এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > “মিমি-বিকাশকে” পূর্ণ সম্মান দিয়েও “রাজনৈতিক সচেতন” যাদবপুরে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রচার অনুপমের

“মিমি-বিকাশকে” পূর্ণ সম্মান দিয়েও “রাজনৈতিক সচেতন” যাদবপুরে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রচার অনুপমের



লোকসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে একে অপরকে উদ্দেশ্য করে জোর টিপ্পনি শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে একচুলও জায়গা ছাড়তে নারাজ অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে কুমন্তব্য করে শিরোনামে আসতে শুরু করেছেন।

তবে এরই ফাঁকে গত লোকসভা নির্বাচনে বীরভূমের বিদায়ী তৃণমূল সাংসদ তথা বর্তমানে বিজেপিতে যোগ দেওয়া যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অনুপম হাজরার গলায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষদের সম্মান প্রদর্শনের কথাই শোনা গেল। বস্তুত, এবারে এই যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন বিশিষ্ট টলিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী এবং অপর দিকে বামেদের প্রার্থী হয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত এবং বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।

আর একদিকে টলিউডের নজরকাড়া মুখ মিমি চক্রবর্তী এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে বামেদের পক্ষ থেকে বিকাশ রঞ্জনকে সরাতে এখানে বিজেপি তাদের প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক তথা বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরাকে দাঁড় করালে শেষ পর্যন্ত যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র কার দখলে থাকবে তা নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, ঠিক তখনই সেই অনুপম হাজরা শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী এবং বামেদের প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে সম্মান প্রদর্শন করার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে খোঁচা দিয়ে এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রবল লড়াইয়ের বার্তা দিলেন।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

জানা যায়, মঙ্গলবার রাজপুর মন্দিরে পুজো দিয়ে বারুইপুরে নিজের প্রচার সেরে বিকেলে যাদবপুর একটি কর্মীসভা করেন বিজেপি প্রার্থী অনুপম হাজরা। আর সেখানেই তৃণমূলের মিমি চক্রবর্তী সম্পর্কে তার মন্তব্য, “মিমি ভালো অভিনয় করে। তার পেশাকে আমি সম্মান জানাই। তাকে পেয়ে অনেক মানুষ সেলফি তুলে খুশি থাকতে পারেন, কিন্তু ভোটারদের কাছে ও গ্রহণযোগ্য নয়। ওর কোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম নেই। একজন শোপিস হিসেবে ওকে ওর দল ব্যবহার করবে।”

কিন্তু বামেদের বিকাশ ভট্টাচার্য! তিনি তো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বলেই পরিচিত! তাহলে তার বিরুদ্ধে লড়াইটা কি এতটাই সহজ হবে বিজেপির অনুপম হাজরার! এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী বলেন, “বিকাশবাবু আইনজীবী। ওনার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি ওনাকে সম্মান করি। কিন্তু এখন কেন্দ্র এবং রাজ্যের সব জায়গাতেই সিপিএমের অস্তিত্ব বিপন্ন। তাহলে বিকাশবাবুকে ভোট দেওয়ার অর্থ পুরোটাই জলে দেওয়া।”

তবুও অনুপম হাজরা তাঁকে “শোপিস” বলে কটাক্ষ করে যখন তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, ঠিক তখনই এদিন যাদবপুরের হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর সমর্থনে বারোভুতের মাঠে কর্মী সভায় উপস্থিত হয়ে সেই বিজেপি প্রার্থীকে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাজ্যের শাসকদলের হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এদিন তিনি বলেন, “মোদি সরকারের মেয়াদ উত্তীর্ণ। তারপর ওদের এত বড় বড় কথা মানায় না। আসলে মিমি দাঁড়ানোতে ওরা ভয় পেয়েছে। সাধারণ মানুষ এবার তৃণমূলকেই ভোট দেবে। তাই বোলপুরের এক গাঁইয়া এখানে এসে কি বলছে তাতে কিছু যায় আসে না।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, 23 মের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ঠিক কি আকার ধারণ করবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না কেউই। তবে রাজনীতিতে যেমন লড়াই থাকবে ঠিক তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্য সম্মান প্রদর্শন করাই সঠিক রাজনৈতিক নেতার কাজ। আর তাই বিরোধীদের খোঁচা দেওয়ার পাশাপাশি এদিন তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী এবং বামেদের প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যর পেশা সম্পর্কে তাদের কিছুটা সম্মানও প্রদর্শন করলেন বিজেপি প্রার্থী অনুপম হাজরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!