এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > অনির্দিষ্টকালের জন্য দল থেকেই সাসপেন্ড হলেন দাপুটে তৃণমূল নেতা! চাঞ্চল্য ঘাসফুল শিবিরে

অনির্দিষ্টকালের জন্য দল থেকেই সাসপেন্ড হলেন দাপুটে তৃণমূল নেতা! চাঞ্চল্য ঘাসফুল শিবিরে



সম্প্রতি তৃণমূলের ডাকাবুকো নেতার বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ উঠল বেধড়ক মারধর করার। এমনিতেই বিরোধীরা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করে থাকেন যে শাসকদলের নেতা-নেত্রীরা বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে থাকেন। এদিন বিরোধীদের অভিযোগ সত্য প্রমাণ করে তৃণমূলের ডাকাবুকো নেতা দিবাকর জানা কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক অফিসারকে বেধড়ক মারধর করলেন। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই দিবাকর জানাকে জেলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। তার সাথে এই ঘটনা ঘটানোর পেছনে কারণ দর্শানোর কথা বলা হয়েছে তাঁকে।

দিবাকর জানা রাজনীতির মঞ্চে অতি পরিচিত একটি নাম। তাঁর বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই অভিযোগ, কাটমানি থেকে বেআইনি জমি-বাড়ি বিতর্ক, রাস্তা তৈরির নামে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে দলের অন্দর থেকেই। এই নিয়ে তৃণমূল শিবিরেও চরম অস্বস্তি ছিল। সম্প্রতি পাঁশকুড়ায় নিহত তৃণমূল নেতা কুরবান শা’র স্মরণসভায় সে কথা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যখন দিবাকর জানা দলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারীর সঙ্গে করমর্দন করতে যান, তখন শিশির অধিকারী হাত সরিয়ে নেন। সেই ঘটনা সামনে আসার পরে রাজনৈতিক মহল থেকে বলা শুরু হয়, দিবাকর জানার ক্ষমতা খুব শীঘ্রই অপসারণ করা হবে।

এদিন শহীদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি দিবাকর জানা গাড়ি নিয়ে কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যখন বেরোতে যান, তখন তাঁর গাড়ি সার্চ করার জন্য এক নিরাপত্তারক্ষী গেটে তাঁর গাড়ি আটকায়। আর সেখান থেকেই বচসার শুরু হয়। সূত্রের খবর, ঠিক এই সময় দিবাকর জানা ফোন করে জনা পঞ্চাশেক লোক ডাকেন। কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গেটে তাঁরা এসে প্রায় দশজন নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে বলে খবর।

এই গন্ডগোলের খবর পেয়ে সেই সময় কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী আধিকারিক সিদ্ধার্থ ঘোষকে ঘটনা সামাল দিতে এলাকায় পাঠান। কিন্তু দিবাকর জানা ও তাঁর অনুগামীরা তাঁকে মারধর করে। মারের চোটে তিনি গুরুতর আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের থেকে। এদিন কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ মারফত জানা গিয়েছে, ঘটনার পর দিবাকর জানা এবং শান্তিপুর ১ পঞ্চায়েতের প্রধান সেলিম আলী সহ তিন জনের বিরুদ্ধে কোলাঘাট থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এই ঘটনা জেলা তৃণমূল দপ্তরে যাওয়ার সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় দিবাকর জানা ও সেলিম আলীকে সাসপেন্ড করা হবে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি জেলা সভাপতি দিব্যেন্দু রায় জানিয়েছেন, ‘‘সংগঠনের রাজ্য সভানেত্রী দোলা সেনের নির্দেশে দলের শ্রমিক সংগঠনের অনুমোদিত কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয়তাবাদী ঠিকা মজদুর ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি  দিবাকর জানা  ও সম্পাদক সেলিম আলিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওই সংগঠনের কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’’ এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী জানিয়েছেন,‘‘দিবাকর জানা অন্যায় করেছে, অপরাধ করেছে। ওকে এবং সেলিম আলিকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কেন সে এমন কাজ করল সাত দিনের মধ্যে দিবাকরতে তার কারণ জানাতে বলা হয়েছে। পুলিশকেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’’

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে সম্পূর্ণ ঘটনা অস্বীকার করে দিবাকর জানা জানিয়েছেন, ‘‘কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ঠিক শ্রমিক ইউনিয়নের মিটিং সেরে ফেরার সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী আমার গাড়ি পরীক্ষা করতে চান। সেই সময় সিদ্ধার্থ ঘোষ ও একজন সিকিউরিটি অফিসার এসে আমার জামার কলার ধরে টেনে নিয়ে যান। তখন একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায়। আমাদের এক শ্রমিককেও মারধর করা হয়। আমি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার ও ওই আধিকারিকের পদত্যাগ দাবি করছি। আমাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে আগামীকাল থেকে তার প্রতিবাদে নামব।’’ সূত্রের খবর, দিবাকর জানাও আধিকারিক সিদ্ধার্থ ঘোষ এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন।

দিবাকর জানার ঘটনাটি সামনে আসার সাথে সাথেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, দলের একজন নেতার বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মঞ্চে তৃণমূল যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে। এই ঘটনায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কখনো কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেনা। সবকিছুতেই তাঁরা নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম করতে চায়। এই ঘটনা তারই প্রমাণ। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিবাকর জানার মতো ব্যক্তিরা যদি তৃণমূলে থাকে, তাহলে অচিরেই তৃণমূলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। তাই দলীয় নেতৃত্বের উচিত এ ধরনের ব্যক্তিদের প্রতি কড়া নজর রাখার। আপাতত সম্পূর্ণ বিষয়টি এক্তিয়ার ভুক্ত হয়েছে প্রশাসনের।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!