিধায়ক স্বাতী খোন্দকারের ডাকা সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন ডানকুনি শহর যুব তৃণমূল সভাপতি ও সেইসঙ্গে ডানকুনি পুরসভার বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। আবার উত্তরপাড়ায় তৃণমূলের এক কর্মী সম্মেলনে হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না তৃণমূল দলের করে খাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।

এই নেতাদের ধাক্কা দিয়ে দল থেকে বের করে দেওয়ার কথা তিনি বলেছিলেন। যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়েছিল। আবার উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল হুগলি জেলা তৃণমূল সভাপতি দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। বারবার যখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার হুগলি জেলা তৃণমূল শিবির, তখন দলের গোষ্ঠী কোন্দল মেটাতে হস্তক্ষেপ করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপর শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশানুযায়ী হুগলিতে কোর কমিটির বৈঠকের আহ্বান করে গত শনিবার দলকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন জেলা তৃণমূল নেতারা।

এরপর গতকাল রবিবার তৃণমূল দলের এক ব্লক সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না। এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার, মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত, অসীমা পাত্র, বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, রচপাল সিংহ, মানস মজুমদার, হুগলি জেলা তৃণমূল সভাপতি দিলীপ যাদব প্রমুখরা। মালিয়া বিশ্বনাথ সেবা সমিতিতে দলের এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এই সম্মেলনে দলের ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে একাধিক বক্তব্য রেখেছিলেন হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না।

কিন্তু হরিপালের এই ব্লক সম্মেলনে উপস্থিত হন নি শাসকদল তৃণমূলের দুজন জেলা পরিষদ সদস্য। যাঁরা হলেন শম্পা দাস ও সমীরণ মিত্র। সম্মেলনে তাঁর অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী শম্পা দাস জানিয়েছেন, ” মহিলা তৃণমূলের ব্লক সভানেত্রী হয়েও সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেলাম না। আগেও কিছু কর্মসূচিতে আমাকে ডাকা হয়নি। সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। বিধায়ক কি দলীয় অনুশাসনের উর্ধ্বে? ’’ আবার, তাঁর অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে সমীরণ মিত্রের বক্তব্য, ” দলে ঐক্যের কথা বলা হচ্ছে। তা হলে ঐক্য কি শুধু নেতাদের মধ্যে জরুরি? আমার মতো কর্মীদের দরকার নেই? ’’


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তৃণমূলের এই দুই নেতা-নেত্রী শম্পা দাস ও সমীরণ মিত্রর এই সম্মেলনে অনুপস্থিতি সম্পর্কে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ” আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয়, কারা বাদ পড়লেন বা আমন্ত্রণ পেলেন না। তবে, কেউ যদি দলের জেলা সভাপতির কাছে অভিযোগ জানান, আমি দেখব। আমার প্রথম কাজ ঐক্যবদ্ধ ভাবে সবাইকে নিয়ে সংগঠন মজবুত করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া।’’ তবে এ প্রসঙ্গে বিধায়ক বেচারাম মান্না কোন বক্তব্য রাখেন নি ।এ বিষয়ে তাকে ফোন করা হলে, তিনি নিরুত্তর ছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপেও এ বিষয়ে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে দেখা যায়নি তাঁকে।

বস্তুত হরিপাল ব্লকে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল বহু পুরনো ব্যাপারে। আম্ফান এর পর থেকে দলের গোষ্ঠী কোন্দল যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃণমূল নেত্রী শম্পা দাস অভিযোগ করেছিলেন যে, বিধায়কের অনুগামী এক পঞ্চায়েত প্রধান আম্ফান ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ গুলি অন্যায় ভাবে বিক্রি করেছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, এই প্রধানের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় তৃণমূল দলের বেশ কিছু কর্মী সমর্থক তাঁকে হেনস্থা পর্যন্ত করেছিলেন। বস্তুত হুগলি জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বতে কিছুতেই লাগাম পরানো যাচ্ছে না। যা নিয়ে উদ্বেগে আছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!