এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > মহাজোট ঘোষণা হতেই তীব্র আক্রমণে লড়াই জমিয়ে দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

মহাজোট ঘোষণা হতেই তীব্র আক্রমণে লড়াই জমিয়ে দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী



উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ-মায়াবতীর আসনরফা চূড়ান্ত হতেই যে প্রশ্নটা রাজনৈতিকমহলে ঘুরপাক খাচ্ছিল সেটি হল,বুয়া-ভাতিজার মিলিত জোট কি ১৯’এর লোকসভা নির্বাচনে মোদীর রক্তচাপ বাড়াতে চলেছে? এমনকি এই মহাজোটের পর জল্পনাকে উস্কে দিয়ে খোদ বসপা সুপ্রিমো মায়াবতী প্রকাশ্যে দাবী করেছিলেন,এই সপা-বসপা জোট বিজেপির রাতের ঘুম কাড়বে। মায়াবতী-অখিলেশের এই জোট আদৌ কেন্দ্র সরকারকে চাপে ফেলতে পেরেছে কিনা তা নিয়ে এখনই স্পষ্ট কিছু বোঝা না গেলেও বিজেপির ভীত যে একটু হলেও এর জেরে কেঁপে উঠেছে, তার প্রমাণ দিয়ে দিল প্রধানমন্ত্রীর গত দু’দিনের বক্তব্য।

শনিবার দলের কেন্দ্রীয় বৈঠকে বিরোধীদের এই জোটকে সরাসরি কটাক্ষ করে সংকীর্ণ স্বার্থ এবং সুবিধাবাদী বলে দাবী করলেন। বলেছিলেন, বিরোধীরা ‘মজবুর’ সরকার গড়তে চায়,আর তিনি চান ‘মজবুত’ সরকার গড়তে। পরেরদিন অর্থাৎ রবিবারও একই সুর শোনা গেল তাঁর গলা,তবে এবার অন্য ভাষায়। বললেন,”বিরোধীরা চায় দুর্বল সরকার। যাতে অবাধে লুটেপুটে খাওয়া যায়। তাদের একমাত্র প্রতিপক্ষ আমি। কারণ আমি চাই মজবুত সরকার।”

প্রকাশ্যেই নিজস্ব স্টাইলে বিরোধীদের আক্রমণ শানিয়ে বললেন,বিরোধীরা আসলে বড় বিভ্রান্ত। মোদী খারাপ,এই বিজেপি সরকার কোনো কাজ করছে না,আমজনতা মোদীকে পছন্দ করে না। এসব বলার একটুও সুযোগ ওরা ছাড়ে না। অথচ এই মোদীকে রুখতেই ওদের সুবিধাবাদী জোট করতে হচ্ছে। এরপর নামোল্লেখ না করেই অখিলেশ-মায়াবতীকে আক্রমণ করে বললেন,এতোদিন যাঁরা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একে অপরের চিরশত্রু ছিলেন,তাঁরাও জোট বেঁধেছে।

এরপর সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন,”বন্ধুরা, মোদি যদি এতই খারাপ হবে তাহলে মোদিকে হারাতে মহাজোট করার কী দরকার? আপনাদের কী একা লড়ার মতো আত্মবিশ্বাস নেই?” আসলে স্পষ্ট ভাষায় মোদী বিরোধীদের লোকসভা ভোটে একা লড়াই করার ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন,এমনটাই অভিমত বিশ্লেষকদের। এই প্রেক্ষিতে বিরোধীদের দাবী,সপা-বসপাকে এক ছাতার তলায় দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছেন মোদী। তাই জোট ভাঙতে এভাবে বিরোধীদের উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি। 


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

 

প্রসঙ্গত,এদিনও বিজেপির ‘মেরা বুথ সবসে মজবুত’ নামক একটি কর্মসূচিতে চেন্নাইয়ের কর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও সপা-বসপা জোট নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন তিনি। বললেন,বিরোধীরা জোট বেঁধেছেন শুধুমাত্র নিজেদের আলাদা সামাজ্র বানানোর অভিপ্রায়ে। কিন্তু বিজেপি সেভাবে চিন্তা করে না। বিজেপি কেবল মানুষের হিত আমজনতার শক্তিবৃদ্ধি করতে চায়। বিরোধীদের মতো বিভেদের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় গেরুয়াশিবির। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি নয়,শুধু উন্নয়নেই বিশ্বাস রাখে বিজেপি সরকার। এমনটাই দাবী করলেন মোদী।

তবে ২০১৪ এর মোদী ম্যাজিক যে এখন ফিকে হয়ে গিয়েছে সেটা মুখে না স্বীকার করলেও বুঝতে বাকি নেই প্রধানমন্ত্রীর। দেশে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া যে কতোটা উত্তাল তার জলন্ত প্রমাণ দিয়ে গেল সদ্য সমাপ্ত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিজেপির অপ্রত্যাশিত খারাপ ফলাফল। তাছাড়া আপনা দল,তেলেগু দশম পার্টি,অসম গন পরিষদের মতো শরিকদলগুলো যেভাবে তাঁদের বিজেপির বিদ্বেষী রূপ দফায় দফায় সামনে এনেছে তাতে মোদীর চাপে পড়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এমনকি যে সপা,বসপা ২০১৪ এর লোকসভা ভোটে মোদী ঝড়ে কোনঠাসা হয়ে গিয়েছিল,তারাও কালে কালে একজোট হয়ে শক্তি বৃদ্ধি করেছে। তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে গত বছর ফুলপুর এবং গোরক্ষপুর লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে। তাই এবারও সেই জোটের সমীকরণে বিশ্বাস রেখেই বিজেপিকে টেক্কা দিতে মরিয়া বুয়া-ভাতিজা।

২০১৯ এর লোকসভা ভোটের প্রেক্ষিত যে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মতো মসৃণ নয় সেটা বুঝেই বিরোধীদের মহাজোট নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর। আর তার প্রত্যক্ষ প্রমাণই দিয়ে গেল পর পর দুদিন মোদীর বিরোধীশিবিরের জোটবিরোধী মন্তব্যে,এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!