এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে বাসযাত্রার মাঝেই গুরুত্ত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে লাগাচ্ছে ‘মিনি স্বাস্থ্যভবন’

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে বাসযাত্রার মাঝেই গুরুত্ত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে লাগাচ্ছে ‘মিনি স্বাস্থ্যভবন’



পুজোর আগেই মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্কপ্রসূত ‘এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালু করেছিল রাজ্যসরকার জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরগুলির সঙ্গে হেড কোয়ার্টার্সের মত বিনিময় এবং বকেয়া কাজকর্মের দ্রুত নিষ্পত্তি করার তাগিদে। এবার এক ধাপ এগিয়ে এক্সচেঞ্জের দ্বিতীয় দফায় জেলা পরিদর্শনে বেরিয়ে ‘মিনি স্বাস্থ্যভবন’ সেরে ফেলল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৈঠক। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার সময় বাসচলাকালীনই বৈঠকে জনস্বার্থমুখী ছটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল স্বাস্থ্যকর্তারা।

উত্তরবঙ্গের বাগডোগরা থেকে রায়গঞ্জ (পাঁচ ঘণ্টা), রায়গঞ্জ থেকে মালদহ (দেড় ঘণ্টা), মালদহ থেকে বুনিয়াদপুর আসা যাওয়া (তিন ঘণ্টা), মালদহ থেকে মুর্শিদাবাদ (সাড়ে তিন ঘণ্টা) এবং সবশেষে ১৩ তারিখ মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় আসার সময় (পাঁচ ঘণ্টা)। ১১ থেকে ১৩ নভেম্বর— তিনদিন এই ১৮ ঘণ্টার বাসযাত্রার মাঝেই এভাবে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরে নেওয়ার নজির রাজ্যসরকারের আর কোনো দপ্তরে দেখা গিয়েছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে রাজনৈতিকমহলের। আলাদা ভাবে দামী গাড়ি করে জেলা পরিদর্শনে যাওয়ার থেকে একসঙ্গে গেলে খরচ যেমন কমানো যায়,তেমনি দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা একসঙ্গে থাকার ফলে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও সম্পন্ন করা যায়। এতে একরকম সুবিধাই হয়েছে বলেই মনে করছেন দপ্তরের কর্তারা।

১৮ ঘন্টার বাস যাত্রায় যে ছটি জনস্বার্থমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল এস্টাব্লিশমেন্ট আইনের সরলীকরণ। এরসঙ্গেই আইন লাগু করতে গিয়ে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিবেশ অনুকূল রাখাটাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেকারণেই আইনের সরলীকরণে পক্ষপাতিত্ব করেছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা,যাতে লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়। ঠিক করা হয়েছে,লাইসেন্স খাতে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোর খরচ এক ধাপে অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে সহজেই লাইসেন্স পুনরায় নতুন করতে সমস্যা হবে না। কিন্তু অন্যায় থাকলে তার জন্যে শাস্তি ব্যবস্থাও যতোটা কড়া সম্ভব ততোটা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা সংক্রান্ত আধুনিক মানের যন্ত্রপাতি সরবারহ করা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। জরুরি প্রয়োজনের ভিত্তিতে হাসপাতালগুলোতে দ্রুত যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয় এদিন। এরপর সরকারি হাসপাতাল গুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও একটি বৈঠক হয়। যেখানে স্থির করা হয়,যে সব হাসপাতালের বিদ্যুৎ-এর অপর্যাপ্ত যোগানের জন্য ব্যাপক মাত্রায় ভুক্তভোগী, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জেনারেটর এবং ইউপিএস ব্যবস্থা চালু করা হবে।

বিশেষত, সিসিইউ, এইচডিইউ, আইসিসিইউ প্রভৃতি আশঙ্কাজনক রোগীদের ইউনিট থাকলে সেখানে একনাগাড়ে বিদ্যুৎ সরাবরাহকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া নার্সিং কলেজ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে। সম্প্রতি অনুমোদিত ২৭ টি নার্সিং কলেজের পরিচালনার দায়িত্ব প্রাইভেটের হাতে তুলে দেওয়া যেতে পারে বলেই মনে করলন স্বাস্থ্যদপ্তর কর্তারা। যুক্তি,বর্তমানে সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পরিষেবার মানের অবনতি ঘটছে এমন অভিযোগ ভুরিভুরি রয়েছে,এই প্রেক্ষিতে যদি নার্সিং কলেজগুলি সামলানোর ভারও সরকারের উপরে এসে পড়ে তাহলে সমস্যা আরো জটিল হবে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কলেজগুলো কারা পরিচালনা করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়,হাসপাতালগুলোতে নার্সদের অভাব মিটলেই হল। এই যুক্তিকে সামনে রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা। এদিনের বৈঠকে দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তার পাশাপাশি সচিব পদমর্যাদার একাধিক অফিসার উপস্থিত ছিলেন বলেই স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামীতে এরকম যাত্রাকালীন বৈঠক ফের আয়োজন করা হবে বলেই জানালেন দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!