এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সংগঠন নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে মিম, ঘুম উড়ছে তৃণমূলের!

সংগঠন নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে মিম, ঘুম উড়ছে তৃণমূলের!



বেশ কিছুদিন আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএমের মৃদু পদধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। সম্প্রতি সংশোধিত নাগরিক আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ইস্যুতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যখন হিংসাত্মক আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তখনও বিভিন্ন উত্তেজক ঘটনার পিছনে মিম সঞ্জোগ খুঁজে পেয়েছিলেন রাজ্যের গোয়েন্দা দপ্তরে কর্তারা। তবে এবার আর কোনো ঢাকঢাক গুড়গুড় নয়, বাংলা জুড়ে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা বিস্তারের লক্ষ্যে রাজ্যের 294 টি বিধানসভা আসনের মধ্যে 220 টি আসনকে টার্গেট করে জেলায় জেলায় পার্টি অফিস নির্মাণ করে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করতে দেখা গেল এআইএমআইএমকে।

আর সেই সদস্য সংগ্রহ অভিযানে সদস্যতা গ্রহণের যে পরিসংখ্যান উঠে আসছে, তাতে করে রীতিমতো কাল ঘাম ঝড়তে শুরু করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। এআইএমআইএম সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিকভাবে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকেই তাদের সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা আসনে মিম নিজেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই 220 টি বিধানসভা কেন্দ্রকে লক্ষ করে বিধানসভা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করে দিয়েছে ওই সংগঠন বলে খবর। আর এতে করেই নিজেদের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ফাটল তৈরী হওয়ার আশঙ্কা করছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এআইএমআইএমের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিকভাবে শিকড় বিস্তার করার প্রথম দফাতেই তারা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এর বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

শুধু তাই নয়, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকেও নাম না করে এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসিকে আক্রমণ করতে দেখা যায়। মুখ্যমন্ত্রী জনসভা থেকে জানিয়েছিলেন, বাংলার মাটিতে কোনো রকম সাম্প্রদায়িক বা মৌলবাদী সংগঠনের কোনো জায়গা নেই। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমনকে প্রত্যাঘাত করতে ছেড়ে দেননি আসাদুদ্দিন ওয়েইসি। তিনি রীতিমতো সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বাংলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুখে নেই। আর এর পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেছিল ওয়েইসি।

এছাড়াও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সংসদে ভোটাভুটির তৃণমূল কংগ্রেসের 8 জন সদস্যের অনুপস্থিত থাকাকে রীতিমত কটাক্ষ করে মিম। বস্তুত, বাংলার ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসকেই নিজেদের প্রধান প্রতিপক্ষ বানিয়ে লড়াই করতে চাইছে এই সংগঠন। এছাড়াও সংশোধিত নাগরিক আইন এবং এনআরসি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের মাটি থেকে আগামী দিনে তারা আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সদস্য সংগ্রহ অভিযানে এই সংগঠনটি লক্ষেরও বেশি জনগণের সমর্থন পেয়েছে এমনটাই খবর। মিমের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের অধিকাংশ ব্লকেই তাদের যথেষ্ট উপস্থিতি রয়েছে।

এক্ষেত্রে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তাদের সমর্থন দিন প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। তবে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এই ঘটনা বড় চিন্তার কারণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ এতদিন পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু ভোটারদের অধিকাংশ মানুষের সমর্থন সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এক্ষেত্রে যদি রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে এআইএমআইএম থাবা বসায়, তাহলে অতি সহজেই 2 থেকে 3 শতাংশ মানুষের ভোট নিজেদের দখলে নিয়ে যেতে পারে তারা।

এমনটা হলে নিজেদের দখলে থাকা হিন্দু ভোটকে সম্বল করে তৃণমূল কংগ্রেসকে কিন্তু খুব সহজেই টেক্কা দিতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি বলে মত সমীক্ষকদের একাংশের। সব কিছু মিলিয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু করে মালদা, উত্তর দিনাজপুর থেকে শুরু করে 24 পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় যেইভাবে আসাউদ্দিন ওয়েইসির এআইএমআইএম নিজেদের সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করেছে, তাতে করে রীতিমতো চাপের মুখে পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এখন আগামী দিনে সংখ্যালঘু ফাটল ধরার এই ঝুঁকিকে কীভাবে প্রতিহত করে ঘাসফুল শিবির! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!